সরাইলে একটি বাড়ি একটি খামারপ্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সুফলভোগী বাছাই নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনেছেন আ’লীগ নেতারা। সোমবার দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের বাকি বেশকিছু সুফলভোগীদের মাঝে গরু, মুরগি ও গাছের চারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাপা’র কেন্দ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় আ’লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতাদের রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আ’লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হালিম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সুফলভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, অনেক দুস্থ অসহায় পরিবারকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের এ কর্মসূচিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। তিনি সরাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান। সোমবার প্রকল্প কার্যক্রম বন্ধ রাখতে আ’লীগের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিআরডিবি’র কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাজী মাহফুজ আলী জানান, আ’লীগের নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে কোনো পরামর্শ গ্রহণ করা হয় না। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে ব্যাপক স্বজনপ্রীতির করা হচ্ছে। তারা মনগড়াভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রকল্প কমিটির একাধিক ব্যক্তি জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কিছু নেতা প্রকল্পের মালামাল ক্রয়ের নগদ টাকা হাতে না পাওয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন। ওদিকে গত ৯ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় দলীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মূখে পড়েন সরাইল আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রফিক উদ্দিন ঠাকুরের কাছে তালিকায় নিজ দলের লোকদের বাদ দিয়ে অন্য দলের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের অর্ন্তভূক্তির কারণ জানতে চান ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। জবাবে তিনি জানান, তালিকা তৈরী করেছেন বি.আর.ডি.বি’র লোকজন। আমি কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে উপজেলা বিআরডিবি’র কর্মকর্তা মাঞ্জুমা আক্তার গত সোমবার উপজেলা আ’লীগ সভাপতি কর্তৃক প্রকল্প কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা সমন্বয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিধিমোতাবেক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। বন্ধ রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। উপজেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, তালিকা তৈরীতে তাদের মতামতকে মোটেও প্রাধান্য দেয়া হয়নি।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply