সরাইলে ধর্ষিত ৭ বছরের শিশুর বিয়ে ও নিবন্ধনের দায়ে দুইজন গ্রেপ্তার

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ॥

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ধর্ষকের সাথে ৭ বছরের এক শিশুর বিয়ে দেয়ার ঘটনায় পুলিশ নিকাহ্ নিবন্ধকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার ভোররাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো উপজেলা খেলাফত মজলিশের সভাপতি স্থানীয় হাটখোলা জামে মসজিদের ইমাম ও সরাইল রাহমাতুল্লিল আলামিন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আমান উল্লাহ এবং নিকাহ্ নিবন্ধনকারী ও সুহিলপুর আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কাজী মাওলানা আনোয়ার হোসেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ১৬ মার্চ রাতে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের বেপারীপাড়া গ্রামের জাফর আলীর কন্যা ও কালীকচ্ছ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী সাওয়াল আলী বেপারীর বখাটে পুত্র খায়রুল বেপারী (১৫)। পরদিন রাতে ধর্ষকের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় জাফর আলী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ।

মামলা দায়েরের পরই সর্দাররা বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাপ দেয় শিশুর পরিবারকে। অবশেষে গোপনে সরাইল উপজেলা সদরের বকুলতলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ঠিকাদার মনির উদ্দিন আহম্মদের কার্যালয়ে তার উপস্থিতিতে গত শনিবার রাতে ধর্ষকের সাথে ওই শিশুর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে পড়ান মাওলানা আমান উল্লাহ। বিয়ে নিবন্ধন করেন কাজী মাওলানা আনোয়ার হোসেন। বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন উপজেলার সদরের বেপারী পাড়ার মৃত হোসেন আলীর পুত্র মো. মিজান মিয়া সর্দার ও কালীকচ্ছ বেপারী পাড়ার মৃত কুমেদ আলীর পুত্র মো. কাচু মিয়া সর্দার। বরের পক্ষে উকিল মৃত ইউনুছ আলীর পুত্র মো. সাওয়াল আলী এবং কনের পক্ষে মো. জাহাদ আলী সর্দার। বিয়ের নিবন্ধনপত্রে শর্ত লেখা হয়, জেএল-৬০, মৌজা সরাইল, ২৮৬৯ সাবেক হালে ৭৮৩৮ দাগে ১ শতাংশ জায়গা স্ত্রী রেশমী আক্তারের (০৭) নামে সাফ কাবলা করে দিবে। বর ও কনে অপ্রাপ্ত বিধায় পিতার এজিনে বিবাহ পড়ানো হলো। ১১ বছর পর ২০২২ সালে এ বিয়ে ও কাবিননামা কার্যকর হবে।

গতকাল বুধবার পুলিশ বাল্য বিয়ে সম্পন্নকারী মাওলানা আমান উল্লাহ ও নিকাহ্ নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা আনোয়ার হোসেনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জহিরুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ৫৪ ধারা কেন ! এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন শিক্ষক তাই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি পত্রিকায় না লেখার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। ওদিকে গ্রেফতারকৃতদের পুলিশ ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরনের ঘটনায়, এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। অনেকে বলছেন মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে এমনটি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরন করা ঠিক হয়নি। বাল্য বিয়ে পড়ানো ও নিবন্ধন করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা উচিত ছিল। তিনি আরো বলেন, বাল্য বিয়ের পড়ানোর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply