সরাইল নাসিরনগর মহাসড়কে ঘন ঘন ডাকাতি

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-:
ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সদর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার উত্তরে পল্লীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত নাসিরনগর উপজেলা। এর আয়তন প্রায় ৩১১ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি। আয়তনের তুলনায় ছোট হলেও অধিক জনসংখ্যার উপজেলা নাসিরনগর। উপজেলা থেকে জেলা শহর ও রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের একটি মাত্র রাস্তা সরাইল নাসিরনগর মহাসড়ক। পূর্বে রাস্তাটি ছিল ভাঙ্গাচুরা। একবার নাসিরনগর থেকে জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে চাইলে আগের দিনই প্রস্তুতি নিতে হতো। কুন্ডা থেকে ধরন্তী পর্যন্ত যেতে হতো নৌকা বা ট্রলারে। কিন্তু আজ আর তা করতে হয়নি। নাসিরনগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আকাংখার প্রতিফলন ঘটিয়ে উক্ত রাস্তাটি আজ পাকায় রুপান্তরিত হয়েছে। সি এন জি ও টেম্পু যোগে জেলা শহরে পৌছতে সময় লাগে মাত্র ৪৫ মিনিট। কিন্তু নাসিরনগরবাসীর ভাগ্যে বাদসাধে চুর ডাকাতরা। বর্তমানে উক্ত রাস্তাটি চুর ডাকাতের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গত এক বৎসরে উক্ত রাস্তায় দাঁতমন্ডল, তুল্লাপাড়া, কুইট্টা, ধরন্তী নামক স্থানে ভোরে ও সন্ধ্যার পরে প্রায় দুই শতাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। উক্ত ডাকাতির ঘটনাগুলো বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হলেও আশানরুপ ফলাফল নেই। উক্ত ডাকাতির ঘটনাগুলো একদিনের নয়। স্বয়ং পুলিশের উপস্থিতিতে উক্ত রাস্তায় ডাকাতি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় সরাইল ও নাসিরনগরে একাধিক বার আলোচনা হয়েছে। সরাইল থানার ওসি স্বয়ং এক বক্তব্যে সাংবাদিক সহ সকলকেই বিব্রত করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। রোধ হয়নি সরাইল নাসিরনগর রাস্তায় চুরি ডাকাতি। উক্ত রাস্তায় সংঘবদ্ধ ও মুখোশধারী ডাকাত দলের হামলায় অর্ধ শতাধিক ব্যাক্তি আহত ও হয়েছেন। তাছাড়াও কয়েক হাজার যাত্রীকে জিম্মি করে প্রায় কয়েক কোটি নগদ টাকা, বিভিন্ন মালামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। নাসিরনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ জামিল আহম্মেদ সহ পুলিশরা ও ডাকাতির ঘটনায় পরেছে বলে জানা যায়। হাওড় বেষ্টিত এলাকা বলে সরাইল ও নাসিরনগর থানার পুলিশ প্রতিনিয়ত সন্ধ্যার পরে উক্ত রাস্তায় পাহাড়া দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নাসিরনগরের পুলিশ তাদের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত থাকে আর সরাইল থানার পুলিশ থাকে দূরে।

মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় ডাকাতি করে র্নিবিগ্নে বীরদর্পে চলে যায় ডাকাতরা। এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ওসি গোলাম ফারুখ তার বক্তব্যে বলেন, আমার এলাকায় ডাকাতি হয়না। শুধু সরাইল এলাকায় ডাকাতি হয়। কিন্তু আমার এলাকার লোকজন ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি আমাদের আইন শৃংখলা সভায় কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে। ডাকাতির ঘটনা নিয়ে সরাইল থানা পুলিশের মাঝে রয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। তাদের দাবী মিডিয়াতে যেভাবে ফলাও করে ডাকাতির ঘটনা চাপা হচ্ছে তার বর্তমান অবস্থা এ রকম নয়। তবে যতটুকু হচ্ছে তা আমাদের গাড়ি ও ফোর্সের অপ্রতুলতার কারণে। জনবল বৃদ্ধি হলে তা ঠিক হয়ে যাবে বলে সরাইল থানার ওসি জানায়। ডাকাতির কবল থেকে উদ্ধার হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের জানান, সরাইল রাস্তার ডাকাতির ঘটনা, সরাইল থানা পুলিশের হাত থাকতে পারে। তারা জানান কিছুদিন আগে কুইট্টায় ডাকাতির সময়ে সরাইল থানার পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের কোনরুপ ভূমিকা ছিল না। বরং ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর সরাইল থানার পুলিশ এসে রাস্তায় বেরিকেট দেওয়া ব্লকগুলোকে সরাতে বলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তিদের। উক্ত রাস্তাটি দিয়ে শুধু নাসিরনগরবাসী নয়। প্রতিবেশী সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজনও প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে রাজধানী ঢাকায়। কিন্তু উক্ত রাস্তায় যাতায়াতের যাত্রীরা ডাকাতের কারণে ভীত সশস্ত্র ও জিম্মি হয়ে পরেছে।

উক্ত রাস্তায় ডাকাতি বন্ধে চলাচলকারী যাত্রীরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আইন শৃংখলা প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধান সহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী, মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করছে। যদি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে যেকোনো সময়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে উক্ত রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply