কুমিল্লায় ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ নির্ভর অপচিকিৎসা : স্বাস্থ্য বিভাগের কোন তদারকি নেই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :
স্বাস্থ্য বিভাগের কোন তদারকি না থাকার কারনে এসব নামধারী কবিরাজ বেপোরায়া হয়ে উঠেছে। এসব কবিরাজদের হাতে ধর্ষন, খুনসহ বহু পরিবারকে সর্বশান্ত করার ঘঁটনাও গটছে অহরহ। জানা গেছে, সদর উপজেলার মধ্যম মাঝিগাছা কবিরাজ বাজার ও সদর দক্ষিন উপজেলার বাগমারা বাজারের “খন্দকারী তান্ত্রিক চিকিৎসালয়” হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম পাশা সহ একাধিক কবিরাজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চার পাশে। ধর্ষন, খুনসহ বহু পরিবারকে সর্বশান্ত করার ঘঁটনা বহু জাতীয় ও স্থানীয পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে ও এসব কবিরাজের কবিরাজি কতটা যুক্তি সংগত তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন? দেখা দিয়েছে। ”ইউ ফাস্ট ইলেকট্রনিক্স’’ এর প্রোপাইটর হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম পাশা বাগমারা বাজারে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ব্যাবসার পাশা-পাশি এ কবিরাজি ব্যাবসা করে কোটি পতি বনে গেছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধীক এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, তাঁর এ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পেছনে একমাত্র ভূমিকা রেখেছে ঝাড়ফুঁক, জ্বিনের আছর ছাড়ানো ও তাবিজ কবচের ব্যবসা। পাশা’র রোগীদের মধ্যে অশিক্ষিত থেকে উচ্চ শিক্ষিত (!) মানুষজনও রয়েছে। পাশা প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত রোগী দেখেন। তাঁর কোন নির্ধারিত ফি নেই। রোগীদের মানসিক অবস্থাকে পুঁজি করে তিনি তাঁর ফি নির্ধারণ করেন। ফি হিসেবে ৫ শ’ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাশা নিয়ে থাকেন। পাশাকে কেন্দ্র করে একটা দালাল চক্রও গড়ে উঠেছে। পাশা তাদেরকে নিয়মিত চাঁদা দেন। দালালদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও আছেন।

সদর দক্ষিণের আদিনামুড়া সংলগ্ন গ্রামে মিজান কবিরাজের বাড়ি ও চিকিৎসালয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগীদের ভিড় লেগে থাকে তাঁর বাড়িতে। তার চিকিৎসা পদ্ধতি ঝাঁড়ফুক ও তাবিজ নির্ভর। মিজান কবিরাজের সমৃদ্ধি তাঁর সুন্দর বাড়িটিই সাক্ষ্য দেয়। ‘বান’ মানে কারও অমঙ্গলের জন্য মন্ত্রপুত তাবিজ করা। সূত্র জানান, মিজান কবিরাজ রোগীদের মধ্যে হাপানী, প্যারালাইসিস, ক্যান্সারর রোগীকেও বিনা অপারেশনে গ্যারান্টি সহকারে চিকিৎসা করার নামে টাকা আত্বসাৎ করে থাকেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে। সদর উপজেলার মাঝিগাছা গ্রামের কবিরাজি চিকিৎসার খ্যাতি (!) জেলার বাইরেও ছড়িয়েছে। প্রতিদিন মাঝিগাছা বাজারে লোকেরা আসেন চিকিৎসা নিতে। এখানে চিকিৎসা পদ্ধতিও ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ নির্ভর। শহরের বাস স্ট্যান্ডের যে কোন একটিতে নামলেই মাঝিগাছা কবিরাজদের ভাড়াটিয়া রিক্সাওয়ালাদের তৎপরতা দেখা যায়। মাঝিগাছা নেয়ার জন্য তারা রোগীদের আহ্বান করে। মাঝিগাছায়ও দূরারোগ্য রোগের চিকিৎসা দেয়ার নামে আশ্বাস দেয়া হয়। যদিও জ্বিন-ভূতের বাইরে অন্যকোন চিকিৎসা পদ্ধতি এখানে নেই। সরকারের অনুমোদনের কোন ছাড়পত্রও তারা দেখাতে পারেননি।

এরকম অসংখ্য কবিরাজের চিকিৎসালয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জেলার সর্বত্র। সরকার কর্তৃক এসব চিকিৎসা পদ্ধতির কোন অনুমোদন না থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা (!) চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অনুমোদনবিহীন চিকিৎসকদের নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে মাঝে মাঝে খবর চাপা হয়। কিন্তু চিকিৎসা পদ্ধতিটি বন্ধ হয় না। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আধুনিক চিকিৎসকদের কাছে উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকেই বিকল্প হিসেবে কাবিরাজিও ঝাড়ফুুঁকের মত অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন। বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এ ঘাটতিকে পুঁজি করেই নানা কুসংস্কার শিকার করে। প্রায়ই তাদের হাতে রোগীর ভোগান্তি, এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও ঘটতে দেখা যায়। দেশে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে ক্ষুদ্র পরিসরে হোমওিপ্যাথি ও আয়ুবেদি চিকিৎসা প্রচলিত রয়েছে।

এ তিন ধরনের চিকিৎসা চর্চা, গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান এসবের তদারকও করে। এর বাইরে যারাই চিকিৎসার দায়িত্ব তুলে নিন না কেন, তা অবৈধ, বিপজ্জনক ও অপরাধমূলক কাজ। কিন্তু এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ যথেষ্ট সজাগ রয়েছে বলে মনে হয় না।




Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply