চৌদ্দগ্রামে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে জমির মূল্য :কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

চৌদ্দগ্রাম সংবাদদাতা :
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জুড়ে সংঘবদ্ধ দালাল(বুখার) চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে জমির দাম। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে জমির দাম প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ চক্রের কারসাজিতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমির এ দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে, জমি কেনা বেচায় দালালদের মধ্যস্থতা। জমির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেলেও তেমন লাভবান হচ্ছেন না জমির প্রকৃত মালিকরা। কারণ, কেনা বেচায় দালালদের সঙ্গে বায়না-পত্র করায় জমির প্রকৃত দাম পাচ্ছেন না মালিকরা। উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন নানাভাবে। কোনো ধরনের ছাড়পত্র (সার্টিফিকেট) ছাড়াই অধিকাংশ রিয়েল এস্টেট নামধারী এসব চক্র ব্যবসা চালিয়ে এলেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ অদ্যাবধি চোখে পড়েনি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, পুরো উপজেলায় গড়ে উঠেছে এ চক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দিন দিন এদের দৌরাতœ্য বেড়ে যাওয়ায় জমিজমার অস্বাভাবিক দাম বেড়ে গেছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতারাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে দালাল চক্রের বাইরে গিয়ে একজন ক্রেতা বা বিক্রেতা চাইলেও জমি বেচা কেনা করতে পারছেন না। দালাল চক্রের কারণে উপজেলায় ভূমি বিরোধ, সংঘর্ষ, জমিজমা সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আবার সরকারিভাবে মৌজাভিত্তিক জমির দাম নির্ধারিত থাকায় ক্রেতারা বেশি দামে কিনলেও নির্ধারিত দামে জমি রেজিস্ট্রি করেন। ফলে সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দালাল চক্র ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার একাধিক জমি ক্রেতা-বিক্রেতার অভিযোগ, কেউ জমি ক্রয় বা বিক্রয় করবেন বলে শুনলে তাদের বাড়িতে গিয়ে ভিড় করে দালালরা। একেক দালাল একেক রকম দাম হাঁকিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাকে বিভ্রান্ত করতে থাকে। দর কষাকষির পর দাম ঠিক হলে এবং জমির কাগজপত্র ঠিক থাকলে দালালরা নামমাত্র দামে জমি বায়নাপত্র করে ক্রেতা খুঁজতে থাকে। বিক্রেতার অর্থের প্রয়োজন হলেও বায়নাপত্রের কারণে অন্য জায়গায় জমি বিক্রি করতে পারেন না। ফলে মাসের পর মাস ওই জমি বিক্রেতাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আবার জায়গা জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দালাল চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। দালালরা জমি ক্রয়ের আগে জমি বিক্রেতার দখলে আছে কি না এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই জমির বায়না করে নেয়। এরপর উপজেলা তহসিল অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে নামজারির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। পরে জমি দখলে গেলে জমির প্রকৃত মালিকের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ, মামলা, মোকদ্দমাসহ নানা ঝামেলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে গত এক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে ওইসব মৌজাগুলোতে জমিজমার দাম বেড়েছে ৫ থেক ১০ গুণ। বেশি দামে জায়গা জমি বেচাকেনা চললেও দালাল চক্রসহ রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত কাজে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় জমির কম দাম দেখিয়ে রেজিস্ট্রির ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply