লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ৪ প্রতারক গ্রেফতার :৬০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-

সরকার নতুন একটি কর্মসূচী চালু করেছে পাঁচ হাজার পঞ্চাশ টাকা জমা দিলেই প্রতি মাসে ৫ থেকে ৯ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। আরো পাবেন মূল্যবান সামগ্রী। গ্রাহক যত বাড়াবেন, ভাতা তত বেশী পাবেন। আপনাদের পরিবার চালানোর দায়িত্ব আমাদের- এমন প্রলোভন দেখিয়ে ১২ শত ৬২ জন দুঃস্থ নারীদের কাছ থেকে ৬০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ চার প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উচালিয়াপাড়া মোড়ে মা শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত লাইফ ওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে শনিবার দুপুরে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ওই প্রতিষ্ঠানের কথিত শাখা ব্যাবস্থাপক মো. সাইদুল ইসলাম (৪৮), সিনিয়র টিম লিডার মো. নান্নু মিয়া (৫০), টিম লিডার মো. রফিক মিয়া ও মো. লিটন মিয়া। তাদের মধ্যে মো. রফিক মিয়ার বাড়ি ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের মেড্ডা এলাকায়। বাকি তিন জনের বাড়ি সরাইল উপজেলার সদরের উচালিয়া পাড়া গ্রামে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছরের ফেব্র“য়ারী মাস থেকে ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে লোভনীয় প্রলোভন দিয়ে গোপনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রচারনা চালায় যে, জনপ্রতি ৫ হাজার ৫০ টাকা জমা দিলে প্রথম মাসে ১ হাজার ৬ শত টাকা এবং পরবর্তী মাস থেকে প্রত্যেক সদস্যকে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হবে । ইতি মধ্যে তাদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২শত ৬২ জন। তাদের সবাই এলাকার দুঃস্থ নারী। এসব নারীরা লাভের আসায় চড়া সুদে টাকা এনে ওই প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রাপ্তি রশিদ ছাড়াই জমা দেন। এক সপ্তাহ পর পণ্য সামগ্রী দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস ঘুরেও তারা কোনো পণ্য পাননি। ভাতাও পাচ্ছেন না। অফিসে ঘুরছেন। কর্তৃপক্ষ সান্তনা না দিয়ে উল্টো তাদেরকে মারধোর করার অভিযোগ করেছেন একাধিক নারী। এখন তারা কিছুই চান না। সুদের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জমাকৃত ৫ হাজার টাকা ফেরত চান।

গতকাল শনিবার উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের দুই শতাধিক দুঃস্থ নারী ওই কার্যালয়ে জড়ো হয়ে তাদের টাকা ফেরৎ চান। এ সময় টাকা না পেয়ে দুঃস্থ নারীরা কান্নাকাটি ও চেঁচামেছি করতে থাকলে আশ পাশের লোক জন জড়ো হতে থাকে। ভূক্তভোগীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক নারী টাকা ফেরতের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে থানা চত্বরে হাজির হয়।

এ ব্যাপারে কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের উজ্জল মিয়ার স্ত্রী প্রতারিত রুনা বেগম বাদী হয়ে ওই চার জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

চুন্টা গ্রামের বিধবা জানারা বেগম (৪০) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন “লাভের আসায় লগ্নির উপর (সুদ)৭ মাস আগে ৫হাজার ৫০ টেহা দিছি। আমার ঘরে ছয়ডা মেয়ে। টেহা দেওনের আগে সাইদুল স্যার বলছে ছয় মেয়ে ফালন কোনো সমস্যা অইব না। অহন ঘুরতে ঘুরতে আমার কাম শেষ।”

একই গ্রামের রাজবানু বেগম (৫৫) বলেন, ‘মাইনসের বাড়িতে কাজ কইরা জীবন চালাই , তিন মাস আগে লগ্নির উপর (সুদের) ৫ হাজার ৫০ টেহা আইন্না দিছি। সুদ আর আসল মিলাইয়া অহন ৭ হাজার অইছে। আমরা অহন টেহা চাই।’ এছাড়া কবিতা, নাছিমা, সুফিয়া ও আকলিমা সহ অনেক নারীর আর্তচিৎকারে প্রকম্পিত হচ্ছে পুরো অফিস।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, তাদের কাগজপত্র দেখেছি। তাদের কর্মকান্ড সম্পূর্ণ বেআইনী। তারা দুঃস্থ নারীদের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারনা করে আসছিল।

সরাইল থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন আসামীদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply