মিলনকে কারাগারে নির্যাতন ও হয়রানি করা হচ্ছে -নাজমুর নাহার বেবী

এ কে এম শাহেদ, চাঁদপুর :

‘মিলনকে শুধু কারাগারে বন্দি নয়, করা হচ্ছে নির্যাতন ও হয়রানি’- এমনটি অভিযোগ আনলেন তার সহধর্মিনী নাজমুন নাহার বেবী। তিনি বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাকে এই পর্যন্ত কয়েকটি কারাগারে নিয়ে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। আর যেসব মামলা দায়ের হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। সোমবার মিলনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় কারাগারে এক বছর আটক রাখার প্রতিবাদে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বেবী তার স্বামী মিলনের মুক্তির দাবি জানান। আ ন ম এহসানুল হক মিলন মুক্তি পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখা আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলন চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। পরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মিলনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকার কলিম উল্যার দায়ের মামলায় গতবছরের ১৪ মার্চ মিলন আদালতে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এই মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর কচুয়া উপজেলার সাচার বাজার এলাকায় মিলন ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবীসহ দলীয় ৩৮ জন নেতা-কর্মী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। সাংবাদিক সম্মেলনে বেবী বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের বিভিন্ন থানায় ও আদালতে এই পর্যন্ত ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ২১টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। একটি মামলায় জামিন পেতে না পেতেই আরেকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তার মুক্তির পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে। মিলনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদীদের অনেকেই জোরপূর্বক চাপে পড়ে এসব মামলা দায়ের করেছেন বলে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা মিলনের পরিবারের কাছে কেঁদেছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে বেবী জানান। বেবী বলেন, ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত মখা আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ী চাঁদপুর-১ (কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন) আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট বিজ্ঞপ্তিও জারি করে। যদিও পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই গেজেটের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে। অবশ্য সেই ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে গতমাসেই। কিন্তু এরপর নির্বাচন কমিশন এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক সফিউদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. ইকবাল বিন বাশার, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, আ ন ম এহসানুল হক মিলন মুক্তি পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ইব্রাহিম কাজী জুয়েল, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. মুনিরা চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলর সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন খান প্রমুখ।




Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply