নাঙ্গলকোটে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নূরা আটক

বিশেষ প্রতিনিধি:
কুমিলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ২নং পেড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল কাশেম রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ার সন্দেহ ভাজন শাহজাহান বাবলুর সহযোগি নূরুল ইসলাম নূরাকে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ আটক করেছে। গতকাল ১৮ জুলাই সোমবার দুপুরে পেড়িয়া ইউনিয়নের কৈয়া গ্রাম থেকে সন্দেহ ভাজন নূরুল ইসলাম নূরুকে পুলিশ আটক করে। পরে বিকেলে অজ্ঞাত কারণে আটক নূরুল ইসলাম নূরুকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এদিকে ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ আবুল কাশেমকে উদ্ধার বা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। গত ১৭ জুন রাতে মোঃ আবুল কাশেমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে পরদিন ১৮ জুন মোঃ শাহজাহান বাবলু নাঙ্গলকোট থানায় কাউকে আসামী না করে সাধারন ডায়েরী করেন। ১৯ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাংবাদিক সহিদ উলাহ মিয়াজী বিজয়ী হলে পরদিন ২০ জুন তাকেসহ বিএনপি-জামায়াতের ৭ জনকে সন্দেহ ভাজন অভিযুক্ত করে মোঃ আবুল কাশেমের ছেলে মহিন উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।

জানাযায়, ১৯ জুন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নাঙ্গলকোটের ২নং পেড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা যথারীতি ভোটারদের দারে দারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে থাকেন। ১৮ জুন সকাল ১০টা পর্যন্ত এই ইউনিয়নের কোথাও হানাহানী বা ধ্বংসাত্মক কোন ঘটনা ঘটেনি। ওই ইউনিয়ন পরিষদের কোন চেয়ারম্যান প্রার্থী কেহ কারো বিরুদ্ধে থানায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা রির্টানিং অফিসারের কাছে কোন রকম লিখিত বা মৌখিক অভিযোগও দেননি। হাঠৎ করে নির্বাচনের আগের দিন ১৮ জুন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল কাশেমের ভাই মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু নাঙ্গলকোট থানায় গিয়ে তার ভাই নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে রহস্যজনক ভাবে কাউকে আসামী না করে একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এদিকে মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু তার ভাইকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে কুমিলা জেলা প্রশাসকের অফিসে এবং জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য প্রাণপন চেষ্টা চালান। ঘটনাটি এলাকার মানুষ জেনে তাদের সন্দেহ ভাই উদ্ধারের তৎপর না হয়ে মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু নির্বাচন স্থগিতের কেন চেষ্টা চালালো। এতে ঘটনাটি রহস্যজনক হয়ে পড়ে। এদিকে ১৯ জুন নির্বাচনে সাংবাদিক মোঃ সহিদ উলাহ মিয়াজী বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর ২০ জুন মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলুর পরিবর্তে তার ভাতিজা রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ আবুল কাশেমের ছেলে মহিন উদ্দিনকে বাদী করে নাঙ্গলকোট থানায় সন্দেহ ভাজন অভিযুক্ত করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী সাংবাদিক সহিদ উলাহ মিয়াজী ছাড়াও তার নির্বাচনী কর্মী মোঃ কেফায়েত উলাহ (২৬), কাজী মৌলভী তাজুল ইসলাম (৪৮), হাজী মফিজুর রহমান মেম্বার (৬২), নূরুলাহ মিয়াজী (৪৫), আবু সায়েম আজাদ (৩৪) এবং জিয়াউল হক জিয়াকে (৪৫) সন্দেহ ভাজন অভিযুক্ত করা হয়। সন্দেহ ভাজন অভিযুক্তরা ২৮ জুন হাই কোটের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের কাছে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদেরকে অর্ন্তবর্তী কালীন জামিন দেন। এদিকে মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলুর সাধারন ডায়েরী এবং আবুল কাশেমের ছেলে মহিন উদ্দিনের দায়েরকৃত মামলায় দুই ধরণের বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। ফলে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। মামলায় আবুল কাশেম রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিতে অভিযুক্তদেরকে সন্দেহ ভাজন আসামী করা হলেও মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু সহিদ উলাহ মিয়াজীর ফাঁসি দাবী করে এলাকায় বিপুল সংখ্যক চার কালারের পোষ্টার লাগিয়েছেন। পোষ্টারে লিখেছেন “চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কাশেমের অপহরণকারী সহিদ উলাহ মিয়াজীর ফাঁসি চাই”। বিভিন্ন সময়ে বাসার গৃহ পরিচালিকা হারানো বা নিখোঁজ হলে গৃহকর্তা পত্রিকায় ছবিসহ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকেন। কিন্তু চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কাশেম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে অদ্যবদি তার সন্ধান চেয়ে মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু পত্রিকায় কোন রকম বিজ্ঞপ্তি বা বিজ্ঞাপন দেননি। এসব ঘটনায় পেড়িয়া ইউনিয়ন সচেতন মহল মনে করছে শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু নির্বাচিত চেয়ারম্যান সহিদ উলাহ মিয়াজীকে হয়রানি করতে নানা ঘটনা সাজাচ্ছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি নেতা আবু সায়েম আজাদ এই প্রতিবেদকে জানিয়েছেন মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু এবং তার সহযোগি দৌলতপুর গ্রামের সফিকুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান, কৈয়া গ্রামের মরহুম মাষ্টার আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল ওহাব ওরফে আবু, খোসারপাড় গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে রবিউল হক ওরফে রুবেল, আসারকোঠার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে আবদুস সালাম ওরফে আবুল এবং একই গ্রামের মৃত রঙ্গু মিয়ার ছেলে আবুল হাশেমকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। তিনি অবিলম্বে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেমকে উদ্ধার এবং মাফিয়া ডন মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলুকে গ্রেফতারের দাবী জানান।

এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ার একমাস অতিবাহিত হলেও তাকে আইন শৃংখলা বাহিনী উদ্ধার করতে পারেনি। ১৭ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ আইনের আওতায় এনে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। ১৮ জুলাই সোমবার মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলুর সহযোগি শ্রীফলিয়া গ্রামের নূরুল ইসলাম ওরফে নূরুকে আটক করলেও থানায় নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। চেয়ারম্যান প্রার্থী রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ আবুল কাশেমের বাড়ীর দারোয়ান, গৃহ পরিচালিকা এবং সন্দেহ ভাজন মোঃ শাহজাহান ওরফে প্রতারক বাবলু ও তার সহযোগি মিজান, রুবেল, আবু, আবুল, আবুল হাশেম, সাংবাদিক রিয়াজ সহ কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। ফলে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেমকে উদ্ধারের কাজ জিমিয়ে পড়েছে। এব্যাপারে কুমিলার পুলিশ সুপার মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেমের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন ক্লু এখনো আমরা পাইনি। এব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি অনুসন্ধান করে প্রকৃত রহস্য বের করতে আমরা তৎপর আছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রদীপ সাহাজি জানান, মোঃ শাহজাহান বাবলু ও তার একান্ত লোকজনকে ঘটনাটি নিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, খুব সহসাই প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

Check Also

নাঙ্গলকোটে সম্মেলন ঘিরে বিভক্ত ছাত্রলীগ; বিক্ষোভ ভাংচুর, স্মারকলিপি প্রদান

  বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর :– কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলনকে ঘিরে দু’গ্রুপে ...

Leave a Reply