দাররা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকাশের নীচে চলে পড়শোনা

স্টাফ রিপোর্টার, মুরাদনগর :

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের একশত একুশ বছরের পূরানো দারোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় , পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও শ্রেনী কক্ষের অভাবে আকাশের নীচে চলছে পড়াশুনা। (ছবি------শরীফুল আলম চৌধুরী)
খোলা আকাশের নীচে চলছে পাঠদান। ৫ম শ্রেণীর ১০০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের আঙীনা ঘেষে খোলা আকাশের নীচে বসে নিচ্ছে পাঠ। এটা কোন আকস্মিক ঘটনা নয়, অন্যত্র হতে আসা নতুন শিক্ষার্থীরাও প্রথম দিন থেকেই এরকম অবস্থার সঙ্গে পরিচিত। লেখাপড়ার দিক থেকে উপজেলার মধ্যে বিদ্যালয়টি একটা ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি থাকলেও অবকাঠামোগত ভাবে এটি বরাবরই বঞ্চিত। তাই ভাল ফলাফলের সুবাদে প্রতি বছরই বারছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনী শ্রেণী কক্ষ, আসবাবপত্র, শিক্ষা উপকরণ সহ অবকাঠামোগত সুুযোগ সুবিধা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ কালে জানা গেছে ১৮৯০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ শ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২শ ৪২ ও ছাত্রী ৩শ ৫৮ জন। এ বছর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে ১ শ ৩২ জন শিক্ষার্থী। সরেজমিনে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের ২ টি ভবনের মধ্যে একটি টিনের ঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।বাকি ভবনটিতে অফিস সহ শ্রেণীকক্ষ। তাই এতে কোন ভাবে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী তাছলিমা আক্তার জানায়, এটা ভাল স্কুল। তাই তার বাবা-মা তাকে এখানে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু শ্রেণীকক্ষ নেই বলে তাদের মাটিতে বসে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ৪ র্থ শ্রেণীর ছাত্রী শাম্মী আক্তার বলেন, এই স্কুলের স্যাররা ভালো তাই আমরা মাটিতে বসে ক্লাস করলেও আমাদের মন খারাপ লাগেনা। অভিবাবক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এতবড় একটা প্রাচীনতম স্কুল অথচ কেউ সাহায্য করে না। কোথাও থেকে সাহায্য পেলেই বিদ্যালয়টির প্রয়োজনীয় শ্রেণীকক্ষ তৈরি করা যায়। প্রধান শিক্ষক ফরিদউদ্দিন বলেন, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রাচীনতম বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের প্রচন্ড চাপ থাকলেও যথাযথ ভাবে শ্রেনীকক্ষ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৬০০ শ। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ক্লাশ দু’ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। শিক্ষকরা আরো জানায়, শেণীকক্ষ সংকটের কারণে শ্রেনী ভাগ (সেকশন) করাও সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেনী ভাগ করলে আরো কক্ষ প্রয়োজন। যে কারনে অনেক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পাঠদান করতে হয়। বিদ্যালয়ের সব ক’টি শ্রেনী কক্ষ মিলিয়ে বর্তমানে ৯৫ জোড়া বেঞ্চ রয়েছে। এতে প্রতিটি বেঞ্চে শিক্ষার্থীদের জড়সড় হয়ে বসতে হয়। বিদ্যালয় ভবনে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষসহ ৩টি কক্ষ রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপাতে কক্ষ অপর্যাপ্ত। শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি পরিবেশে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৬শ’ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ২টি সৌচাগার, আছে পানির সংকটও। টিউবওয়েল থাকলেও তা’আর্সেনিক যুক্ত।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অহিদুর রহমান জানান, শ্রেণী সংকটের কারণে প্রতিনিয়তই ২ থেকে ৩ টি ক্লাশ স্কুলের মাঠের মধ্যে নিতে হয়। এটি শিক্ষকদের জন্য একটি কঠিন কাজ, এ জন্য শিক্ষকরা ক্লাশ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, কক্ষ, সৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব। এক বেঞ্চে ৬/৭ জন ছাত্র-ছাত্রী গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হতে পারে না। সমস্যার বিষয়টি নিয়মিত মৌখিক ও লিখিত ভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির আর এক সদস্য মোঃ জহিরুল হক অভিযোগ করে জানান, শ্রেনী কক্ষের অভাবে এ বছর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করতে শিক্ষকরা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে এ এলাকার কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে না পারায় তাদের লেখাপড়া মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার জন্য শীঘ্রই কক্ষ সংকট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশিদ বলেন, অগ্রাধীকারের ভিত্তিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছি। দারোরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বরাদ্দ পাবে।




Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply