চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে কবরের জায়গা সংকট: এক কবরের মূল্য ৫০ হাজার

এ কে এম শাহেদ, চাঁদপুর থেকে :

কখন কোথায় কার মৃত্যু হবে, তা যদিও কারো জানা নেই। তারপরও চাঁদপুর-এ মৃত্যুর আগেই বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য কবরের জায়গা কিনে তা তৈরী করে রেখেছে। এর ফলে কবরের জায়গার দাম ৫ হাজার থেকে ৫০/৬০ হাজার টাকায় পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতে করে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দেখা দিয়েছে জায়গা সংকট। অনেকেই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য একসাথে একাধিক কবরের জায়গা কিনে দখলও করে নিয়েছে। শুধু কিনে দখল নিয়েছে তা নয়, যার যার কবর নিজ খরচে টাইলস দিয়ে বাঁধিয়ে,দেয়াল টেনে বাউন্ডারি করে নিয়েছে। যাতে করে মৃত্যুর পর কবরের জায়গার সংকটে পড়তে না হয়।

চাঁদপুর শহরের পুরানত বাসস্ট্র্যান্ড সংলগ্ন পৌর কবরস্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আঃ করিম পাটওয়ারীর আমলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামের পাশেই প্রায় ৪ একর জমি পৌর কবরস্থান করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। তখন থেকেই কবর কেনা বেচা শুরু করে চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষ।

কবরস্থানের দায়িত্বে নিয়োজিত মাওলানা আবু তাহের জানান, বর্তমানে এ কবরস্থানে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার কবর রয়েছে। যদিও এর সঠিক হিসাব নেই। প্রায়ই প্রতিদিনই ১টি/২টি লাশ এ কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে এর মধ্যে ৫০/৬০টি কবর বিভিন্ন ব্যক্তি বা পরিবারের নামে বিক্রি হলেও সেগুলো এখনো খালি রয়েছে। এ কবরস্থানের কেয়ারটেকার মোঃ মজিবুর রহমান জানান, এগুলো শহরের কিছু ব্যক্তি পৌরসভার কাছ থেকে ৭/৮ বছর পূর্বেই প্রতি কবর ৫/১০ হাজার টাকায় কিনে নেয়।

এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে এ কবরস্থানে প্রতিটি কবরের জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এ কবরস্থানে অল্প কিছু কবরের জায়গা বাকি থাকলেও সেগুলো বিক্রি হওয়ার পথে। চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কবর বিক্রি করে বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় করছে। যা দিয়ে পৌর কবরস্থানের রক্ষনা-বেক্ষন, উন্নয়ন, দুইজন কেয়ার টেকার ও একজন মাওলানার বেতন ভাতা ছাড়াও পৌরসভার অন্যান্য কাজে এই টাকা ব্যয় করে আসছে বলে জানান, পৌর সচিব আবুল কালাম ভূঁইয়া।

কবরস্থানের কেয়ারটেকার রুহুল আমিন জানান, এ কবরস্থানে প্রতি বছর প্রচুর বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়। যা চাঁদপুরের বিভিন্নস্থানে বাস, ট্রেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত এবং অজ্ঞাত লাশ হিসেবে আনা হয়। তবে এসব অজ্ঞাত লাশ আঞ্জুমানে মফিজুল ইসলাম বা পৌরসভার খরচে দাফন করা হয়। প্রতি বছর এ রকম অসংখ্য বেওয়ারিশ লাশ এ কবরস্থানে দাফন করার ফলে দিন দিন পৌরকর্তৃপক্ষ কবরের জায়গা সংকটে পড়ছে।

এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পৌর কবরস্থানে কবরের জায়গা সংকুলান না হওযায় শহরতলীর বাবুরহাট এলাকায় একটি নতুন কবরস্থান করার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কবরস্থানে কার্যক্রম এখনও শুরু করা না হলেও এর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।




Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply