নবীনগর-বাঞ্ছারামপুরে সংঘর্ষের মিমাংসা ॥ দুই পক্ষের জরিমানা সাড়ে ৪৩ লাখ টাকা

লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৮ মার্চ :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাড্ডা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দুই দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার বাঞ্ছারামপুরের দরিকান্দি বাড্ডা আছমাতুন্নেছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে সালিশ চলে রাত ১০ পর্যন্ত। সালিশে উভয় পক্ষের ৭ কিশোরকে বেত্রাঘাত, ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপুরন ও জরিমানা করা হয়। সালিশ বৈঠকে দরিকান্দি গ্রামের ড. আব্দুল হক সভাপতিত্ব করেন। এসময় নবীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক সরকার, ওরিয়ন গ্র“পের চেয়ারম্যান এবাদুল করিম বুলবুল, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার মো. গোলাম ইছহাক, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি রেহান উদ্দিন দুলাল, খাগাতুয়ার মিয়া মোহাম্মদ আজম দুই উপজেলার ১৫ ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উভয়পক্ষের ২০জন জুড়িতে ছিলেন। জুড়ি সদস্যদের দেওয়া রায় সভাপতি ড. আব্দুল হক পড়ে শোনান। রায়ে বলা হয় বাড্ডা গ্রামের মানুষ ঝগড়ার সৃষ্টি করায় তাদেরকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, দোকানপাট ক্ষতিপুরন বাবদ ৫ লাখ টাকা, মাঝিয়ারার আব্দুল মান্নানকে চিকিৎসা এবং দোকান ভাংচুর বাবদ ২ লাখ দেবে এবং দরিকান্দি দোকানপাট ক্ষতিপুরন বাবদ ২০ লাখ, বাড্ডার আহত ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. ফেরদৌসকে ২ লাখ টাকা দিবে। বাজারের পাশবর্তী হাসন্নগর, মাঝিয়ারা, পেয়ারাকান্দি, জল্লি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা উভয় পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপুরণ পাবেন। খাগাতুয়ার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শাহান শাহকে ৫০ হাজার টাকা দেবেন দরিকান্দির লোকজন।

জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুরের দরিকান্দি বাড্ডা আস্মাতুন্নেছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষে ২৬ ফেব্র“য়ারী শনিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলে চেয়ারে বসা নিয়ে নবীনগর উপজেলার বাড্ডা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। শনিবারের সংঘর্ষের জের ধরে পরের দিন রোববার বাড্ডা ও দরিকান্দি গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জীবনগঞ্জ বাজারে পুনরায় ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় বাজারের ৪০টি দোকানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এক পর্যায়ে বাজারের দুটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ সদস্যরা দুই দিনে পনের রাউন্ড টিয়ার সেল ও শর্টগানের ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। দুই দিনের সংঘর্ষে ১০ পুলিশ কর্মকর্তাসহ উভয় গ্রামের দুইশতাধিক ব্যাক্তি আহত হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২৭ ফেব্র“য়ারী রাতে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপক কুমার সাহা এবং বাঞ্ছারামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ হাজার জনকে আসামী করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাঞ্ছারামপুর থানায় ৪২ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আড়াই হাজার ও নবীনগর থানায় ৪৩ জনের নামে এবং অজ্ঞাত দেড় হাজার জনকে আসামী করা হয়।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, সালিশে যাই হোক মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply