কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর শরীরে আগুনের ছেকা : প্রাণনাশের হুমকি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :

আদালতে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি
কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে এক সন্তানের জননী নার্গিস আক্তার (২৩) নামের গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে দেয়া হয়েছে আগুনের ছেকা। খবর পেয়ে নার্গিসের পিতা পুলিশের মাধ্যমে তার মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি। এ ঘটনায় নার্গিস বাদী হয়ে তার শ্বশুর, শ্বাশুরি ও ভাসুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলাটি প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশসহ তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানীর হুমকি দিচ্ছে।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট কুমিল্লা সদর উপজেলার চাঁপাপুর গ্রামের আলী আশ্রাফের ছেলে মফিজুল ইসলাম রুবেলের সাথে শহরের ছোটরা এলাকার তফাজ্জল রহমানের মেয়ে নার্গিস আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য যৌতুক এনে দিতে নার্গিসকে তার পিত্রালয়ে পাঠায়। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় নির্যাতনের শিকার হতে থাকে নার্গিস। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এক পর্যায়ে নার্গিসের পিতা ২ লাখ টাকা হাওলাত হিসেবে দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সে সৌদী আরবে চলে যায়। নার্গিস জানায়, হাওলাত দেয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় তার শ্বশুর ও পরিবারের লোকজন উল্টো আরো ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার উপর নির্যাতন চালায়। গত শুক্রবার রাতে নার্গিস যৌতুক প্রদানে তার পিতার অক্ষমতার কথা জানায় এবং এ নিয়ে প্রতিবাদও করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতে তার শ্বশুর আলী আশ্রাফ, শ্বাশুরি মনোয়ারা বেগম, ভাসুর নুরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও জা আয়েশা আক্তার তাকে এলোপাতারি মারধর করতে থাকে এবং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। নার্গিস জানায়, অন্যান্যরা তার হাত-পা ধরে রাখা অবস্থায় শ্বশুর তার হাতে-পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জ্বলন্ত কয়েলের ছেকা দেয়। এতে সে ডাক-চিৎকার শুরু করলে তারা তাকে একটি ঘরে আটকে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে নার্গিসের পিতা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করলে থানার এসআই পুলক পরদিন শনিবার সকাল প্রায় ১০টায় সঙ্গীয় ফোর্সসহ গিয়ে নির্যাতীত নার্গিসকে আটকাবস্থা থেকে উদ্ধার করে আনে এবং সদর হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। গত সোমবার ডাক্তারী সনদসহ কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় শ্বশুর-শ্বাশুরীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এদিকে, প্রভাবশালী আসামীরা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য নার্গিস ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে গতকাল সাংবাদিকদের নিকট তারা অভিযোগ করেন। আল আমিন (২) নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে নার্গিসের। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় কুমিল্লার নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।




Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply