দাউদকান্দি মদিনাতুল উলূম ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ক্লাসের চেয়ে প্রাইভেটের গুরুত্ব বেশি

মুখতার হোসাইন, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) :
দাউদকান্দি মদিনাতুল উলূম ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার কিছু সংখ্যক শিক্ষকের কাছে সম্প্রতি পাঠদানের জন্য ক্লাসের চেয়ে কোচিং সেন্টার বেশ প্রিয় এবং উপযুক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। তাই তারা ক্লাসে দায়িত্ব পালন করেন দায়সারাভাবে। আর দায়িত্ববোধের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটান কোচিং সেন্টারে। বর্তমানে মাদ্রাসার পাঠদানগত পরিস্থিতি খুবই নাজুক। মাদ্রাসার ভেতর-বাহিরে প্রাইভেট-বাণিজ্যের জয়জয় ধ্বনি। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণীর অংক-ইংরেজি বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা প্রাইভেট পড়া ছাড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই মুশকিল। মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের শিক্ষক জনাব মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ এনে বলে, তিনি ক্লাস করতে এসেও প্রাইভেটের গুণগান ও মাহাত্ন বর্ণনা করেন। প্রাইভেট না পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। “যারা প্রাইভেট পড়ে না তারা কেবল ফেলের সংখ্যা-ই বাড়ায়।” প্রাইভেটের সাফাই করতে গিয়ে তিনি এমন ভাব দেখান, মনে হয় প্রাইভেট-ই যেন তার জপমালা। ওটা জপে-ই তিনি ক্লাসের সময় পার করেন। প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায় না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে উক্ত মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র বলে, ‘ আমরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়ি। প্রাইভেট না পড়লে অঙ্কে ফেল করি অঙ্ক স্যারের +,- খেলায়। ইরেজিতে ফেল করি বিজ্ঞ ইংরেজি স্যার অণুবিক্ষণ যন্ত্র দিয়ে উত্তরপত্রে আমাদের ভুল খুঁজেন তাই। আর অন্যসব বিষয়ে ভালো করলেও প্রাইভেট পাগল শিক্ষকদের বিষয়ে প্রাইভেট পড়–য়াদের তুলনায় মার্ক পাই কম ।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র এই প্রতিবেদককে জানায়, ইংরেজি স্যারদের তুলনায় অঙ্ক স্যারেরা আমাদের উপর অনেক বেশি জুলুম করে। বর্তমানে মাদ্রাসার অঙ্ক-স্যার হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দীন পাঠান সম্পর্কে এই ছাত্রের মন্তব্য ‘ স্যার প্রাইভেটে অঙ্ক খুব ভালো বুঝান, তবে তিনি পরীক্ষার হলে আমাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন। কখনও ভয়ও দেখান। এতে আমরা প্রাইভেট পড়তে আগ্রহী হই। সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে মূলত দোষ আমাদেরই । আমরা লোভে প্রলুব্ধ হই। তাই আমরা স্যারকে দোষতে পারি না। এ জন্য কাউকে দোষতে হলে আমাদের নিজেদেরকেই আগে দোষতে হবে।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯-১০ সালের এবং এরও আগের দাখিল পরীক্ষার্থীরা টেস্টে উত্তীর্ণ হলে পরীক্ষাপূর্ব তিন মাস বাধ্যতামূলক প্রাইভেট পড়তে হত। তাই এ তিন মাস কেউ প্রাইভেট না পড়লেও প্রাইভেট ফি শোধ করতে বাধ্য থাকত। ২০১১ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীরা ১০ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে-ই দীর্ঘ এক বছর মেয়াদী প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হয়। এ ধারা এখনও অব্যাহত থাকায় ১০ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসের প্রতি মনোযোগ কমে আসে। কোচিং সেন্টার থেকেই তারা বাসামুখি হয়। ক্লাসে উপস্থিতির হার ক্রমে হ্রাস পায়। ফলে কোচিং সেন্টার জমে উঠে জমজমাট।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অঙ্কশিক্ষক জনাব আলাউদ্দিন পাঠানের সাথে মোবাইলে আলাপ করলে তিনি বলেন,‘ এটা একটা ভুয়া কথা। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার-হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে। আমার একার পক্ষে কি সম্ভব ? সবাইকে পাশ করিয়ে দেওয়া’। আরবি প্রভাষক জনাব মুজিবুর রহমানকে তার ব্যাপারে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে মোবাইলে জিজ্ঞেস করলে এ ব্যাপারে সাক্ষাতে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি বলেন ‘ প্রশ্ন-ই উঠে না।’ এ বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মোবাইল বন্ধ করে দেন।

উপর্যুক্ত শিক্ষাদুর্নীতির ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম এর সাথে মোবাইলে আলাপ কালে তিনি জানান ‘ না, এই ব্যাপারে তো আমি কিছু জানি না। তা ছাড়া কেউ তো আমার নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করে নাই।’





Check Also

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জুয়া খেলার মহোৎসব॥ ৪ জোয়ারি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি :– সম্প্রতি সময়ে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জুয়া খেলার মহোৎসব চলছে। বৃহস্প্রতিবার সকালে ৪ জুয়ারিকে ...

Leave a Reply