সরাইলে অভিনব কায়দায় প্রতারণা : ফাঁদে পড়ে অর্ধশতাধিক নারী এখন পতিতা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
সরাইলে আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙ্গিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কাউছার আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান দাবি করেন। এছাড়া কাউছার আহমেদ বাংলাদেশ কনজুমার রাইটস সোসাইটি’র (বিসিআরএস) ভাইস চেয়ারম্যান এবং দৈনিক সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে এলাকায় ভিজিডিং কার্ড বিলিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মূহুর্তে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকের কার্ড প্রদান করছেন তিনি। এলাকার অসহায় দরিদ্র পরিবারের বিভিন্ন বয়সের নারীদেরকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে প্রথমে ফাঁদে ফেলেন প্রতারক কাউছার। পরে প্রশিক্ষণের পর বেতনের লোভনীয় প্রস্তাব দেন মেয়েদেরকে। অধিক টাকার লোভে কাউছারের পাতানো ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হন তারা। মামলা-মোকদ্দমা মিমাংসা এবং সাংবাদিকের পরিচয়পত্র প্রদানে কাউছারকে সবাই এক নামে চিনেন। কাউছার সবকিছুই সমাধান করতে পারেন, তবে তাকে দিতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা। কাজ না হলেও হুমকি-ধামকিতে সেরা কাউছার, টাকা ফেরত দেয়ার বিধান নেই তার কাছে। যে কাউকে রাতারাতি কোটিপতি বানাতে কাউছারের বিকল্প নেই। তার পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সরাইল ও আশপাশ এলাকার সহস্রাধিক লোক সর্বস্ব খুইয়ে এখন রাস্তায় ঘুরছে। প্রায় অর্ধশতাধিক বিভিন্ন বয়সের নারীকে কাউছার কৌশলে প্রথমে নিজের ভোগের সামগ্রী ও পরে পতিতাবৃত্তিতে নামাতে বাধ্য করেছেন। এসব কাজে তাকে সহায়তা করে থাকেন এলাকার একশ্রেণীর চিহ্নিত কুরুচিপূর্ণ, টাউট, বাটপার ও লম্পট শ্রেণীর প্রভাবশালী লোক। কাউছার ও তার সহযোগীরা এলাকার সহজ সরল ও গরীব অসহায় পরিবারের শতাধিক অশিক্ষিত কর্মহীন নারী-পুরুষকে সংস্থায় ভালো বেতনে চাকুরি দেয়ার কথা বলে আদায় করেছে জনপ্রতি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা করে। বিনিময়ে তাদের প্রদান করেছে আসক ফাউন্ডেশন, বিসিআরএস ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার লেমিনেটিং করা পরিচয়পত্র কার্ড। এদের মধ্যে বেশকিছু যুবতি নারীকে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সাক্ষাত ও প্রশিক্ষণের কথা বলে ঢাকার আবাসিক হোটেলে রেখে কৌশলে বানিয়েছে ভোগের সামগ্রী। অনেককে বাধ্য করেছে পতিতাবৃত্তিতে। সর্বস্বহারা বেশক’জন অসহায় নারীর জীবন কাটছে এখন অন্ধকার জগতে। কাউছারের ফাঁদে পড়ে তারা পতিতাবৃত্তিতে নেমেছে। আর ফায়দা লুটছে কাউছার ও তার সহকর্মীরা। তারা তাদের পদবীর দাপট দেখিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছে। আর অভিনব কায়দায় ঠকিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা নিস্পত্তি, জমি দখল, আসামি জামিন, মামলা ফাইনাল রিপোর্ট, চার্জশিট, ভালো বেতনে চাকুরি এবং সাংবাদিকতায় নিয়োগ ও কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে খুইয়েছেন সর্বস্ব।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী লোকজন জানান, বছর দু’য়েক আগে কাউছার আহমেদ সরাইলে আসেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার মনতলা গ্রামে। তিনি নিজেকে বিশাল ক্ষমতাধর লোক বলে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় দেন। বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন এলাকার চি‎িহ্নত টাউট, বাটপার ও কুরুচিপূর্ণ একশ্রেণীর লোকদের সঙ্গে। সংস্থায় ভালো বেতনে চাকুরি দিবে ও সাংবাদিক বানানোর কথা বলে সমাজের অশিক্ষিত কর্মহীন প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষকে সংঘটিত করে গড়ে তোলেন এক বাহিনী। কাউছার আহমেদের এ কাজে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের মৃত আমির হোসেনের পুত্র আলী রহমান (৪০) ও আমির হামঞ্জা (৩০) এবং কালীকচ্ছ গ্রামের তাজুল ইসলামের মেয়ে আনোয়ারা বেগম (৩৩)। হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে এসব নারী-পুরুষের হাতে তুলে দেন আসক ফাউন্ডেশন, বিসিআরএস ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার পরিচয়পত্র কার্ড। কাউছার তার বাহিনী নিয়ে শুরু করেন অভিযান। