সরাইলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প:এমপি- চেয়ারম্যানের পছন্দের লোকদের মিলছে গাভী অন্যদের মুরগি, ঢেউটিন, গাছের চারা

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মহোৎসব চলছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত ও অস্বচ্ছল দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের স্বাবলম্বী করা। কিন্তু সরাইলে ঘটছে এর ব্যতিক্রম। অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা ভাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এমপি জাপা’র কেন্দ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও সরাইল আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুরের পছন্দের সুফলভোগীরা পাচ্ছেন প্রকল্পের মোটা অঙ্কের বরাদ্দের গাভী। আর অন্যান্যদের ভাগ্যে জুটছে মুরগি, ঢেউটিন, গাছের চারা ও শাক-সবজির বীজ। প্রকল্পে এ রকম স্বজনপ্রীতিতে বঞ্চিতদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ। গত সপ্তাহে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুল হালিম প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে স্থানীয় বিআরডিবি’র কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

জানা যায়, সরাইল উপজেলার মাত্র ৪টি ইউনিয়নকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। সরাইল সদর, পানিশ্বর, নোয়াগাঁও ও কালীকচ্ছ ইউনিয়নের মোট ২০টি গ্রামে প্রকল্প কাজ চলছে। প্রতি গ্রামে সুফলভোগী ১২০ জন। উপজেলা বিআরডিবি অফিস সূত্র জানায়, প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রকল্পে মোট ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। বরাদ্দকৃত টাকায় বিভিন্ন গ্রামের সুফলভোগী ১শ’ জনকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের জনপ্রতি ১টি করে গাভী, ৩০ জনের প্রত্যেককে ১৮ কেজি করে দেশীয় মুরগি, ৩৪ জনকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা মূল্যের ঢেউটিন, ৯০ জনকে ১ হাজার টাকার করে গাছের চারা ও ১২০ জনকে ১ হাজার টাকার করে শাকসবজির বীজ বিতরণ করা হয়। গ্রামবাসী জানায়, ২০ গ্রামে সুফলভোগী বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তির ধারণা ছিল প্রকল্প থেকে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। এ ঋণের টাকা কোনো প্রকার সুদ ছাড়াই দীর্ঘ মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করবে- এমনটি ভেবে তারা অনেক দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করিয়েছেন। কিন্তু বড় অঙ্কের সুবিধা না থাকায় বর্তমানে অনেকে প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সুফলভোগী তালিকা প্রাথমিক অনুমোদনে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের স্বাক্ষর থাকলেও মূলত তাদের কোনো মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মতামতে তালিকা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীকচ্ছ গ্রামে সুফলভোগীর তালিকায় ধনাঢ্য ব্যক্তি পরিমল দাস ও শ্যামল দেবের নাম রয়েছে। তারা দু’জনে গ্রামের সুফলভোগী সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারি। শ্যামল দেব একজন মৎস্যচাষী। তিনি এলাকার ক’টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। তার বছরে আয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। আর পরিমল দাস কালীকচ্ছ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক। তিনি কালীকচ্ছ ৬০ নং মৌজা অবস্থিত বিল মুরুল গজারিয়া কুড়ি জলমহালটি (১৪১৬-১৪১৯ বঙ্গাব্দ) ৩ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। জলমহাল ইজারা সহ পুকুর চাষ করে তিনি বছরে আয় করেন পাঁচ লাখ টাকা। স্থানীয় এমপি’র ঘনিষ্ট লোক। তাই গত সপ্তাহে পরিমল দাস প্রকল্পের গাভী পেয়েছেন। আর শ্যামল দেব প্রথমেই ঢেউটিন পায়। এছাড়াও এই প্রকল্পে বিভিন্ন গ্রামে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে। উপজেলা বিআরডিবি’র কর্মকর্তা মাঞ্জুমা আক্তার বলেন, প্রকল্পে অনিয়ম হচ্ছে বিষয়টি সঠিক নয়। আ’লীগের কিছু নেতা বিষয়টি নিয়ে বেশী মাথা ঘামাচ্ছেন। মাঞ্জুমা আক্তার আরো বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য তিনি জাতীয় পার্টির একজন কেন্দ্রিয় নেতা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান তিনিও সরাইল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। উনারা উপজেলার সর্বসবা। তাছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে দু’জনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এরমধ্যে মহাজোটের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা নাখোশ কেন ? তা ভেবে পাচ্ছি না। প্রকল্পে সুফলভোগীরা কে কি পাবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান স্যার কমিটি নিয়ে আলোচনা করে তালিকা প্রেরণ করেন। উনাদের তালিকা আমরা অনুসরণ করেই গাভী, ঢেউটিন ও মুরগি বিতরন করছি। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই ? শুধুই পুতুল। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের কাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে কোনো অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির সুয়োগ নেই। অনেকে না বুঝেই অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মুঠো ফোনো একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply