মনোহরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজীপুরা বালিকা দাখিল মাদরাসাটি নানা সমস্যায় জর্জরিত

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :

হাজীপুরা বালিকা দাখিল মাদরাসার এ টিনশেড শ্রেণীকক্ষে ছাত্রীরা গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ করে।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুরা বালিকা দাখিল মাদরাসাটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ছাত্রীদের কমনরুম, শৌচাগার, নামাজের স্থান নেই। শ্রেণীকক্ষের স্বল্পতায় গাদাগাদী করে বসে ছাত্রীরা পাঠগ্রহণ করে। ২ যুগেরও অধিক সময় পূর্বে বৃহত্তর লাকসাম-মনোহরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম বালিকা দাখিল মাদরাসাটি দীর্ঘ সরকারিভাবে অদ্যাবধি কোনো ভবন বরাদ্দ পায়নি। মাদরাসার নিজস্ব ভবন নির্মাণে কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসীর বহু আবেদন-নিবেদনও কোনো কাজে আসেনি।

১৯৮৪ সালে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী এটিএম আবদুল¬াহ’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং তাঁর নিজস্ব দানকৃত জমিতে সর্বপ্রথম হাজীপুরা বালিকা দাখিল মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগীতা এবং আর্থিক সহায়তায় ছাত্রীদেরকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে দ্বীনি শিক্ষা দিয়ে আসছে। বর্তমানে অর্ধসহস্রাধিক ছাত্রী উক্ত মাদরাসায় অধ্যয়নরত। মাদরাসার কাঁচা ঘরটিতে ছাত্রীদের পাঠদানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাছাড়া, কালিয়াপুর, ইছাপুরা, কেশতলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগের সু-ব্যবস্থা থাকায় মাদরাসাটিতে ছাত্রী সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিগত কয়েকটি বন্যায় মাদরাসার মাঠ ও কাঁচা ঘরে পানি প্রবেশ করায় খেলার মাঠ এবং ঘরের ভিটিটির সমূহ ক্ষতিসাধিত হয়। বর্তমানে শ্রেণীকক্ষ, বেঞ্চ স্বল্পতায় বেশিরভাগ ছাত্রীকে দাঁড়িয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। আর্থিক দৈন্যতায় পর্যাপ্ত কিতাব না থাকায় গরীব ও মেধাবী ছাত্রীদের মাদরাসার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে কিতাব/পুস্তক দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

প্রায় ১ একর জমির উপর স্থাপিত মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা এটিএম আবদুল¬াহ এলাকাবাসীর সহায়তায় দীর্ঘদিন যাবত মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের নতুন করে দানকৃত প্রায় ৪০ শতক জমি ও ৩ লক্ষাধিক টাকা খরচায় দাতা সদস্য হারুন-অর-রশিদের মাধ্যমে মাটি ভরাট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের মূল উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগীতায় মাদরাসার নতুন করে ভরাটকৃত জায়গায় বিল্ডিং নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১২ই মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম উক্ত নির্মান কাজের শুভ সূচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

উল্লে¬খ্য, মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা এটিএম আবদুল¬াহ হলেও দল-মত নির্বিশেষে এলাকাবাসীর একতা, সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগীতা ও আন্তরিকতা সর্ব মহলে প্রশংসনীয়। শুধুমাত্র সরকারি ফ্যাসেলিটিজ বিভাগের সাহায্যে মাদারাসার অবকাঠামো কিছু পরিবর্তন পেলেই মাদরাসাটি এ এলাকার নারী শিক্ষা বিস্তারে একটি মডেলে হতে পারে।

পার্শ্ববর্তী কেশতলা হাই স্কুল, ইছাপুরা সেন্ট্রল হাই স্কুল, কালিয়াপুর মাদরাসা, আমতলী হাই স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এ মাদরাসার পাশের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। পাঠদানে মাদরাসাটি উত্তরোত্তর সাফল্য লাভ করলেও ১৫ জন শিক্ষকের স্থলে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। ২০০৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় মাদরাসাটি শতভাগ সাফল্য লাভ করে। এছাড়া, ২০০৭ সালে ১৭ জনে ১১ জন, ২০০৮ সালে ১৭ জনে ১৭ জন, ২০০৯ সালে ১৭ জনে ১৭ জন এবং ২০১০ সালে ২১ জনে ২০ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়। বিগত বছরগুলোতে ৫ম, ৮ম ও দাখিল পরীক্ষাসমূহে এ+সহ শতভাগ পাশের চমৎকার রেজাল্ট থাকায় এলাকার নারী শিক্ষার উন্নয়নে এলাকাবাসী, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, ছাত্রী-অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ এখানে একটি পাকা ভবন ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, শ্রেণীকক্ষ সম্প্রসারণ, ছাত্রীদের কমনরুম, নামাজের ঘর, শৌচাগার, খেলার মাঠ নির্মাণসহ মাদরাসার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াছ পাটোয়ারীসহ সংশি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন।




Check Also

লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি’র সাবেক এমপি আলমগীরের জাতীয় পার্টিতে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা-১০ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) বিএনপি’র সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন। সোমবার জাতীয় ...

Leave a Reply