পুলিশ ও আওয়ামীলিগের ভয়ে পুরুষ শূন্য বি-পাড়ার একটি গ্রাম

জহিরুল হক (বাবু), বুড়িচং :
ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার জের ধরে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের ভয়ে ভুতুরে গ্রামে পরিণিত হয়েছে একটি গ্রাম।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার বি-পাড়া উপজেলার ৭নং সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকই(রহমতপুর) গ্রামের সেই ভূতুরে পরিবেশ। গ্রামের অধিকাংশ দোকান পাটই বন্ধ। হাতে গুনা দু-একজন বৃদ্ধকে দেখা গেল রাস্তায়। মানুষের আনাগুনা নেই চা দোকানে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে যারা ছিল তারাও চলে গেল। নাম না প্রকাশ শর্তে ৯০ উর্দ্ধ এক বৃদ্ধ যানায়, পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে ঘর-বাড়ী ছেড়ে পালিছে গ্রামের পুরুষরা। রাত নামার সাথে সাথে শুরু হয় তাদের অভিযান, চলে বাড়ী বাড়ী তল্লাশী, বাড়ীতে থাকা বউ-ঝিদের দেয়া হয় অশ্লীল ভাষায় গাল-মন্দ এবং হুমকী ধমকী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার বি-পাড়া উপজেলার ৭নং সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকই(রহমতপুর) গ্রামের সর্বস্তরের জনগন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই গ্রামের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খানকে চেয়ারম্যান পদে ইউপি নির্বাচন করার জন্য সিদ্ধান্ত দেয়। একই সাথে সাহেবাবাদ ডিগ্রী কলেজের কেরানী ও সাহেবাবাদ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ শাহ আলম গ্রাম্য সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে। এ নিয়ে গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচেন মিজানুর রহমান খাঁন ৭৯ ভোটের ব্যাবধানে ইউনিয়ন আ’লীগের সেক্রেটারী জসিম উদ্দন নান্নুর সাথে পরাজিত হয়। আর শাহ আলম সম্পূর্ন ইউনিয়নে সর্বমোট পায় ৩৩ ভোট। ফলাফল আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনার আগেই শাহআলমের বাহিনীর হামলায় মিজানুর রহমান খাঁনের বড় ভাই মোঃ সাইফুল ইসলাম মারাত্মক ভাবে আহত হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে উত্তেজিত জনতা প্রার্থী শাহ আলমের বাড়ী ভাংচুর করে। বাড়ী ভাংচুরের ঘটনাকে পুজি করে ও স্থানীয় আ’লীগের মদদে হামলার দু’দিন পর ২৪ জুন প্রার্থী শাহ আলমের ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রার্থী মিজানুর রহমান ও তার ভাই অহত মোঃ সাইফুল ইসলামসহ ৮৫ জন নামীয় ও ৭০/৮০ জনকে অজ্ঞাত করে বি-পাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর পরই গ্রেফতারের ভয়ে এলাকাটি পুরুষ শূন্য হয়ে যায়। আর এ সুযোগে প্রার্থী শাহ আলমের পার্শ্ববর্তী বাড়ীর সংরক্ষিত মহিলা আসনে পরাজিত প্রার্থী রোকেয়া বেগমের স্বামী মোঃ সেলিম, তার ছেলে জাকারীয়া, প্রার্থী শাহ আলমের ছেলে সফিউল আলম সুমন, মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রাজিব ও এলাকার আ’লীগে ক্যাডারদের সমন্নয়ে একটি গ্র“প তৎপর হয়ে উঠে। দিনে ও রাতে পুরুষ শূন্য গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে মেয়েদের বিরক্ত ও মহিলাদের অশ্লীল ভাষায় গাল মন্দ করে এবং জোর জবরদস্তী করে তাদের গরু বাছুরসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যায়। রাত হলে পুলিশ ও আ’লীগ ক্যাডার বাহিনী আসামী ধরার নামে একই বাড়ীতে কিছুক্ষন পর পর আসে। পুরুষ শূন্য ঘরের দরজা বারবার খুলতে না চাইলে দরজায় লাথী সহ অশ্লীল ভাষায় গাল মন্দ করে। ঘরের মেয়ে ও শিশুদেরকে নানাহ প্রকার ভয়ভৃতি প্রদান করে। এই গ্রামের মোরশেদা বেগম(৩৫), পপি আক্তার(২০), নাছরিন আক্তার(৩৭) শিউলি আক্তার (৩৬), সাবিনা আক্তার(২৪)সহ নাম না প্রকাশ শর্তে অনেক মহিলা ও মেয়েরা যানায়, রাত হলে আমারা আতঙ্কের মধ্যে থাকি, কখন যে পুলিশ ও বাদী পক্ষের লোকেরা দরজায় এসে লাথী মারে। তাদের ভয়ে আমাদের স্কুল ও কলেজ পড়–য়া মেয়েদের অন্যত্র আত্মিয়ের বাড়ীতে পাঠিয়ে দিয়েছি, অনেকে আবার বাড়ী ঘর তালাবদ্ধ করে অন্যত্র চলে গেছে। সব মিলিয়ে এই গ্রামে এক ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply