দু’পুত্রকে হয়রানীমূলক মামলা থেকে বাচাঁতে পিতার আকুতি

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

মুরাদনগরে দু’পুত্রের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা থেকে বাচঁতে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন পায়ব গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মাস্টার।-ছবি-হাবিবুর রহমান
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের পায়ব গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাবিবুর রহমান (২৪) ও তার ভাই ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানকে (৩০) মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে রোববার বিকেলে মুরাদনগর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা থেকে রক্ষা পেতে তারা পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাবিবুর রহমানের পিতা সিরাজুল ইসলাম মাস্টার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমানের মাতা মরিয়ম বেগম ও চাচা ফরিদ উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, ২০০৭ সালে হাবিবের ছোট বোন তাছলিমাকে শুশুন্ডা গ্রামের রতন সরকারের ছেলে আনোয়ার হোসেন বুলবুলের নিকট বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার ও তার পরিবারের লোকজনেরা তাছলিমার উপর অত্যাচার শুরু করে এবং ২লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্যে চাপ দিতে থাকে। এরই মধ্যে তাসলিমা একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। তখন তাসলিমাকে পুত্রসহ বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে আনোয়ার সৌদী আরব চলে যায়। বিদেশে গিয়ে স্ত্রী ও পুত্রের কোন প্রকার খোঁজ খবর না নেয়ায় ২০০৯ সালের ১০ মে স্বামী আনোয়ার হোসেন, স্বশুর রতন সরকার ও শাশুড়ী শিরিনা বেগমের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে কুমিল্লার ২নং আমলী আদালতে একটি মামলা করেন।

এ দিকে উক্ত ঘটনার মধ্য দিয়েই তাসলিমা আক্তারের ননদ মৌসুমী আক্তারের সাথে হাবিবুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে বিয়ের প্রস্তাবে উভয় পরিবারের অভিভবকরা রাজী না হওয়ায় ২০১০ সালের ১৯ আগষ্ট কুমিল্লার নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মায়ের অসুস্থতার অজুহাতে মৌসুমী আক্তারকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যায়। এর মধ্যে স্ত্রীকে ফিরে পাবার জন্য হাবিবুর রহমান কুমিল্লার ফৌজদারী আদালতে একটি মামলা করেন। উক্ত মামলা করার অপরাধে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবুর রহমানকে প্রাননাশের হুমকি দেয়। জীবননাশের আশংকায় হাবিবুর রহমান আবারো কোর্টে একটি মামলা করেন। এতে তার স্বশুর বাড়ির লোকজন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ নেয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করতে থাকে। গত ১৪ ফেব্র“য়ারী সকালে বিশ্ব ভালবাসা দিবসের দিনে মৌসুমী তার স্বামী হাবিবুর রহমানকে কথা আছে বলে শুশুন্ডা গ্রামে ডেকে আনে। তখন মৌসুমীর বাপ চাচারা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হাবিবুর রহমানের উপর আক্রমন চালিয়ে জেএমবি সদস্য আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশী তদন্তে ঘটনা মিথ্যা প্রমানীত হওয়ায় উক্ত মামলা থেকে সম্প্রতি হাবিবুর রহমান অব্যাহতি পায়।

অপর দিকে ওই ১৪ ফেব্র“য়ারীর তারিখ ও সময় দেখিয়ে মৌসুমীর চাচা নায়েব আলী সরকার বাদী হয়ে পায়ব গ্রামের হাবিবুর রহমান ও তার ভাই খলিলুর রহমানকে আসামী করে গত ২২ ফেব্রুয়ারী কুমিল্লার আদালতে আরেকটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে হাবিবুর রহমান ও তার পরিবার বিষয়টির ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।




Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply