নাঙ্গলকোট নির্বাহী কর্মকর্তা রেহান উদ্দিনকে কী দেখে চিনব ?

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলা প্রথম ছায়া ছবি “মুখ-মুখোশ”। দুটু জনপ্রিয় গান ছিল। তার একটির প্রথম কলি- “মুখ দেখে ভুল করো না / মুখটা তো নয় মনের আয়না / মানুষের ভেতরের খবর তো কেউ পায়না”। নাঙ্গলকোট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন- এই গানের সার্থক পুরুষ। লম্বায় প্রায় ৬ ফুট দবদবে সাদা এই মানুষটি প্রথম দর্শনেই যে কেউ বিশ্বাস করবে রেহান উদ্দিন একজন ভাল মানুষ কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে নাঙ্গলকোট উপজেলায় সরকারী আমলাদের মধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন দুর্নীতির শীর্ষ পুরুষ। তাঁর দুর্নীতির একটি সংক্ষিপ্ত খতিয়ান পাঠক সমীপে তুলে ধরছি-

১. বিগত অর্থ বৎসরে পিআইও থেকে ২টন গম অফিসার ক্লাবের নামে এবং ২ টন গম তাঁর সরকারী বাসা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাত করেন।

২. ভূমি উন্নয়ন করের ২০% টাকা ( সাব রেজি: অফিস থেকে প্রাপ্ত) ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কে চেক প্রদানের সময় গ্রহন করেন। ভূমি অফিস থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক মাসিক চাঁদা আদায় করেন।

৩. হাট বাজার ইজারার টাকা ৭০% সরকারী কোষাগারে জমাদিয়ে ৩০% টাকা তিনি আত্মসাত করেন। আবার বাজার উন্নয়নের জন্য ৫০% টাকা উন্নয়ন কাজ না করে চেয়ারম্যানদের সহায়তায় ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

৪.স্থানীয় উন্নয়ন কর (এলজিএসপি) ১২ টি ইউনিয়নের জন্য গড়ে প্রতি ইউনিয়নে ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকে। এই টাকার চেক মোটা অংকের উৎকোচ না পেলে তিনি স্বাক্ষর করেন না। বিগত বছরে এই খাতে তার আয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা।

৫. জাতীয় দিবস পালনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে রশিদহীন চাঁদা আদায় করেন। নিম্ন মানের পুরুস্কার ক্রয় করেন।

৬. নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব এসিল্যান্ড ও পৌর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পৌর প্রশাসক। মিউটেশান বা নাম জারিতে তার ফি ৫০০/= টাকা একটি নাম জারির কাজ সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরতে একজন মানুষের ২৫০০-৩০০০/= টাকা ব্যয় হয়। বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা জামানের সময় ছিল সাধারন মানুষের জন্য স্বর্ন যুগ। তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিতেন না/ এক পয়সাও ঘুষ খেতেন না।

৭. জেএসসি, এসএসসি/ দাখিল, ভোকেশনাল ও এইচএসসি পরীক্ষায় এবার নকলের স্বর্গরাজ্য সৃষ্টি হয়। কারন প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ১০/২০ হাজার টাকা নির্বাহী কর্মকর্তা হাতিয়ে নেন নানা কৌশলে। কেন্দ্র সচিবরা এর নিরব স্বাক্ষী।

৮. উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে বিরোধ হেতু টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্বাহী কর্মকর্তার রশি টানা টানির দরুন এডিপি এর প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ বঞ্চিত হয়েছে নাঙ্গলকোট বাসী। এই ৫০ লক্ষ টাকা ফেরৎ যাচ্ছে সরকারী কোষাগারে। মাননিয় জাতীয় সংসদ মোস্তফা কামাল লোটাস- রেহান উদ্দিন এর ব্যাপারে নীরব কেন জনমনে প্রশ্ন। নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা জামানের সময় মানুষ দু’হাত তোলে আল্লাহর নিকট এমপি সাহেবের জন্য দোয়া করেছেন, তিনি নাঙ্গলকোট বাসীকে ফেরেস্তাতুল্য একজন নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়েছে। কিন্তু নির্বাহী পদে রেহান আসার পর এখন নাঙ্গলকোট বাসী প্রার্থনা করছে- “আল্লাহ রেহান নামের এই পিছাসের হাত থেকে তুমি আমাদের কে মুক্তি দাও”।

মূখ-মূখুশ ছায়া ছবির দ্বিতীয় গানছিল- মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর কন্ঠে-

“ ডোরা কাটা দাগ দেখে- বাঘ চেনা, যায়-চেনা-যায়

আকাশের বান দেখে মেঘকে যায় বুঝা যায়

মুখ ঢাকা মূখুশের এই দুনিয়া/ মানুষকে কি দেখে চিনবে বলো”।

মাননীয় এমপি মহোদয় দুই বৎসরেও যদি আপনি রেহান উদ্দিন কে চিনতে না পারেন- তবে আগামী নির্বাচনে এর খেসারত আপনাকেই দিতে হবে।

Check Also

নাঙ্গলকোটে সম্মেলন ঘিরে বিভক্ত ছাত্রলীগ; বিক্ষোভ ভাংচুর, স্মারকলিপি প্রদান

  বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর :– কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলনকে ঘিরে দু’গ্রুপে ...

Leave a Reply