আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরাসার গ্রামে রণক্ষেত্র :আহত ৭০:১০ বাড়িতে আগুন

লিটন চৌধুরী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৪মার্চ ॥

গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত। ঘন্টার পর ঘন্টা গুলি বিনিময়, বোমাবাজি ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শতশত মানুষের সংঘর্ষে আতংকিত জনপদে রূপ নেয়। দু’দিনব্যাপী সংঘর্ষে আহত হয় ৭০ জন এবং প্রায় ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ সহ ভাংচুর, লুটপাট করা হয়। গত রবিবার রাতে এবং সোমবার সকাল থেকে সদর উপজেলার বিরাসার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় বিরাসার গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পোড়াবাড়ি গোষ্ঠির ও গফুর মিয়ার গোষ্ঠির লোকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত। এসময় উভয়দলের লোকদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে কালাম মিয়া (৫০), শামীম (২০), মেহেদী হাসান (১৭), মুসা (২৫) সহ ২০ জন আহত হয়। এসময় বিরাসার গ্রামের ব্যবসায়ী মোবারকের বাড়ি সহ প্রায় ২/৩টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২২ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল সকাল ৯টা থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে উভয়পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় পোড়াবাড়ির পক্ষ নিয়ে মাঠে নামে চেয়ারম্যানের গোষ্ঠি, সৈয়দ আলী মিয়ার গোষ্ঠি এবং গফুর মিয়ার গোষ্ঠির পক্ষ নিয়ে মাঠে নামে মালেক মিয়ার গোষ্ঠি। শতশত মানুষের সংঘর্ষে পুরো গ্রামই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ তখন বাড়ি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষের সন্ত্রাসীরা এসময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং বৃষ্টির মত হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই হারুন জানান, কমপক্ষে অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের দাঙ্গাবাজ সন্ত্রাসীরা হেবজু মিয়া, সালাম মিয়া, ছালি মিয়া, বিল্লাল মিয়া, শিশু মিয়া, মতি মিয়ার বাড়ি সহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুণ ধরিয়ে দেয়। আগুণে বাড়িঘরসহ অনেক মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। কবরস্থানের কোণায় বিল্লাল মিয়ার শেষ সম্বল দু’টি দোকানও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুণের লেলিহান শিখায় পুরো গ্রামে ধুয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র আতংকের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ইয়া রসুল (১৮), আজাদ (২৫), ইসহাক মিয়া (২৫), জুনায়েদ (১৮), পাপিয়া (১২), নুরুল্লাহ (১৮), সায়েম (১২), মনির হোসেন (১০), বায়েজিদ (৩৫), আমেনা (৪০), কাউছার (৪৮), রোকসানা (২৪), সাজেদা (৩৫), নিজাম উদ্দিন (২৪), জিন্নাত (২১), রঙ্গু মিয়া (৩৫), শিখা মণি (১২), তামিম, হেবজু সহ অর্ধশত লোক আহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শেখ মোঃ আনার এবং এসআই হারুন সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে জেলা সদর থেকে পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ, র‌্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার স্কোয়াড্রন লীডার শেখ মোহাম্মদ আলী, সদর থানার এএসপি মোঃ শহীদ আবু সারোয়ার ও অফিসার ইনচার্জ গাজী মোঃ শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন এবং র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ, ধর পাকড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এসময় ১৭ জনকে আটক করে নিয়ে আসে। আটককৃতরা হলেন, নুরুদ্দিন (২০), সেলিম (৪০), আসাদ (২০), শামীম (৩২), ফারুক (৩৫), কবির (৪৫), সেলিম (২২), মানিক (২২), আলামিন (২২), নুরুল হক (১৯), বাচ্চু মিয়া (২৪), সাগর (১৮), আল আমিন (২২), মুসা মিয়া (৩৫), লোকমান হোসেন (৩৫), বালক মনির হোসেন (১২)। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসলেও সংঘর্ষ থামে দুপুর ১২টার দিকে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় অর্ধশত রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-লালপুর সড়ক দিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সংঘর্ষের কারণে বিরাসার গ্রামটিই ছিল আতংকের জনপদ। এ আতংক আশপাশের নাটাই, শেরপুর, খৈয়াসার ও ফুলবাড়িয়া এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানার এএসপি শহীদ আবু সারোয়ার জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দেয়া হবে। এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply