তিতাসে পাটের বাম্পার ফলন ॥ শ্রমিক সংকট

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

তিতাসে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে পাট কাটা ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১শ ৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়। এসব জমি থেকে কৃষকরা পাট কাটা শুরু করেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০ মন হারে পাট হচ্ছে। এ বছর তিতাসের সাতানী ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, জগতপুর ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর, বলরামপুর ইউনিয়নে ২৭ হেক্টর, কড়িকান্দি ইউনিয়নে ২৬ হেক্টর, কলাকান্দি ইউনিয়নে ৫ হেক্টর, ভিটিকান্দি ইউনিয়নে ১১ হেক্টর, নারান্দিয়া ইউনিয়নে ৫ হেক্টর, জিয়ারকান্দি ইউনিয়নে ৯ হেক্টর ও মজিদপুর ইউনিয়নে ২৪ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়। তবে উৎপাদন ভাল হওয়াতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিতাসের নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যাওয়ায় পাট কাটা শ্রমিক সংকটে পড়েছে কৃষকরা।

জগতপুর ও মজিদপুর ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, পাট কাটার জন্য একজন শ্রমিককে দিন প্রতি ৩-৪শ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচেছ না। ফলে শ্রমিক সংকটে পাট কাটা ব্যাহত। তারা আরো জানান, এ বছর পাট গাছ ৭-৯ ফুট লম্বা হয়েছে। আশা করছি ফলনও বেশ ভালো হবে। প্রতিবিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ হারে পাট হবে। কিন্তু লোক অভাবে পাট কাটা যাচ্ছে না। কিছু কিছু এলাকার কৃষক ইতিমধ্যে পাট কাটা শুরু করেছে, পাতা ছাড়ানোর পর জাক দিয়ে তারপর খড়ি থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর রোদ্রে শুকিয়ে বিক্রয় করা হবে। পাটের দাম ভালো পাবে বলে তারা আশাবাদি।

তিতাস উপজেলা কৃষি অফিসার ড. আঃ ছালাম জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার বেশি পাট উৎপাদন হবে। পাটের চেয়ে পাটখড়ির দাম বেশি এবং ধানের বন্ধু ফসল হিসেবে পাটের জমিতে ধান ভাল হয় বিধায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করে তুলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত বছর উপজেলায় ১শ ৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হলেও এবছর তা দাঁড়িয়েছে ১শ ৪৫ হেক্টরে। কৃষকদের সঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারলে আগামী বছর আরো ব্যাপক এলাকায় পাট চাষ হবে বলে তিনি আশা করেন।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply