নিজের দেহ বিলিয়ে দিয়েও শেষ রক্ষা পায়নি নিলুফা

বিশেষ প্রতিবেদক :
নিজের দেহ বিলিয়ে দিয়েও রক্ষা পায়নি হতদরিদ্র রিক্সা চালকের মেয়ে নিলুফা।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার একটি গ্রাম মাতাইনকোট। ওই গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নিলুফাকে ধর্ষণের পর শুধু পুড়িয়ে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ধর্ষক। মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়তই তাদের হুমকী দিচ্ছে ধর্ষক ও তার অনুগত সন্ত্রাসীরা। থানায় মামলা করেও বিপাকে পরেছেন নিলুফার বাবা-মা। হুমকীর ভয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। রবিবার সকালে সরেজমিনে কথা হয় নিলুফার পরিবার সহ গ্রামবাসীর সাথে।

জেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সদর দক্ষিণ থানার মাতাইনকোট গ্রাম। গাছপালার ছায়াঢাকা, আঁকা-বাঁকা মেঠোপথের দু’দিকে দিগন্ত বিস্তারী ফসলের মাঠজুড়ে সবুজের হাতছানি, পাখির কলকাকলীতে মুখরিত এই গ্রামটিতে আর দশটি শিশু কিশোরের মতোই হেসে খেলে বেড়াতো কিশোরী নিলুফা। এরই মধ্যেই এক মধ্য বয়সী পুরুষ প্রতিবেশির লুলোপ দৃষ্টি পড়ে তার উপর। এই লুলোপ দৃষ্টি থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই পায়নি নিলুফা। নিজের দেহ বিলিয়ে দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে পাষন্ড ধর্ষককের দেয়া আগুনে পুড়ে মরতে হয়েছে নিলুফাকে।

মাতাইনকোট গ্রামের হত দরিদ্র রিক্সা চালক সেলিম মিয়ার মেয়ে নিলুফা । সে স্থানীয় হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পড়তো। দুই সন্তানের জনক প্রতিবেশী আবু তালেব প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়েতুলে তার সাথে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে নিলুফা ৭ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। লোক লজ্জার ভয়ে নিলুফা একটি সময় নিজ থেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। নিলুফার অন্তঃসত্তার খবর জানজানি হয়েগেলে আলামত নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠে ধর্ষক আবু তালেব। ২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় ঘটে একটি নির্মম ঘটনা। আবু তালেব তার বান্ধবী জোসনা বেগমের সহযোগিতায় নিলুফাকে ঘর থেকে ডেকে আনে। উঠানে এনে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে পালিয়ে যায় তারা।

অগ্নি দগ্ধ নিলুফার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা তাকে তরিগরি করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। দেহের ৭০ভাগ পুড়ে যাওয়া নিলুফাকে আশংকাজনক অবস্থায় ডাক্তররা দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ৭ দিন পর ৩১জানুয়ারী নিলুফার গর্ভের আসা ৭মাসের নবজাতকসহ মারাযায় সে।

ঘটনার পরও আবু তালেব স্থানীয় প্রভাবশালীর ছত্র ছায়ায় এলাকাতেই বসবাস করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ ধর্ষক আবু তালেবের সহযোগী জোসনাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠালেও এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি ধর্ষক আবু তালেবকে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ রহস্য জনক কারনে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নেয়নি, নিয়েছে এসিড নিক্ষেপ আইনে। পুলিশ জানায়, স্থানীয় দ্বন্দের কারনেই আবু তালেবকে আটক করতে পারছেন না তারা। তবে, মামলার চার্জসীট দিয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান।

এদিকে নিলুফার মা এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে আবু তালেব ও তার মদদপুষ্ঠরা প্রকাশে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে নিলুফার পরিবারকে। মামলা তুলে না নিলে নিলুফার মতো পুরো পরিবারকে পৃথিবী ছাড়া করারও হুমকী দিচ্ছে।

তাই তারা নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ঘটনার পর প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ ওয়ালীউল্লাহ নিলুফা হত্যা কান্ডের বিচারের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করেননি, এমনকি আজ পর্যন্ত কোন প্রকার খোঁজও নিতে যাননি বলে নিলুফার মা আভিযোগ করেন।

নিলুফার মা’র আভিযোগ মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে প্রতিদিনই হুমকীর শিকার হচ্ছে নিলুফার পুরো পরিবার। নিরাপত্তাহীনতায় কাটছে তাদের প্রতিটি মুহুর্ত।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply