চাঁদপুরে থানা পুলিশ ও শিক্ষার্থী সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ২

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার হলে চাঁদপুরে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ হয়

এ কে এম শাহেদ (চাঁদপুর) : যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আটককৃত শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদর মডেল থানা এলাকায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মো. মহিউদ্দিন নামের পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক গুরুতর আহত হন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছে মো. সাদ্দাম হোসেন নামের দশম শ্রেণীর এক ছাত্র।
চাঁদপুর সদর উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত বহরিয়া নুরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী খাদিজা আক্তার (১৬) এর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মফিজুল হক (৪০)কে আটক করে। পুলিশ জানায়, শিক্ষক আটকের ঘটনায় বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মডেল থানা এলাকায় এসে শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের চলে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এতে অপারগতা জানিয়ে শিক্ষককে তাদের সাথে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে। ওই সময় সাদ্দাম হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী টিউবলাইট নিয়ে দৌঁড়ে এসে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিনের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এরপর পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশকিছু সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্যে প্রচুর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে মডেল থানায় পুলিশি হেফাজতে আটক অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার সাংবাদিকদের জানায়, ৬ মাস আগে তার পিতা আলী আরশাদ রাজ মারা যান। দরিদ্র হওয়ার কারণে সে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে পারতো না। আর এ দারিদ্রতার সুযোগে শিক্ষক মফিজুল হক শিক্ষার্থী খাদিজাকে বিনা খরচে প্রাইভেট পড়ানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু খাদিজা ওই শিক্ষককে কোনো টাকা-পয়সা দিতে পারবে না বলে জানায়। পরে শিক্ষকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রাইভেট পড়া শুরু করে সে। এক সময় শিক্ষক মফিজুল হক বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক শিক্ষার্থী খাদিজার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিষয়টি খাদিজা তার মা হাজেরা বেগমকে জানায়। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও জানানো হয়। এতে করে শিক্ষক মফিজুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে খাদিজার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ও এলাকায় নানা কুৎসা রটানো শুরু করে। পরে উপায়ান্তর না দেখে বিষয়টি খাদিজা ও তার মা হাজেরা বেগম মঙ্গলবার শিক্ষক মফিজুল হকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। খাদিজা আক্তার জানায়, শিক্ষক মফিজুলের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় সে এ বছর ফরম ফিলাপ করেও এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন জানান, ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ বুধবার শিক্ষক মফিজুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার রাতে শিক্ষক মফিজুল হকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মডেল থানায় মামলা করেছেন হাজেরা বেগম। মহিউদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আটককৃত শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে তার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এসে থানা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে তিনি নিজে ও অপর এক শিক্ষার্থী আহত হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। সে এজন্য অনুতপ্ত এবং মেয়েটির বিয়ে দিতে যা খরচ প্রয়োজন তা দিবে এ মামলা থেকে নিস্কৃতি দেয়ার অনুরোধ জানায়। আটককৃত শিক্ষক মফিজুল হকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মফিজুল হক সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয়।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply