সরাইলে দু’গোষ্টির সংঘর্ষে শিশুসহ অর্ধশতাধিক আহত :বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া) ॥
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে মোবাইল চুরি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার সকাল ও দুপুরে দু’গোষ্টির লোকজনদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে শিশুসহ অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ আহত হয়েছে। এ সময় দাঙ্গাবাজরা ১০/১২টি বাড়ি ঘর ব্যাপক ভাংচুর করে। লুটপাট চালায় ক’টি বাড়িতে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রবিবার একটি মোবাইল চুরির ঘটনায় দেওড়া গ্রামের কালা মিয়া ও ধন মিয়ার গোষ্টির লোকজনের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষ বাঁধে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য (৮নং ওয়ার্ড) আব্দুল মন্নান জানান, শনিবার রাতে ওই চুরির ঘটনায় ধন মিয়ার গোষ্টির লোকজন কালা মিয়ার গোষ্টির আনোয়ার মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে। এ ঘটনায় রাতেই এলাকার গন্যমান্য লোকজন সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তির আশ্বাস দেন। রবিবার সকালে কালা মিয়ার গোষ্টির আনার, হেলাল, রেনু, জিল্লু ও বশির মিয়ার নেতৃত্বে লোকজন বল্লম, রামদা, লোহার রড, টেটা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষ ধন মিয়ার গোষ্টির মো. মিন্টু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৩টি টিনসেড ঘর ও মালামাল ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। তারা বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা করে। হামলায় বাড়ির শিশুসহ নারীরা আহত হয়। টেটাবিদ্ধ হয় ৭ বছরের এক শিশু। এসময় ধন মিয়ার গোষ্টির লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া করে দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দু’পক্ষকে শান্ত করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে শিশুসহ ২০ নারী পুরুষ আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর দুপুরে কালা মিয়ার গোষ্টির লোকজন ফের ধন মিয়ার গোষ্টির লোকদের ওপর হামলা চালায়। এসময় কালা মিয়ার লোকজন গ্রামের দানিছ মিয়ার বাড়ি ভাংচুর করে এবং আবদুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনসেড ঘর ভাংচুর সহ জিনিসপত্র লুটপাট করে। মূহুর্তের মধ্যে ধন মিয়ার গোষ্টির লোকজনও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং কালা মিয়ার গোষ্টির লোকজনদের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে দু’দলের প্রায় ৩০ জন আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানায়, দু’দফা সংঘর্ষে উভয় গোষ্টির হযরত আলী (১৩), ওমর আলী (২২), লিলুফা আক্তার (৭), অপু (৬), সামাদ আলী (২৬), রহিমা বেগম (৪০), মুক্তা (২৫), ফুলজাহান (৩০), অহিদ মিয়া (৩০), ছায়েদা (৪), নুর রহমান (৬০), জরিপ হোসেন (৫৫) সহ প্রায় অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয় প্রায় ১০/১২টি বাড়ি ঘর। এসময় দাঙ্গাবাজরা ব্যাপক লুটপাট চালায়। আহতরা সরাইল উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এস আই) কামরুজ্জামান দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply