নবীনগরে দুই দরিদ্র উদ্যমী মা’কে মেধাবী সন্তানদের জন্য সংবর্ধনা

লিটন চৌধুরী,ব্রাহ্মনবাড়িয়া ১৯ মার্চ ॥
স্বামী এক সময় ভ্যানগাড়ী চালিয়ে সংসারের খরচ যোগাত। বেশ কিছুদিন যাবতই তিনি অসুস্থ। তাই বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে এবং পাঁচ ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচ বহন করতে ধার-দেনা করে বাড়ির পাশে একটি ছোট্ট টং দোকান দেন সাহেদা বেগম (৪২)। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ওই টং দোকানে চকলেট-বিস্কুট জাতীয় দ্রব্যাদি বিক্রি করে প্রতিদিন ৭০/৮০ টাকা আয় হয়। আর সেই আয় দিয়েই ছেলে-মেয়েদের যাবতীয় পড়ার খরচসহ সংসার চালাতে হয় সাহেদা বেগমকে। অথচ তার তিন সন্তানই মেধাবী।

স্বামী বয়াতি। আবার গত বছর তিনেক ধরে সংসার বিবাগী। কারো খোঁজ খবরও নেয় না। সংসারের হাল ধরতে ও চার ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে একটি সেলাই মেশিন যোগার করে জামেনা বেগম (৩৫) নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাউজ-পেটিকোডের অর্ডার সংগ্রহ করে যা আয় হয, তা দিয়েই কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করেন জামেনা। কিন্তু শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করেননি তিনি। তারও দুই সন্তান মেধাবী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ভোলাচং গ্রামের উলেখিত এ দুই অসহায় দরিদ্র মাকে গত শুক্রবার বিকেলে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘উদ্যমী মা সম্মাননা’ প্রদান করেছে উপজেলার আলোচিত সোহাতা গুঞ্জন পাঠাগার। পাঠাগারের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাঠাগারের উদ্যোগে ওই দুই মাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। পাঠাগারের ভূমিদাতা রাজিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি রোটারিয়ান একরামুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছিলেন সাংবাদিক নেতা গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এটিএম রেজাউল করিম সবুজ, পাঠাগারের উপদেষ্টা দেব প্রসাদ সরকার, , শিক্ষক আবু কাউছার, শিক্ষিকা দুলন দেবনাথ। বক্তব্য রাখেন আবু নোমান, রাসেল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গুঞ্জন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুর রহমান স্বপন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় দিক-দর্শন কোচিং সেন্টারের পরিচালক নাছির উদ্দিন। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই পাঠাগারের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তাদের মতো সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন যদি এভাবে দরিদ্র ও মেধাবীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সমাজ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

গুঞ্জন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, ‘অসহায় ও দরিদ্র ওই দুই মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই তাদের তিন মেধাবী সন্তান এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে। বাকী সন্তানরাও স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী। তাই ওই দুই মাকে আমরা ‘উদ্যমী মা’ হিসেবে অভিহিত করে সম্মাননা দিয়েছি। আমাদের এ ধরণের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply