কচুয়ায় আলু সংরক্ষণ প্রশিক্ষণ ও সমাবেশ

কিশোর কুমার, ১০ মার্চ : চাঁদপুরে ১৬ হাজার হেক্টরেরও অধিক জমিতে আলু চাষাবাদ হয়

আলু উত্তোলন করছে কৃষক কৃষানীরা ও মাঠে পড়ে থাকা আলু স্তুপ
চাঁদপুরের কচুয়ায় আলু চাষীদের তৃণমূল পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ প্রশিক্ষণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রাগদৈল ঘোগড়ার জলায় উক্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আরসিডিএস ও গ্রামীন জীবন যাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) কর্তৃক আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালায় আলু চাষী সমিতির সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত গরম, অনুকূল আবহাওয়া, কৃষক পর্যায়ে আলু সংরক্ষণের জায়গার অভাব, পুঁজি সংকট, মধ্যসত্ব ভোগীদের দৌরাত্যের কারণে প্রতি বছর চাঁদপুরের কচূয়ার আলু চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রান্তীক আলু চাষীরা চরম উৎকন্ঠা ও আশংকার মধ্যে জীবন যাপন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন সহ সামগ্রিক কৃষি সংস্কার, যুগোপযোগী জ্ঞান,প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত কৃষি উপকরন না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের চাষীরা সবসময়ই ক্ষতিগ্রস্থ হন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর চাঁদপুর জেলার ১৬ হাজার ও কুমিলা জেলায় ১৮ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। কিন্তুু দেশের উত্তরাঞ্চলের পরে বিলম্বে আলু চাষ করা হয় বিধায় মৌসুমের শেষে আলু তুলতে হয়।

কৃষক, কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে,যেখানে ৭/৮ টাকা বর্গাচাষীদের খরচ, সেখানে বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর খুচরা মূল্য মাত্র ৩ টাকা । কৃষকরা আরো জানান, কোল্ড ষ্টোরেজ মালিক ও ব্যবসায়ীদের কারনে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়্।

কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করনে গ্রামীন জীবন যাত্রার স্থায়ীত্বশীল উন্নয়েনের জন্য প্রচার অভিযান ও স্থানীয় সংগঠন আরসিডিএস এর কৃষিবিদ বলেন, সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্বান্ত না নেয়ার কারনেই প্রতি বছর কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচেছ। মাঠ পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এলাকার ৭টি গ্রামের ৪৫জন প্রান্তিক চাষী ৩ ব্যাচে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করেন। এ পদ্ধতিতে ৪/৫ মাস স্থানীয় পর্যায়ে আলু সংরক্ষন করা যায়। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কৃষিবিদ গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ ।

সমাবেশে কৃষক আবুল কাশেম বলেন- একদিকে হিমাগারে জায়গা হচ্ছেনা অপরদিকে এজেন্ট বা দালাল ছাড়া কোল্ড ষ্টোরেজে কৃষকদের আলু রাখার সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা। স্থানীয় বুজুরি খোলা গ্রামের বর্গাচাষী জহিরুল ইসলাম বলেন- বাজারে আলুর মূল্য নেই, হিমাগারের টোকেন পাচ্ছিনা বিধায় জমি থেকে আলু তোলার সাহস পাচ্ছিনা। কৃষক আলী আকবর বলেন, তৈল, চাল, ডাল, চিনিসহ শেয়ার বাজারের মূল্য কমে গেলে সর্বমহলে হৈচৈ পড়ে যায় অথচ কৃষকের আলুর দাম নেই এ ব্যাপারে কাহারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক কেরামত আলী বলেন, কচুয়ায় আলু চাষের জন্য প্রসিদ্ধ অথচ এখানে ১টি মাত্র হিমাগার তিনি সাচার এলাকায় ১টি হিমাগার স্থাপনের জোর দাবী জানান। সভায় কৃষক-কৃষাণী, প্রান্তীক চাষী, বর্গা চাষী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সহ সকল পেশা ও শ্রেণীর লোকজন অংশগ্রহন করেন।




Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply