তিতাসে এক যুবককে জবাই করে হত্যা ॥ গ্রেফতার ৯

রাইস মেইল ও ডিস অফিসে হামলায় শ্রমিকের নাক কাঁটা
নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :

তিতাসের গোপালপুর গ্রামের প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত মোঃ হেলাল।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ইউপি নির্বাচনের জের হিসেবে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের রাইস মেইল ও ডিস অফিসে হামলা চালিয়ে শ্রমিক গোপালপুর গ্রামের আঃ কাসেমের পুত্র বিল্লাল হোসেন (১৮) এর নাক কাঁটা এবং একই গ্রামের মোঃ মালেক মিয়ার পুত্র মোঃ হেলাল (২৮) কে জবাই ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিতাস থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত্রে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের গোপালপুর বাজার সংলগ্ন ব্রীজে বসে রাত সাড়ে ১০টায় গোপালপুর গ্রামের ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আবুল খায়েরের সমর্থক মোঃ মালেক মিয়ার পুত্র মোঃ হেলাল, সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র মোঃ সবুজ ও মমতাজ উদ্দিনের পুত্র সাজ্জাদ হোসেন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একই গ্রামের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন আখন্দসহ তার সমর্থকরা প্রথমে গালাগালি করে তিনজনের উপর আক্রমণ চালায় এতে মোঃ সবুজ ও মোঃ সাজ্জাদ হোসেন আহত অবস্থায় পালিয়ে যায় (বর্তমানে চিকিৎসাধীন) এবং পরে তিতাস থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গোপালপুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পশ্চিম পাশ থেকে মোঃ হেলালের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। লাশের গলায় জবাই করা এবং মাথায় একাধিক কো-পের চিহ্ন রয়েছে। উক্ত ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক গোপালপুর গ্রামের রবিউল্লাহ পুত্র জাহাঙ্গীর (২২), নুরুল হকের পুত্র আলমগীর হোসেন (৩৫), আলমগীরের পুত্র শহীদ (২৭), আমির হোসেনের পুত্র হৃদয় (১৭), দানু মিয়ার পুত্র কবির হোসেন (২৩), মৃত আহম্মদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ হোসেন (৪৫), আহম্মদ আলীর পুত্র ইয়ার খান (৩০), রকনুজ্জামান কাঞ্চনের পুত্র প্রদীপ (২২), মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র জব্বর (৪০) কে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে মৃত্যের পিতা মোঃ মালেক মিয়া বাদী হয়ে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দাখিল করেছে। মামলা নং-০৯, তারিখ ঃ ১৯ জুলাই ২০১১ইং। এ ব্যাপারে জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন আখন্দের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আবুল খায়ের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় এবং আমাকে ভালোভাবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়ে সোমবার রাতে পরিকল্পিতভাবে গোপালপুর বাজারে অবস্থিত রাইস মেইল ও ডিস অফিসে হামলা চালিয়ে একই গ্রামের আঃ কাসেমের পুত্র শ্রমিক বিল্লাল হোসেনের নাক কেঁটে ফেলে এবং রশিদ মিয়ার পুত্র মহসিন (১৯) কে গুরুতর আহত করে। বিল্লাল হোসেনকে মারাত্মক অবস্থায় দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থেকে কুমিল্লা কলেজ মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। আমার সমর্থক গোপালপুর বাজারের টেইলারিং ও কসমেটিক ব্যবসায়ী দানু মিয়ার পুত্র মোস্তফা মিয়ার দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, উক্ত ঘটনা সম্পর্কে আমি তাৎক্ষণিক তিতাস থানা পুলিশকে অবহিত করি। ইউপি নির্বাচনের পূর্বে গত ২০ জুন একইভাবে আবুল খায়েরের লোকজন আমার ৮-১০জন লোককে গুরুতর আহত করে যারা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি জানান, আমি যাতে জনগণের খেদমত করতে না পারি, এলাকায় যাতে থাকতে না পারি তার জন্য আবুল খায়েরই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমাকেসহ আমার লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ১ প্লাটুন পুলিশ মোতায়ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ টুটুল আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Check Also

তিতাসে মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নাজমুল করিম ফারুক :— কুমিল্লার তিতাসে মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠান গত শনিবার ...

Leave a Reply