ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ায় স্বামী পরিচয়ে নারী পাচারের অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া) :
সীমান্তে স্বামী পরিচয় দিয়ে পার্শ্ববতী দেশ ভারতে নারী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরত আসা এক অসহায় নারী। চক্রটির মূল হোতা মো. আরিফুল ইসলাম শরীফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন সদর উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী দুধ মিয়ার কন্যা সদ্য বিদেশ ফেরত শিরিন আক্তার (২০)। পুলিশ পাচারকারী চক্রের হোতা আরিফুল ইসলাম শরীফ ও সহযোগী হুরন আলী কে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী শিরিন ও এলাকাবাসী জানায়, চক্রটির প্রধান আরিফুল ইসলাম শরীফের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। অনুমান বছর খানেক আগে শরীফ উপজেলার খাটিহাতা গ্রামের মো. খালেক মিয়ার স্ত্রী খালেদা বেগমের আত্মীয় পরিচয়ে গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। পরে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে শরীফের দৃষ্টি পড়ে অসহায় দুস্থ পরিবারের প্রতিবন্ধী দুধ মিয়ার সুন্দরী কন্যা শিরিনের উপর। সে কৌশলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আত্মীয় খালেদা ও তার লোকজনের সহায়তায় প্রতিবন্ধির মেয়েকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর স্বামী শরীফ ও তার সহযোগী লোকজন শিরিনকে ভারতের মুম্বাই নিয়ে ভাল চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। সুখের কথা চিন্তা করে সহস-সরল শিরিন স্বামীর সঙ্গে ভারতে যেতে রাজি হয়। চক্রটির সহযোগিতায় শরীফ যশোর সীমান্ত এলাকা দিয়ে শিরিনকে ভারতে ঢুকিয়ে কলকাতা হয়ে মুম্বাই শহরে নিয়ে যায়। শিরিন আক্তার বলেন, শরীফ ঐখানে প্রাননাশের হুমকি দেখিয়ে আমাকে দেহব্যবসায় লিপ্ত করে। বর্বর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় পালাতে গিয়ে অথবা অপকর্মে রাজি না হওয়ায় শরীফ আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় । মুম্বাই শহরে থাকাকালে আমি জানতে পারি প্রতারক শরীফ ও তার সহযোগী লোকজন বাংলাদেশী বেশ’জন নারীকে ফুসলিয়ে চাকুরির কথা বলে ও স্ত্রী বানিয়ে মুম্বাই শহরে রেখে জোর পূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করেছে। প্রতারক শরীফ ও তার সহযোগীদের কারণে অনেক নারী এখন অন্ধকার জগতে। আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকবার চেষ্টার পর এ দেশে ফিরে আসি। আমি প্রতারক শরীফসহ তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। প্রতিবন্ধী দুধ মিয়া বলেন, প্রতারকরা আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করে ফেলেছে। তারা আর যেন কোন অসহায় মেয়ের এমন সর্বনাশ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা সরকার করবেন। এটাই আমার দাবি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিজানুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply