কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রলীগ ক্যাডার সবুজ আজীবনের জন্য বহিস্কার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ০৪ মে, ১১
প্রেমে সাড়া না দেয়ায় ছাত্রীকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগে সেই বহুল আলোচিত ছাত্রলীগ ক্যাডার ও বাংলা বিভাগের ১ম ব্যচের ছাত্র নুরুল আমিন সবুজকে আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভুইয়া স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ব বিদ্যালয়ে নুরুল আমিন সবুজ নামের ছাত্রলীগ ক্যাডার ও বাংলা বিভাগের প্রথম ব্যাচের এক ছাত্রের প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় একই বিভাগের এক ছাত্রী কে দীর্ঘ দিন যাবৎ উত্যক্তকরে আসছিল। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে বাংলা বিভাগের ২য় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু পূর্বে ভবনের সামনেই সবুজ ওই ছাত্রীর পথরোধ করে দাঁড়ায়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সবুজ তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং হাতে ও পায়ে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে। খবর পেয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষককরা এগিয়ে এলে সবুজ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরীক্ষা শেষে ওই ছাত্রী বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড.জি.এম মনিরুজ্জামানের নিকট লিখিতভাবে ঘটনার বর্ননা প্রদানসহ দীর্ঘ দিন যাবৎ তাকে উত্যক্ত করার অভিযোগ দাখিল করে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে। ওই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরী সভায় প্রক্টর ড. সায়াদুর রহমান কে আহবায়ক করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৩ এপ্রিল বিশ্বদ্যিালয়ের ৩১ তম সিন্ডিকেট সভায় নুরুল ইসলাম সবুজকে শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা ও আচরন বিধির পরিপন্থী কাজ এবং নারী নির্যাতনমূলক অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কার অর্থাৎ আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়। ঊল্লেখিত শাস্তির আদেশ জারীর পর থেকে ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগ ক্যাডার সবুজ তার সহযোগীদের নিয়ে গত ৯ এপ্রিল রাতে শহীদ ধীরেন্দ্র দত্ত হলের ১০৪ কক্ষ থেকে সাইফুল ইসলাম নামের এক ছাত্র কে ধরে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে বস্তায় ভরে লালমাই পাহাড় থেকে নীচে ফেলে দিয়েছিল। এছাড়াও সে গত বছর নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আসনে বসা নিয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের রোকসানা আক্তার নামের এক ছাত্রীকে মারধর করেছিল। ওই ঘটনা শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সামনে ঘটলেও কুবি প্রশাসন নীরব দর্শকের মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তার হাতে ছাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় কুবির শিক্ষার্থীরা কুবি প্রশাসনের নিকট শাস্তি দাবী করে আসছিল। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বহিস্কারের সিদ্ধান্তে সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে অনন্দ বিরাজ করছে।

Check Also

কুবি সাংবাদিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান পালিত

মো শরীফুল ইসলাম,কুবি :– বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ...

Leave a Reply