নাঙ্গলকোটে জলমহাল ইজারায় অনিয়ম : অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

জামাল উদ্দিন স্বপন :
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জলমহাল ইজারা দেয়া নিয়ে অনিয়ম এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে জলমহাল ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে অমৎস্যজীবিদের মধ্যে জল মহাল ইজারা প্রদান সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উত্তর শাকতলী দীঘি ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম- নীতির তোয়াক্কা না করে উত্তর শাকতলী শেখ রেজা হাফেজিয়া মাদ্রাসার নামে অমৎস্যজীবিদের মধ্যে প্রথমে ২০ হাজার টাকা পরে দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রেখে আরো ১০ হাজার টাকা সহ মোট ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইজারা প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী একাধিক আবেদনকারী না পাওয়া গেলে বার- বার টেন্ডার আবেদন চাওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সমবায় অফিসার গোলাম কিবরিয়া ও নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ রেহান উদ্দিন মৎস্য জীবিদের নিকট হতে একাধিক বার আবেদন না চেয়ে একমাত্র আবেদনকারী অমৎস্যজীবি শাকতলী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে শাকতলী দিঘী ইজারা প্রদান করেন। এছাড়া, সাতবাড়িয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনেও তাদেরকে জলমহাল ইজারা প্রদান করা হচ্ছে না বলে জানা যায়। এদিকে, জলমহাল ইজারার পত্রিকায় প্রকাশিত দরপত্রের বিজ্ঞপ্তির টাকা সরকারিভাবে পরিশোধের নিয়ম থাকলেও সমিতিগুলো থেকে অবৈধভাবে আদায়কৃত টাকা থেকে বিজ্ঞপ্তির টাকা পরিশোধ করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সমিতি থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠার পর অনেক সাংবাদিককে ম্যানেজ করার অভিযোগ উঠে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তের নামে আই ওয়াশ করেছেন বলে জানা যায়। তদন্ত কমিটিতে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের দায়ে অভিযুক্ত উপজেলা সমবায় অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করায় তদন্তের নিরপেক্ষতার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যিনি প্রাকৃতিক উৎস হতে মাছ শিকার এবং বিক্রয় করেই প্রধানতঃ জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি প্রকৃত মৎস্যজীবি বলে গণ্য হবেন। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সংগঠন স্থানীয় পর্যায়ে সমবায় অধিদপ্তর বা সমাজ সেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলে স্থানীয় জলমহাল ব্যবস্থাপনা বা ইজারায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে কোন সমিতিতে যদি এমন কোন সদস্য থাকেন যিনি প্রকৃত মৎস্যজীবী নহেন, তবে সে সমিতি কোন জলমহাল বন্দোবস্ত পাওয়ার যোগ্য হবে না। কোন ব্যাক্তি বা কোন অনিবন্ধিত সমিতি সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় আবেদন করতে পারবেন না।

পেরিয়া ইউপি’র উত্তর শাকতলী শেখ রেজা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি ইউছুফ বি,এস,সি জানান প্রথমে মাদ্রাসা শিক্ষক মিজানুর রহমানের মাধ্যমে উপজেলা সমবায় অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদের ফাইল আটকে রাখে। তারপরও আমরা লিজ আনতে ব্যর্থ হলে পেরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলামের নিকট ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ রেহান উদ্দিনকে প্রদান করবে এবং অবশিষ্ট ১০ হাজার টাকা নজরুল ইসলাম নিজে গ্রহণ করবে বলে জানান।

তারা মৎস্য জীবি কিনা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সে জানায় ৭ জন মাছ চাষ করে অন্য ১৫ জন্য অমৎস্যজীবি। সে আবার বলে যা কিছু হয় আমরা ম্যানেজ করব কিন্তু মাদ্রাসা স্বার্থে দিঘীটা আমাদের প্রয়োজন। উপজেলা সমবায় অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে সাপ্তাহিক সময়ের দর্পন সম্পাদক এ,এস,এম শোয়েব কে জানান, নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাব সভাপতি এবং সেক্রেটারি আমার এখানে এসে চা খেয়ে যান । আপনিও এসে চা খেয়ে যান। প্রতিত্তোরে সমবায় অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে বলেন, নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে ৫০০০ টাকা এবং সেক্রেটারীকে ৫০০০টাকা ৪টি সমবায় বহুমুখী সমিতি বিনা ফি তে করে দিবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ এব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি? উত্তরে গোলাম কিবরিয়া বলেন, সন্ত্রাসী হামলায় আমার মা মারা গিয়াছেন আমি আপনাকে আর বেশি বলতে পারব না বলে তাৎক্ষনিক লাইন কেটে দেন। এ ব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদার জানান আমি এবং সংসদ সদস্য লোটাস কামাল জলমহাল ইজারা কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সমবায় অফিসার আমাদেরকে না জানিয়ে জলমহাল অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ইজারার ব্যবস্থা করেছে। আমি জানতে পেরেছি, পত্রিকার মাধ্যমে লিখে জাতির সামনে এটা তুলে ধরুন।

সর্বশেষ ৩০ মে আমাদের অর্থনীতির প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন স্বপন সমবায় অফিসার গোলাম কিবরিয়াকে পেরিয়া ইউপি উত্তর শাকতলী দীঘি ইজারা নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, আপনার জন্য একটি বিজ্ঞাপন রেখেছি। আপনি আমার সাথে দেখা করেন। জল মহাল ইজারা ডিড কবে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে গত ৩০ এপ্রিল সরকারী টাকা কোষাগারে জমা দিয়ে নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ডিড বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে ঐ দিন কথা হয়ে ছিল জল মহাল ইজারা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেহান উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, আমার অফিসে আপনাকে বার বার আসার জন্য বলেছি, আপনি আসেননি। এখন আমি বাসায় আছি। প্রতিত্তোরে প্রতিনিধি বলেন, আপনি যা বলবেন ফোনে বলেন আমার বাসায় যাওয়া সম্ভব নয়। তখনি তিনি নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারী মাঈন উদ্দিন দুলাল কে ফোনে ধরিয়ে দেন। মাঈন উদ্দিন দুলাল বলেন, অভিযোগটি আমার কাছে ও আসছে। তুমি নির্বাহী অফিসার রেহান উদ্দিনের সাথে দেখা কর।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply