অবশেষে ধর্ষকের সাথেই বিয়ে হয়েছে ৭ বছরের শিশুর

আরিফুল ইসলাম সুমন :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে অবশেষে ধর্ষকের সাথেই বিয়ে হয়েছে ৭ বছরের শিশু কন্যার। শনিবার রাতে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সরাইল উপজেলা সদরের বকুলতলায় মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিনের চেম্বারে আলোচিত এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৩ লাখ টাকা দেন মোহর ও মেয়ের নামে ১ শতক বাড়ি লিখে দেয়ার শর্তে আলোচিত এই বিয়ে পড়ান সরাইল শাহী মজজিদের ইমাম মাওলানা আমান উল্লাহ। এদিকে এই বাল্য বিয়ে নিয়ে সরাইলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার রাতে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের বেপারী পাড়ার জাফর আলীর কন্যা ও কালীকচ্ছ দক্ষিণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে একই এলাকার সাওয়াল বেপারী পুত্র খায়রুল বেপারী-(১৫)। ঘটনার পর পরই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে উঠেপড়ে লাগে এলাকার প্রভাবশালীরা। তাদের ভয়ে মেয়েকে হাসপাতালে নিতে পারেনি মেয়ের পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ১১টায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে সরাইল থানার পুলিশ। রাতেই ধর্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতার পিতা জাফর আলী।

মামলা দায়েরের পরই প্রভাবশালীরা বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাপ দেয় শিশুর পরিবারকে। অবশেষে গত শনিবার রাতে উপজেলা সদরের বকুল তলা মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিনের চেম্বারে তার উপস্থিতিতে ধর্ষকের সাথে শিশুর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে পড়ান সরাইল শাহী মজজিদের ইমাম মাওলানা আমান উল্লাহ। বিয়েতে শর্ত রাখা হয় মেয়ে সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত সে তার বাবার বাড়িতে থাকবে। তার নামে ছেলের বাড়ির ১ শতক জায়গা লিখে দিবে বরের পিতা। বিয়েতে ৩ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য্য করা হয়।

এ ব্যাপারে কালীকচ্ছ এলাকার বাসিন্দা ডাঃ শাহআলম বলেন, শুনেছি প্রভাবশালীদের চাপে পড়েই জাফর আলী তার শিশু কন্যাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

মেয়ের পিতা জাফর আলী বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই বিয়েতে রাজী হয়েছি। তিনি বলেন, মেয়ে সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত তার ভরন পোষন বহন করবে ছেলের পরিবার।

বাল্য বিয়ে সম্পন্নকারী শাহী মসজিদের ইমাম মাওলানা আমানুল্লাহ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিনের অনুরোধেই এই বিয়ে পড়েয়েছি। জানি বাল্য বিয়ে পড়ানো অপরাধ । তবে মেয়ে সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত বাবার বাড়িতে থাকবে এই শর্তেই বিয়ে পড়িয়েছি। তারা ছাড়া ছেলের পিতা মেয়ের নামে ১ শতক জায়গা লিখে দিবে।

মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষ রাজী হওয়াতেই এই বিয়ের আয়োজন করেছি। কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। সবদিক বিবেচনা করেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এটি আইনের পরিপন্থী কাজ। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতেই মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন বিয়ের আয়োজন করেছেন।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply