হরতালে হরতালে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন : বিপদজনক খেলায় মেতেছে সরকার

এস জে উজ্জ্বল :

ফাইল ছবি
ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সংবিধান সংশোধন, রাষ্ট্রধর্ম ও ইসলাম, বিরুধী দমন, তত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে ক্রমেই কঠিন সময়ের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সরাকরী্ ও বিরুধী দলের অনমনীয় অবস্থান এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চয়তায় পড়ছে বলেই মনে হয়।

বিরুধী দলগুলো হরতাল, অবরোধ, প্রতিবাদ কর্মসূচির মত কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা করছে। দেশের এই সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের মনে নানা রকম আশঙ্কা দানা বাধছে। হরতাল আর অবরোধের ফল এদেশের মানুষের মত খুব কম দেশের মানুষই জানে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকান্ড সেসময় সাধারন মানুষের শান্তি হারাম করে দিয়েছিল । দুঃখজনক ভাবে ইতিহাসের বর্বরতম অধ্যায় সূচনা করে রাজপথে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করার মত ঘটনাও ঘটেছে। সেই লোমহর্ষক ঘটনাগুলি এখনো এদেশের মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এই অবস্থায় আবারো সেই রকম পরিস্থিতির আশংঙ্কা করাটাই স্বাভাবিক।

৩, ১০ ও ১১ জুলাই হরতাল :

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আগামী ৩ জুলাই রাজধানী ঢাকায় পূর্ণদিবস হরতাল পালনের কর্মসূচি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব ইউনুছ আহম্মেদ। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউনুছ আহম্মেদ বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিলে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপন করার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি দিয়েছেন।

ফাইল ছবি
এর আগে গত বুধবার দলটি আগামী ১০ জুলাই সারা দেশে হরতাল দিয়েছিল। আজ বিকেলে ধর্মভিত্তিক ১২টি দল আগামী ১০ জুলাই সকাল ছয়টা থেকে ১১ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা ৩০ ঘণ্টা হরতালের ঘোষণা দেয়। ওই দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও রয়েছে।
দলটি আগামী ৩ জুলাই ও ১০ জুলাই এককভাবে হরতালের কর্মসূচি দিয়েছে। আর ১০ জুলাই সকাল ছয়টা থেকে টানা ৩০ ঘণ্টা অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে তারাও হরতাল পালন করবে।

বিএনপির কর্মসূচি :
এহেন পরিস্থিতির প্রতিবাদ স্বরূপ প্রধান বিরুধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধিন চারদলীয় জোটও কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে চারদলীয় জোটের অন্যতম শরীক জামায়াত বিএনপিকে কঠোর আন্দোলনে যাবার জন্য পরামর্শ জানিয়েছে। তাছাড়া বিএনপিও তাদের অস্তত্বের তাগিদে কঠোর আন্দোলনে যাবে এটাই অনুমেয়। আগামী সপ্তাহের কোন এক সময়ে দলটি তাদের কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করবে বলে শুনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চ্যায়াপর্সন বেগম খালেদা জিয়া এরকমই আভাস দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ”আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় স্বার্থে যখন যে প্রস্তাব ও ফর্মুলা নেয়া প্রয়োজন, তখন সেটাই গ্রহণ করেছে। পরে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তারা নিজেদের ফর্মুলার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। দেশ-জাতির স্বার্থ তাদের কাছে কখনো বড় হয়ে দেখা দেয়নি। সবসময় সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে তারা কাজ করেছে। এবারও তারা একই ঘৃণ্য নজির স্থাপন করল।

তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, এই সব অপকৌশল ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলের কণ্ঠ বন্ধ করা যাবে না। দেশের স্বার্থে, জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের আন্দোলন কেবল অব্যাহতই থাকবে না, ক্রমাগত আরো জোরদার হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ষড়যন্ত্র ও অত্যাচার মোকাবিলা করতে রাজপথের কঠিন সংগ্রামে নামার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘জীবনের এই প্রান্তে এসে আমি আরেকবার দেশের স্বার্থে, জনগণের অধিকার রক্ষায় কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হবার প্রত্যয় গ্রহণ করেছি। দেশপ্রেমিক প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সংগঠন, সমাজশক্তি ও ব্যক্তিকে আগামীতে দেশরক্ষা ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে শরিক হবার আহ্বান জানাচ্ছি’।”

ফাইল ছবি
এই সবকিছুর আলোকে বিশ্লেষন করলে অতি সহজেই অনুমেয় যে সাধারন মানুষের জীবনে দুর্বিসহ দিনগুলি ধেয়ে আসছে। দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এক বিপদজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছেন, যে খেলায় হয়তো সর্বশান্ত হবে বহু সাধারন মানুষ, কোন মায়ের কোল খালি হবে, রাজপথে রক্ত ঝরবে। মিছিলে মিছিলে মুখরিত হবে রাজপথ। সর্বোপরি আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply