নাঙ্গলকোটের প্রেমিক যুগলকে লাকসামে মাথা ন্যাড়া এবং গলায় জুতার মালা পরিধান ,এলাকায় চাঞ্চল্য

জামাল উদ্দিন স্বপন:
নাঙ্গলকোটের প্রেমিক যুগল দীর্ঘদিনের প্রেমের পরিণতিতে বিয়ে করতে লাকসাম যাওয়ার খেসারত হিসেবে সারারাত গাছের সাথে বেঁধে মারধরের পর গ্রাম্য সালিশদারদের বৈঠকের নির্মমতায় তাদেরকে জুতার মালা পরিধান এবং মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায়, নাঙ্গলকোট এবং লাকসামের এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকা শাহিদা হচ্ছে সাবেক নাঙ্গলকোট ইউনিয়নের মহিলা চৌকিদার। ঘটনাটি ঘটেছে, লাকসামের আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামের দরগার পার্শ্বে আবদুল খালেকের বাড়িতে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলার ভুলুয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা ১ সন্তানের জননী সাবেক নাঙ্গলকোটের গ্রাম্য মহিলা চৌকিদার শাহিদার সাথে ঢালুয়া ইউনিয়নের পদুয়া গ্রামের ড্রাইভার নুরু মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের প্রেমের পরিণতিতে বিয়ে দেয়ার জন্য মক্রবপুর ইউনিয়নের টুয়া গ্রামের আনসার ভিডিপি কমান্ডার ফজলুল হক এবং বাতোড়া গ্রামের চৌকিদার মমতাজ মিয়া তাদেরকে গত শনিবার রাতে পাশ্ববর্তী লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামের আবদুল খালেকের বাড়িতে নিয়ে যান। বিয়ে দেয়ার এক পর্যায়ে কাবিন নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে প্রেমিক নুরু মিয়া বিয়ে করতে অপরাগতা জানান। এসময় এলাকাবাসী প্রেমিক এবং প্রেমিকা উভয়কে আটক করেন। পরবর্তীতে এলকাবাসী আমদুয়ার আসার অপরাধে প্রেমিক নুর মিয়া, প্রেমিকা শাহিদা এবং আনসার ভিডিপি কমান্ডার ফজলুকে মারধর করে সারারাত গাছের সাথে বেঁধে রাখেন। এলাকাবাসী রবিবার সকালে আমদুয়ার গ্রামে সালিশ বৈঠকে বসেন। কয়েকশ লোকের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের নেতৃত্ব দেন, লাকসামের আজগরা ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত মেম্বার বেলায়েত, মক্রবপুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত মেম্বার, টুয়া গ্রামের খুরশিদ, টুয়া- হাফানিয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমান।

সালিশ বৈঠকের রায় অনুযায়ী, প্রেমিক যুগল এখানে বিয়ে করতে আসার শাস্তি হিসেবে তারা একে অপরের গলায় জুতা মালা পরিয়ে সালিশ বৈঠক প্রদক্ষিণ করেন। এছাড়া সালিশ বৈঠকের অপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজগরা ইউনিয়নের চৌকিদার কামাল প্রেমিক যুগলের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন। এদিকে, বিয়ের মধ্যস্থতাকারী ফজলু প্রেমিক নুরু মিয়া থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে নেন। বিচারের রায় অনুযায়ী ফজলু নুরু মিয়ার ৫ হাজার টাকা প্রদান এবং তাদেরকে এখানে নিয়ে আসার শাস্তি হিসেবে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে, এ ঘটনায় চৌকিদার শাহিদা এক ঘরে হয়ে পড়েন। লোক লজ্জ্বার ভয়ে সে বাড়ি হতে বের হতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত খোরশেদ মেম্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সবার উপস্থিতিতে বিচারের রায় অনুযায়ী তাদেরকে জুতা মালা পরিধান এবং মাথা ন্যাড়া করা হয়। কুমিল্লা জেলা গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সাবেক নাঙ্গলকোট ইউনিয়নের দফাদার আবুল কাশেম এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply