উত্তরাঞ্চলে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণে ২৫০ লাইসেন্সধারী সিন্ডিকেট

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
উত্তরাঞ্চলে সোনালী আশ পাট কৃষকদের ঘরে উঠতে না উঠতেই ১৬ জেলায় পাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ২৫০ লাইসেন্সধারীর সিন্ডিকেট কোমর বেধে মাঠে নেমেছে। গতবারের টার্গেট ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষে বিভিন্ন হাট-বাজারে দালাল ফড়িয়াদের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটটি পাট মজুদ করা শুরু করেছে।অপরদিকে অধিকাংশ সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন বি,জে,এম,সি’র ক্রয় কেন্দ্র এস,এম, আর অর্থাৎ নিুমানের পাট ক্রয় করা যাবে না এই অজুহাতে সরাসরি কৃষকদের কাছে পাট ক্রয় করবেনা। ফলে পাট চাষীরা এবারও সরাসরি সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্রে পাট বিক্রী করতে পারছেনা। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হবে। গত দুই মৌসুম থেকে এ অঞ্চলের চাষিরা তুলনামূলক ভাবে পাটের মূল্য কিছুটা ভালো পাওয়ায় এবার তারা পাট চাষে বেশী আগ্রহি হয়ে উঠে। ফলে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি পাট আবাদ হয় এই অঞ্চলে।

গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার চাষিদের সাথে আলাপ করলে চাষি শাহআলম ও মজনু জানায় গত মৌসুমে তারা পাট ১২‘শ থেকে ১৫‘শ টাকা মণ বিক্রি করেছি দালল ও ফড়িয়াদের কাছে।কিন্ত সরকারী ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ওই পাটই দালাল ও ফড়িয়া ব্যাপারিরা বিক্রী করেছেন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চাষিরা অভিযোগ করেন সরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলো পাট বিক্রি করতে গেলে নিুমানের পাট বলে তাদের কাছ থেকে পাট ক্রয় করা হয় না আবার ফড়িয়ারা ওই পাটই তাদের কাছে বিক্রি করছে তাদের কাছে ক্রয় করলে সেগুলো নিুমানের হয়না। ফলে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

রংপুর ও রাজশাহী পাট অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাট ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ২৫০ ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই লাইসেন্সধারীরা শুধু সরকারি পাট কেন্দ্র পাট বিক্রি করবে। এই সুযোগটাই নিচ্ছে ২৫০ লাইসেন্সধারী সিন্ডিকেট। রংপুর ও রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে পাটের আবাদ হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৯ হেক্টর জমিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন পাট ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ২৫টির মতো।কিন্ত এখন পর্যন্ত তারা পাট ক্রয় করা শুরু করেনি।আমিন জুট মিল. ক্রিসেন্ট জুট মিল, পীরগছার চৌধুরানীর জুট মিল, ইউ,এম,বি সহ অন্যান্য জুট মিলগুলোতে পাট ক্রয়ের পুরো প্রস্ততি সম্পন্ন করে বলে সংশিষ্ট ক্রয় কেন্দ্রগুলো সূত্রে জানা গেছে। এসব ক্রয় কেন্দ্রে প্রতিটিতে পাট ক্রয়ের টার্গেট ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ মণ।

রংপুর পাট অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলে সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্র হাতে গোনা কয়েকটি। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্র খোলা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট সরাসরি ক্রয় কেন্দ্রেগুলোতে বিক্রি করে লাভবান হতে পারতো।





Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply