হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হুক্কা

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়া :

‘ধুমপান বিষপান’ এই কথাটি আমাদের সবার জানা। তারপরও বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে এমনকি শহরেও অসংখ্য সাধারণ মানুষ এখনো এই ধুমপানের সাথে জড়িত।

এক সময় ছিল গ্রাম বাংলার মানুষরা বিড়ি-সিগারেট দেখতো না। তখন তাদের ধুমপানের একমাত্র স্বম্বল ছিল নারিকেল, কাঠ ও মাটির তৈরি কলকি দ্বার নির্মিত হুক্কা। হুক্কা সেবনে প্রয়োজন হতো তামাক ও টিক্কা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এমনকি নবীনগর শহরের অনেক স্থানে এই হুক্কা ছিল ধুমপানের এক মাত্র মাধ্যম। বিভিন্ন মেল-মজলিসে আপ্যায়নের প্রধান ছিল এই হুক্কা। উপজেলার নারায়নপুর গ্রামে সওদাগর পাড়ায় হুক্কা তৈরির প্রাণকেন্দ্র ছিল। যেখানে ৭-৮ জন ব্যবসায়ী হুক্কা তৈরি করতো, কালের আবর্তে বর্তমানে মাত্র একজন হুক্কা তৈরি করে এখনও পৈত্রিক পেশা টিকিয়ে রেখেছে।

হুক্কা ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, আমার বাবা আবদুল হামিদ হুক্কা ব্যবসা করে তার জীবন কাটিয়ে দিয়েছে। আমিও আমার বাবার মতো হুক্কা ব্যবসা করে জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। প্রতি হুক্কা ৮০-১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। কিন্তু হুক্কা তৈরির উপকরণ চাহিদা অনুযায়ী না পাওয়ায় হুক্কা তৈরিতে অধিক টাকা ব্যয় হয়। তাই আগের মতো লাভ হয় না। যেখানে প্রতি বাজারে ১০০-১৫০ পিছ হুক্কা বিক্রি হতো সেখানে আজ ০৫-১০ পিছ হুক্কা বিক্রি হচ্ছে। এতে করে এই পেশায় নিয়োজিত অনেক ব্যবসায়ী তাদের পৈত্রিক পেশা বাদ দিয়ে অন্যান্য ব্যবসা করছে। বর্তমানে নবীনগর উপজেলায় মাত্র ৩ জন হুক্কা ব্যবসায়ী তাদের পৈত্রিক পেশাকে ধরে রেখেছে। হুক্কা ব্যবসায়ীরা মনে করছে, তামাকের দাম বাড়াতে এবং বিড়ি, সিগারেটের কারণে এই হুক্কা ব্যবসায় এত বড় ধস নেমেছে।




Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply