এম ভি বিপাশা মেঘনা বক্ষে নিমজ্জিত একই পরিবারের ৬ জনসহ ২৮ জনের লাশ উদ্বার

লিটন চৌধুরী (ব্রাহ্মনবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কাছে মেঘনা নদীতে গতকাল বুধবার মধ্যরাতে এমভি বিপাশা নামক একটি যাত্রবাহি লঞ্চ মেঘনা নদীতে ডুবে একই পরিবারের ৬জনসহ ২৮জনের মৃত্যু হয়েছে।লঞ্চের অর্ধশতাধীক যাত্রী লাফিয়ে পানিতে পরে আত্বরা করতে পারলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধীক যাত্রী।তবে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধা পর্যন্ত বিআইডবিওটিএ‘র ৪জন ডুবুরি ও ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা ২৮টি লাশ উদ্বার করেছে।এদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও শিশু। অনেক লাশ নদীতে পানির স্রোতের সাথে ভেসে ভাটি অঞ্চলে চলে যেতে পারে ধারনা করা হচ্ছে । প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এখনো লঞ্চটি উদ্বার করা সম্ভব হয়নি।উদ্বারকারি জাহাজ রুস্তম আজ শুক্রবার ভোর রাতে পৌছতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় উদ্বার কাজ বন্ধ করা হয়েছে।লঞ্চের নিরাপত্তায় নিয়োজির ৪জন আনসার সদস্যের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।তবে তাদের ৩টি রাইফেল ও ৬০ রাউন্ড গুলি উদ্বার হয়েছে।
পুলিশ,প্রত্যদর্শি ও লঞ্চদূর্ঘটনায় বেচে যাওয়া যাত্রী আনোয়ার হোসেন,মোঃ সুমন আলী, জামাল উদ্দিন ,মফিজ মিয়া ও নয়নতারা জানান,গতকাল বুধবার রাত ১২টায় ভৈরব লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ২ শতাধীক যাত্রী নিয়ে এমভি বিপাশা নামক যাত্রীবাহি লঞ্চটি সুনামগঞ্জের সাচনার উদ্যেশে ছেড়ে আসে। সরাইল উপজেলার রাজাপুরের কাছে রাত আনুমানিক দেড়টায় মেঘনা নদীতে ডুবে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সাথে ধাক্কা খেলে তাৎনিক লঞ্চটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।এ সময় লঞ্চের উপরে থাকা অর্ধশতাধীক যাত্রী লাফিয়ে পানিতে পড়ে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সম হলেও লঞ্চের ডেকারে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই লঞ্চটি পানির নীচে নিমজ্জিত হয়ে যায়।দূর্ঘটনার ১২ঘন্টা পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বিআইডবিওটিএ‘র ৪জন ডুবুরি ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ভৈরব ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্বার কাজ শুরু করে।উদ্বারকারি ডুবুরিরা লঞ্চের ভিতর থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৮জনের লাশ উদ্বার করতে সম হয়। এদের মধ্যে ১৪জন মহিলা,৭জন পুরুষ ও ৭জন শিশু রয়েছে ।
মৃত ২৮জনের মধ্যে ১৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হল হবিগঞ্জ আজমীরিগঞ্জের একই পরিবারের আমির হোসেন(৩৫),আবু কাউসার(১০)কাশেম(৬),কল্পনা(৩০),তাছলিমা(২৬),১৫দিনের নবজাতক সাকিবুল, নরসিংদির আমীরগঞ্জের নব দম্পতি বাবু মিয়া ও তানজিনা বেগম,কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের আঙ্গুরা বেগম(৩০),তার মেয়ে তানজিনা(১),সুনামগঞ্জের তাছলিমা বেগম(২৬) ও তার ছেলে সূজন(২),নরসিংদি রায়পরার ফয়জুননেছা(৫০),আসলাম ভূইয়া(২৫),শ্যামা বেগম(৩০),ভৈরবের সীমা(১২) ,লপিুরের আতাউর(১৬),ইটনার জয়া বেগম(৫০),হোসেনপুরের এলাচি বেগম(৫০),বেলাবোর জাহেরা খাতুন(৫২),নরসিংদির ঘোড়াদিয়ার নাদিম(৩৫),ইসলামপুরের তাছলিমা(৪০) ও লঞ্চের ড্রাইভার আবুল কাশেম।এছাড়া লাশের খোঁজে নদীর তীরে স্বজনদের ভীর ক্রমেই বাড়ছে।তাদের আহাজারিতে নদীর তীরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।উদ্বার কাজ বন্ধ হওয়ায় নিহতের স্বজনরা ােভ প্রকাশ করেন।এদের মধ্যে সুনামগঞ্জের সাচনার আমীর হোসেন জানান তারস্ত্রীর লাশ উদ্বার হলেও এখনো তার পরিবারের ৩ জন নিখোজ রয়েছে। এরকম আরো স্বজন মেঘনার অপোর প্রহর গুনছে কখন তার স্বজনের লাশ পাবে।সরাইল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন ডুবুরিদের বরাত দিয়ে জানান লঞ্চের ভিতরে আর কোন লাশ খুজে পাওয়া আপাতত উদ্বার কাজ বন্ধ করা হয়েছে।বিআইডাবিওটিএ‘র উপ পরিচালক মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান উদ্বারকারি জাহাজ রুস্তম সকালেই নারায়নগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসেছে। রাতের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছতে পারে। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ জিয়াউল হক মৃধা,জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান,পুলিশ সুপার মোঃ জামিল আহম্মেদ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্বার কাজের তদারকি করেন।
উল্লেখ্য ৩বছর পূর্বে ওই এলাকায় বরযাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে ৭০ ফুট নীচে তলিয়ে গেলে যাত্রীদের প্রায় সকলেই প্রাণ হারিয়েছিল।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply