সিটি মেয়র কে হচ্ছেন; দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ

কুমিল্লা, ১৪ জুলাই, ২০১১ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গঠন হওয়ার এখন রাজনৈতিক সচেতন মানুষের জল্পনা ও কল্পনা কে হচ্ছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। অদৌ নির্বাচন হবে কি হবে না তা নিয়েও যথেষ্ট উৎকন্ঠা রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে। তবে ধারনা করা হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থায় নির্বাচন ও নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে মতা হস্থান্তর পর্যন্ত একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সিটি প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। সম্প্রতি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেন জানান, সীমানা নির্ধারন চূড়ান্ত হলে ১৮০দিনের মধ্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেনের বক্তব্যের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে কে হচ্ছেন দলীয় প্রার্থী তা নিয়েও শুরু হয়েছে দৌড় ঝাপ। এদিকে নিজেদের প্রচারে এগিয়ে রাখতে তরুন ও উদীয়মান নেতারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ব্যানারে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করছেন। ইতিপূর্বে পৌরসভা নির্বাচনের ঘোষনা আসলে ল্য করা যায় তরুন অপোকৃত তরুন নেতারা বিভিন্ন পত্রিকায় শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বুকলেট, শুভেচ্ছা কার্ড, ফেষ্টুন, ইমেইল ও মোবাইলে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে নিজেদের আগ্রহের কথা জানান দেন।

গেজেট প্রকাশের পর থেকে কুমিল্লার দুই বড় দলের মধ্যে কে হচ্ছেন মেয়র প্রার্থী তা নিয়ে সরব রাজনৈতিক মাঠ। আওয়ামীলীগের একাধিক সিনিয়র নেতার সমন্বয়ে ঢাকায় একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে অনানুষ্ঠানিকভাবে। সেখানে উপস্থিতি ছিলেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৬সংসদ সদস্য। জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার আওয়ামী শিবিরে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসন ও স্থানীয় এমপির বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে নাখোশ অন্যান্য এমপিরা। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা ও সিটি মেয়র নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়েও আলোচনা হয় সেখানে। বিভিন্ন সূত্র থেকে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে- হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি, অধক্ষ্য আফজল খান এডভোকেট, আফতাবুল ইসলাম মঞ্জু, আলহাজ্ব ওমর ফারুক।

অপর বড় দল বিএনপির প্রার্থীর দৌড়যাপে কে এগিয়ে আছেন তা নিয়ে রয়েছে মুখরোচক আলোচনা। যদিও কুমিল্লা শহর নেতৃত্বে রয়েছেন হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন কিন্তু মেয়র পদে তার আগমনের খবর এখনো অনিশ্চিত। জেলা বিএনপির বিবদমান সংকট নিয়ে হতাশ দলীয় নেতাকর্মীরা। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে নিয়ে দলীয় এই সংকট উত্তরনের সুযোগ রয়েছে বেশ। মনিরুল হক সাক্কু, মনিরুল হক চৌধুরী ও হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের মাঝে দীর্ঘদিনের বৈরীতা নিরসন জরুরী এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যদি তা মেটানো সম্ভব না হয় তাহলে সংসদ নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষকরা। বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে মনিরুল হক চৌধুরী, হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, মনিরুল হক সাক্কু, আলহাজ্ব ফরিদ উদ্দিন।

এদিকে বড় দুই দলের পাশাপাশি জাতীয়পার্টি ও জামায়াতও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। জাতীয়পার্টি থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার আহমেদ সেলিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ.এন.এম শফিকুর রহমান, আনসার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে। জামায়াত তার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থীদের প্রচারনার সুযোগ না দিলেও তরুন নেতা জিএস সানাউলাহ মজুমদার ও সাবেক ছাত্রনেতা মোশাররফ হোসাইনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বরাবরের মতো জামায়াত হাইকমান্ড এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকারে নাম বললেও তৃণমূলের জামায়াত ও শিবিরের নেতা কর্মীদের মতে তিনি এলাকার জনগনের সাথে সম্পৃক্ত নন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেউ কেউ।




Check Also

কুসিক নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবি বিএনপির

সৌরভ মাহমুদ হারুন :– কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার ...

Leave a Reply