চৌদ্দগ্রামের ৩১ কিলোমিটার সড়কে বনায়ন কর্মসূচী

জামাল উদ্দিন স্বপন :
চৌদ্দগ্রামে সড়কে পাশে বনায়নের নামে বন বিভাগের কোটবাড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ ও উপজেলা বন কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন সেলিমের বিরুদ্ধে পরষ্পর বিরোধী তথ্য দিয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ১২টি সড়কের ৩১ কিলোমিটার রাস্তায় বনায়নের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১২ হাজার টাকা করে সরকারীভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে রেঞ্জ কর্মকর্তা উপজেলা বন কর্মকর্তাকে প্রতি কিলোমিটারে বনায়নের জন্য সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন সেলিম। রাস্তাগুলো হচ্ছে- কোমারডোগা হতে পূর্ব কবরস্থান হয়ে বসকরা কবরস্থান পর্যন্ত ১কিমি, ফাঁসি বটগাছ হতে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ২ কিমি, ফকির বাজার হতে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ২ কিমি, নানকরা-দূর্গাপুর সড়ক হতে তারাশাইল পর্যন্ত ২কিমি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হতে আয়েশা সিদ্দিকা মাদ্রাসা হয়ে জামতলীয় পর্যন্ত ২কিমি, ভাজনকরা রাস্তার মাথা হতে বুরনকরা হয়ে বিশ্বরোড পর্যন্ত ২কিমি, চাঁন্দপুর মসজিদ থেকে বাঙ্গালমুড়ি পর্যন্ত ৪ কিমি, মিরশ্বান্নী হতে সোনাপুর পর্যন্ত ১ কিমি, বিসিক শিল্পনগরী হতে বালুজুড়ি পর্যন্ত ৩কিমি, বারাইশ ব্রীজ হতে ফুলমুড়ী পর্যন্ত ১ কিমি, মহাসড়ক হতে দক্ষিণ নোয়াপাড়া পর্যন্ত ২কিমি, বসকরা হতে আতাকরা মনির সওদাগরের মসজিদ পর্যন্ত ১কিমি রাস্তায় বনায়ন করার কথা।

উপজেলা বন কর্মকর্তা গতকাল রোববার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তায় বনায়ন করা হয়েছে এবং প্রতি কিলোমিটারের জন্য রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ তাকে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া গত মাসের ২৮ জুন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে ১’শ ৩১ জন, ২৯ জুন কালিকাপুর ইউনিয়নে ১৮ জন, ৩০ জুন বাতিসা ইউনিয়নে ১৭জনকে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে এবং ট্রেনিং বাবদ ১’শ টাকার ভাতা দেয়া হয়েছে বলে উপজেলা বন কর্মকর্তা সেলিম দাবী করলেও এবিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, শুধুমাত্র ২৮ জুন ১’শ ১ জনকে উপজেলা সদরে একদিনের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে এবং প্রতিজনকে ভাতা বাবদ ১’শ টাকা করে দেয়া হয়।

তবে স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, ট্রেনিং ভাতা বাবদ ২’শ টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও শুধু মাত্র চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে ২৮ জুন গুটি কয়েক ব্যক্তির একদিনের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে এক্ষেত্রে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এবিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, বৃষ্টি পাতের জন্য একদিনের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। বাকী দু’দিনের ট্রেনিং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেয়া হবে। বনায়নের জন্য কিলোমিটার প্রতি ১২ হাজার টাকা করে খরচও যথাসময়ে উপজেলা বন কর্মকর্তার মাধ্যমে দেয়া হবে। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও উপজেলা বন কর্মকর্তার পরস্পর বিরোধী দেয়া তথ্যে গড়মিলের কারণে সরকারী অর্থ আত্মসাতের সু-ষ্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply