চাতাল শ্রমিকদের মিছিলে উত্তাল আশুগঞ্জ : ৬ দফা দাবিতে ২০ হাজার চাতাল শ্রমিকের কর্মবিরতি পালন

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-
শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও মুজুরী বৃদ্বি সহ ৬ দফা দাবীতে বুধবার সকাল থেকে দিনব্যাপী মিছিল মিটিঙ্গে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর। উপজেলা বয়লার রাইসমিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে কর্মবিরতি পালন করছে ৩ শতাধিক চাতালকলের প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।ফলে বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার ৩ শতাধিক চাতালকল।তবে কিছু সংখ্যক চাতালকল চালু থাকতেও দেখা গেছে।এতে করে স্থানীয় বাজার সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চালের সরবরাহ কমে মূল্য বৃদ্বির আশংকা করছেন সংশিষ্টরা। কর্মবিরতি নিয়ে চাতালকলের মালিকরা রয়েছেন শক্ত অবস্থানে।

জানাযায় শ্রম আইন বাস্তবায়ন, মুজুরী বৃদ্ধি,শ্রমিকদের নিয়োগ ও পরিচয় পত্র প্রদান, চিকিৎসা সেবা, মাতৃত্বকালিন ভাতাসহ ৬ দফা দাবিতে চাতাল শ্রমিকরা বুধবার সকাল থেকে এই কর্মসুচী পালন করছে।উপজেলার বিভিন্ন চাতাল থেকে শ্রমিকরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সরকারি শ্রম কল্যাণ মাঠে সমাবেত হয়।বিশাল এক শ্রমিক সমাবেশে তাদের ন্যায্য আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।সমাবেশে বক্ত্যরা যে কোন হুমকি উপেক্ষা করে তাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন।পরে শ্রমিকদের একটি বিশাল মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করেন এবং উপজেলা বয়লার রাইসমিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত নিস্পতির আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে বয়লার রাইসমিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের অবিরাম কর্মবিরতি চলবে। তিনি বলেন,একটি চাতালকলে ৬‘শ মন ধান চালে রুপান্তরিত করার পর শ্রমিকদেরকে মাত্র ৭৮কেজি চাল ও প্রতিমন ধানে ৫টাকা হারে মুজুরি দেয়া হয়।একটি চাতালকলে ৫০/৬০জন শ্রমিক কাজ করে।তাদের দৈনিক হাজিরা পায় মাত্র৩০/৪০টাকা।যা বর্তমান বাজার দরে পরিবার নিয়ে কোন ভাবে বেচে থাকাই দুরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। মালিকদের কাছে বার বার আমাদের দাবির ব্যাপারে বললেও তারা কর্ণপাত করছেনা। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়েছি। চাতালকল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন বলেন,একটি কুচক্রি মহল চাতাল শ্রমিকদেরকে উস্কানি দিয়ে কিছু সংখ্যক শ্রমিককে কর্মবিরতি পালন করানোর চেষ্টা করছে।তবে অধিকাংশ শ্রমিকরাই কাজে যোগ দেয়ায় চাতালকল গুলো সচল রয়েছে।তিনি আরো বলেন, শ্রমিক সর্দারকে আমরা লাখ লাখ টাকা দাদন দেই। শ্রমিকরা আমাদের টাকা ফেরত দিয়ে আন্দোলনে যাক।আশুগঞ্জ সরকারী শ্রম কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবদুলাহ আল মাহমুদ নজরুল বলেন, বিষয়টি চট্রগ্রাম শ্রম অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।বিষয়টি নিস্পত্তি করার জন্য চট্রগ্রাম বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দু’পক্ষকে তার কার্যালয়ে ডেকেছেন।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply