মৌকরাতে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল সম্পর্কে মানুষের মুল্যায়ন

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ

গত ২রা মার্চ ২০১১ রোজ বুধবার সকল জল্পনা-কল্পার অবসান ঘটিয়ে একলা পথে চল নীতিতে বিশ্বাসী শ্বৈরাচারী পীর নেছার উদ্দিন নিয়ন্ত্রেনে মৌকরার পীর মাও: ওলি উল্যার পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। অন্যান্য বছর গুলোতে দেখা যেত যে এই তারিখে ছারছীনার পীর সাহেব মৌকরাতে আসতেন। কিন্তু ২০১১ সালের মার্চে কেন মৌকরাতে ছারছীনার পীর সাহেব আসলেন না এই প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। অনেকের মন্ত্যেবে জানা গেছে, ভন্ড পীর নেছারের কু কর্মের কারন বলেই অনেকে বলাবলি করে। ২রা মার্চ মাহফিলে এসে মানুষ দেখল ভিন্ন রকম এক প্রোগ্রাম যা এর আগে মৌকরাতে কোন সময় দেখা যায় নাই। মৌকরা সব মাহফিলের সময় দেখা যেত ছারছীনার নিয়মে মাগরিবের নামায়ের পর তালিম দেওয়ার পর ওয়াজ অথবা আলোচনা হত। কিন্তু এবার মাগরিবের পর দীর্ঘ এক ঘন্টা আলোচনার পর তালিম দেওয়া হল। মৌকরাতে এটা নতুন নিয়ম চালু হল।

সভার ধরন দেখে বুঝা গেল এটা সম্ভবত কোন প্রতিবাদ সভা। কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সরাসরি বলার সাহস পেলনা। বিভিন্ন ইঙ্গিতে বক্তব্য দেওয়া হল। বক্ত্যবে বুঝা গেলো এই দেশের মানুষের আর কোন কাজ নেই শুধু কাজ একটাই মৌকরাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা। যত দোষ নন্দ ঘোষ নিজের কোন দোষ নেই। রাতের ২টা পর্যন্ত একই রকম প্রতিবাদ করে মুনাজাত দিয়ে এশার নামাজ পড়ল। তাদের ঝগড়া বিক্ষুদ্ধ ও আক্রশ মূলক বক্তিতায় অনাকাঙ্খিত ভাবে এশার নামায বিলম্বিত হওয়ায় অনেক মুসল্লী চরম ক্ষুদ্ধ হন এবং এতে কেউ কেউ পৃথক ভাবে জামাতে ৮-১০টার মধ্যে এশার নামায আদায় করেন। আবার অনেকেই নামায না পড়েই সভা থেকে চলে যান। যাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করল তাদের কাউকে যদি ঐ সময় পেত তাহলে মনের আক্রশ বাদ-প্রতিবাদ করে ফজরের নামাজের পরও এশার নামাজ পড়া সম্ভব হত না।

বার বার সব বক্তাই শ্রোতাদের বুঝাতে চেয়েছেন পাবলিসিটি ,পোষ্টারিং ছাড়াই অটোমেটিক এত লোক উপস্থিত। তাহলে কি পাবলিসিটি ও মাইকিং করলে বার্ষিক মাহফিলের চাইতে ও লোক বেশী হত। অনুসন্ধানে জানা যায় লোক সমাগম করার জন্য ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। হাজারো মোবাইল ফোন দিয়ে ছাত্র-শিক্ষক ও কিছু কিছু মুরিদান দিয়ে এলাকা ভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে লোক আনার জন্য। যা ছিল পোস্টার বিজ্ঞাপন মাইকের চাইতে বেশি প্রচারিত। যে ভাবে রাজনৈতিক জনসভায় লোক হাজির করা হয় ঠিক সেই ভাবে। তবে একটি লক্ষনীয় বিষয় হলো ছারছীনার পীর সাহেব আসলে যে ধরনের ভক্ত মুরিদান দেখা যেত সে ধরনের ভক্ত মুরিদান দেখা যায় নাই।

মুলত পীর নেছার প্রমান করতে চেয়েছেন ছারছীনার পীর সাহেব না আসলেও মৌকরাতে বড় ধরনের মাহফিল হয়। সেটি দেখাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। ছারছীনা পীর সাহেবের আগমনে অতীতে মৌকরাতে যা দেখা গিয়েছিল তার দশ ভাগের এক ভাগও দেখা যায়নি। এতে সর্ব শ্রেণীর মানুষ হতাশ হন এবং দরবার ও পীর বাহিনীর প্রতি ক্ষুদ্ধ মনোভাব ব্যক্ত করেন। বিনা খবরে যদি ( পীর নেছারের ভাষায় অত্যন্ত বেশী লোক) ২রা মার্চ মৌকরা উপস্থিত হল অনুষ্ঠান করার জন্য। তাহলে বিনা খবরে ১লা মার্চ কেন লোক গুলো এলেন না। মুলত মৌকরার পীর মরহুমের ইন্তেকাল বার্ষিকী ১লা মার্চ বলে অনেকেই প্রতিবেদককে জানান। পীর নেছার খুবই চালাক ‘শিয়ালী বুদ্ধির নায়ক’ লোক স্থান কাল পাত্র বেধে কথা বলেন।

বার বার উপস্থিত শ্রোতাদেরকে আরো বুঝাতে চেয়েছেন ছারছীনার হুজুর অতি সহসাই মৌকরাতে বার্ষিক মাহফিলের তারিখ দিবেন। মানুষ এখন তাকিয়ে আছে তার এই আশ্বাসের দিকে। ছারছীনার হুজুরের কথার ভিত্তিতে আশ্বাস না নিজের থেকেই এ আশ্বাস সময়ই এর জবাব বলে দিবে।

বলাবাহুল্য যে, মৌকরার পীর নেছার ও তার অপকর্মের কতিপয় সাথী এতদিন অপপ্রচার করেছিল যে, ছারছীনার পীর সাহেব হুজুর চরম অসুস্থ্য, মুমূর্ষ অথবা তিনি সিঙ্গাপুর চিকিৎসার্থে যাচ্ছেন ইত্যাদি বলে ছিল। অথচ পত্র-পত্রিকায় দেখা গেছে এবং ছারছীনার পীর সাহেব কেবলা সাথীদের সূত্রে জানা গেছে পীর সাহেব দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন স্থানে মাহফিল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে অপপ্রচার কারীদের সকল তথ্যমিথ্যা এবং তারা মিথ্যা বাদী হিসাবে প্রমাণিত হয়েছেন। সবকথার মূলকথা হচ্ছে ছারছীনার পীর সাহেব কেবলা সুষ্ঠু বিবেক বিবেচনায় কাজ করেন। তিনি কখনো ভন্ড প্রতারকদের গর্তে পতিত হননি বলে হাজার হাজার মানুষের মন্ত্যেবে জানা গেছে।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply