বাস সিএনজি ও অটোবাইক স্ট্যান্ডের শহর কুমিল্লা :: যানজটের চরম দূর্ভোগে কুমিল্লাবাসী

সাকলাইন যোবায়ের,কুমিল্লা থেকে::
রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি ঐতিহ্যবাহী ও পুরাতন জেলা হিসেবে কুমিল্লার গুরুত্ব অনেক বেশী। আয়তনের দিক থেকে জেলাটি অনেক বড় হলেও এর শহর এলাকা খুব একটা বড় নয়। শহরের মধ্যে ৭ টি আন্ত জেলা বড় বাসস্যান্ড ,৫ টি সিএনজি স্ট্যান্ড এবং অটোবাইক স্ট্যান্ড কুমিল্লায় হওয়ায় যানজট তিব্র আকার ধারন করেছে। শহরের শাসনগাছা থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকা,সিলেট,ব্রানবাড়িয়া,নবীনগর,দাউদকান্দি,চান্দিনাসহ বিভিন্ন জায়গায় বাস ছেড়ে যায়। শাষনগাছার ওই বাসস্ট্যান্ডটির জন্য শহরের রেইসকোর্স,পুলিশলাইন,স্টেশনরোড এবং ঝাউতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় যার ফলে পথচারীদের ভোগান্তির শেষ থাকেনা। শহরের টমসমব্রিজ এলাকার বাসস্ট্যান্ডটি বছর দু এক আগে আশ্রাফপুরে উদ্বোধন করা হলেও রাজনৈতিক টানাপোড়ন ও শ্রমিকদের বিভক্তির কারনে বানস্ট্যাটি সেখানে না যাওয়ার দরুন শহরের কান্দিরপাড়,বোর্ড ও মহিলা কলেজের রাস্তাটিতে যানজট লেগে থাকে এবং চকবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম ও ফেনী গামী সিবার্ড,দোয়েল,মদিনা,বিজলী বিভিন্ন বড় গাড়ির কারনে রাজগঞ্জ, চকবাজার , ছাতিপট্টি,তেলিকোনাসহ বিভিন্ন জায়গায় চরম যানজটে পড়তে হয় পথচারিদেরকে।কান্দিরপাড়ে ১টি ও চকবাজারে একটি সিত্রনজি স্ট্যান্ডের কারনেও যানজটে পড়তে হয়। শহরের কান্দিরপাড়,রাজগঞ্জ, চকবাজার, মোগলটুলি, পুলিশরাইন, যত্রতত্রঅটো রিকসার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও যাত্রী উঠানোর কারনে বিশাল যানজটের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরে চলাচলকারি এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রনে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। শহরে নিয়োজিত কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশিংয়ের সদস্যরাও ব্যর্থ হচ্ছেন এবং যানবাহনের তুলনায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা কম হওয়ার দরুন যানজট আরও বেড়েছে। বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার রিকসা,৫
হাজার ইজি বাইক চলাচল করছে। এসব বাহনের পাশাপাশি সিএনজি চালিত অটোরিকসার সংখ্যাও প্রায় ৫ শ’ ছাড়িয়ে গেছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও ট্রাফিক আইন যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় অবৈধ রিকসা ও ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শহরের অপ্রশস্ত রাস্তা-ঘাট আর অলি-গলিতে রিকশা ও ইজি বাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যে যানজট সৃষ্টি করছে তার যন্ত্রনা এতোটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যা সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শহরের কান্দিরপাড়,রামঘাট,টমসনব্রীজ,নজরুল এভিনিউ, রানীর বাজার, বাদুরতলা, ঝাউতলা, রেইসকোর্স, শাসনগাছা, রাজগঞ্জ, চকবাজার এলাকায় প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজটে মানুষ
অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। কুমিল্লার ট্রাফিক পুলিশে লোকবল কম হওয়ায় তাদের পক্ষে যানজট সামাল দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। ট্রাফিক পুলিশের এ অবস্থার পাশাপশি শহরের বিভিন্ন মোড়ে নিয়োজিত কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশিংয়ের সদস্যরা যেন আরও অসহায়। অবৈধ রিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের কারণে শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নির্দিষ্ট ষ্ট্যান্ড না
থাকায় রিকশা ও ইজি বাইকগুলো যত্রতত্রভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায় এবং সিএনজি অটোরিকশাগুলো তাদের নির্দিষ্ট ষ্ট্যান্ডের বাইরে একই কায়দার যাত্রী ওঠা-নামা ও বেপরোয়া গতিতে শহরে চলাচলের সময় অন্য যানবাহনের সাথে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে যানজট সৃষ্টি করছে।
কুমিল্লা শহরে প্রতিদিনের যানজটের দৃশ্য দেখলে মনে হয়,সবকিছু নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। যানজটে আটকাপড়া যাত্রীরা বাহনে বসে দুর্ভোগের হিশেব কষেন। অন্যদিকে রাস্তার দু’পাশের ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসার কারণে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এ দুর্ভোগে, যন্ত্রণা নিরসনে জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, পৌর প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কোন ভূমিকা নেই। অথচ শহর আধুনিকায়ন, যানজটমুক্ত, জলবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন কুমিল্লা গড়ে তোলার লক্ষ নিয়ে সেমিনার, সভা,বক্তৃতা, বিবৃতিতে আমাদের ‘গুণীজন বা নেতা’রা এগিয়ে থাকলেও বাস্তবায়নের জায়গায় এসে থমকে যান। অথবা ভূলে যান কোন দিন কোন সভায় কুমিল্লার উন্নয়ন নিয়ে কিছু বলেছিলেন কিনা। আমাদের গুণীজন বা নেতারা ভুলে গেলেও ভুলেন না সাধারণ মানুষ। যারা যন্ত্রনা আর দুর্ভোগকে সাথী করে পথ চলেন এ শহরে। প্রতিনিয়ত যানজটের এ দূর্ভোগ থেকে শহরবাসী কি কখনো মুক্ত হতে পারবেনা

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply