কুমেক মানসিক বিকারগ্রস্তদের চিকিৎসা চলছে যেভাবে

কুমিল্লা, ০৯ জুলাই, ২০১১ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অজ্ঞাত মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। তাদের চিকিৎসা চললেও তাদের থাকার জায়গাটি খুবই নোংরা। এক কথায় তাদের জীবনযাপন খুবই মানবেতর। আবার এখান থেকে র্দুগন্ধ পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষদের বিব্রত করে। এই হাসপাতালে কোন মানসিক ওয়ার্ড নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় একটি মানসিক ওয়ার্ড নির্মাণাধীন রয়েছে।

২ মাস পূর্বে জরুরি বিভাগের দরজার সামনে চারদিকে ইটের প্রাচীর দিয়ে একটি ওয়ার্ড করা হয়। যেখানে ৫/৬ জন রোগী থেকে চিকিৎসা নিতে পারবে। জানা যায়, রাস্তায় পড়ে থাকা বা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো যাদের কোন পরিচয় নেই-এসব অজ্ঞাত মানসিক বিকারগ্রস্ত পাগল রোগীদের এই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাকা ফ্লোরে এসব রোগিদের জন্য নেই কোন পাটি, চাদর, বালিশ কিংবা কোন বিছানা। বিছানা ছাড়াই তারা শুয়ে থাকে। অন্যান্য রোগীদের মত তাদেরকেও নিয়মিত খাবার দেয়া হয়। প্রায় প্রতিদিনই ডাক্তার এসে এসব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। দুই মাস আগে এই ওয়ার্ডে রোগী ছিল ৫ জন। বর্তমানে এই ওয়ার্ডে ২ জন বয়স্ক ও একজন যুবকসহ তিনজন রোগী রয়েছে। এই রোগীগুলো তাদের নাম বা পরিচয় কিছুই বলতে পারেনা। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ওয়ার্ডের সাথে টয়লেট থাকলেও তারা ওয়ার্ডের ভিতরই প্রসাব-পায়খানা থেকে শুরু করে এখানেই খাওয়া-দাওয়া করে এবং দিনে-রাতে খালি ফ্লোরে ঘুমায়। পথে-ঘাটে পড়ে থাকা এসব রোগিদের পুলিশ ও মানুষ এনে এখানে রেখে যায়।

সুলতান নামের পঞ্চাশ উর্ধ্বে এক বৃদ্ধ এসে প্রতিদিন এই ওয়ার্ড পরিস্কার করে এবং তাদের গোসল করায়। সুলতান জানায়, তাদের সেবা-যত্ন করা আমার চাকরির মধ্যে পড়েনা। আমি তাদের সেবা-যত্ন করছি মানবিক দিক বিবেচনা করে। আমি গত ২০ বছর ধরে রোগীদের সেবা-যত্ন করি। আমি প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই ওয়ার্ডের ময়লা-আর্বজনা পরিস্কার করি। তাদের গোসলা করাই, সেবা-যত্ন করি।




Check Also

কুসিক নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবি বিএনপির

সৌরভ মাহমুদ হারুন :– কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার ...

Leave a Reply