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে তুলে ধরেন তাদের কর্মকা-। মামলা-মোকদ্দমা ও নানা ঘটনায় হাজির হয় কাউছার বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাদের বস কাউছার ও তার সহকর্মীরা সকল সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে সংস্থার নাম ভাঙ্গিয়ে ভুক্তভোগী লোকজনদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি করে। উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ গ্রামের নোয়াজ আলীর পুত্র মো. ইউনুছ মিয়া (৪২) গ্রামের প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তিনি আসক ফাউন্ডেশনে যোগ দেন। কাউছার আহমেদ নগদ সাত হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে পরিচয়পত্র দেন। পরে আরো সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করে দৈনিক সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার পরিচয়পত্র কার্ড প্রদান করেন। ইউনুছ মিয়ার শ্বশুরবাড়ির এলাকার নাসিরনগর থানার একটি হত্যা মামলার আসামিদের জামিন ও মামলাটি ফাইনাল রিপোর্ট করিয়ে দেয়ার কথা বলে কাউছার ও তার সহযোগি আলী রহমান, আনোয়ারা বেগম ও আসকের জেলা ডিরেক্টর(পরিচালক) মো. আব্দুল খালেক নগদ সত্তর হাজার টাকা আদায় করেন। মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চায় ইউনুছ মিয়া। কাউছার টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা করছে। ইউনুছ মিয়া বলেন, কাউছার ও তার সহযোগি লোকজন আসক ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙ্গিয়ে ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানান সমস্যা সমাধান করার কথা বলে বেশকিছু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমার শ্বশুরবাড়ির একটি হত্যা মামলায় আসামিদের বাঁচানোর কথা বলে নগদ সত্তর হাজার টাকা নিয়েছে তারা। আনোয়ারা বেগমের বাড়ি তিতু ভিলায় বসে কাউছার, আলী রহমান ও খালেক টাকা নিয়েছে। ইউনুছ মিয়া আরো জানায়, দশ হাজার টাকার বিনিময়ে কাউছার আমাকে সংস্থার ও সাংবাদিকের কার্ড বানিয়ে দেন। বলেছিল ভালো বেতন পাওয়া যাবে। সরাইল আদর্শ বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল খালেক হত্যা মামলার আসামিদের জামিনের ব্যাপারে সত্তর হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, টাকাগুলো নিয়েছেন কাউছার আহমেদ। কাউছার আমাকে আসক ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার জেলা সংবাদদাতার পরিচয়পত্র কার্ড এনে দেন। তাদের অনৈতিক ও আইনবিরোধী কর্মকা- দেখে ও শুনে আমি নিজে থেকে কৌশলে সড়ে এসেছি। তারা সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঠকিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন বয়সের বেশকিছু নারীদের বিপথগামী করেছে। কিছুদিন আগে কাউছার আমাকে প্রস্তাব দেন নগদ ত্রিশ হাজার টাকা দিলে বিটিভি’র সাংবাদিক বানিয়ে দেবেন। আমি পাত্তা দেইনি। উপজেলার নিজসরাইল গ্রামের শিলুফা আক্তার (১৮) বলেন, কাউছার আমাকে এবং বেশকিছু মেয়েকে সংস্থার ও সন্ধ্যাবাণীর সাংবাদিকের আইডি কার্ড এনে দেন। আমরা গরীব পরিবারের মেয়ে বেশি লেখাপড়া জানি না। তিনি বলেছেন ভালো বেতনের পাশাপাশি সমাজে মানসম্মান-ইজ্জত পাওয়া যাবে। বিনিময়ে চেয়েছিলেন দশ হাজার টাকা। আমরা প্রত্যেকে দিয়েছি সাত থেকে নয় হাজার টাকা। শিলুফা জানান, আমার পরিচিত বেশকিছু মেয়েকে কাউছার ও আলী রহমান ঢাকায় প্রশিক্ষণের কথা বলে আবাসিক হোটেলে রেখে ভোগ করেছে। অনেকে তাদের কু-প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফাঁদে পড়ে যেসব মেয়ে রাজি হয়েছে, তাদের দিয়ে কাউছার ও তার সহযোগিরা এখন খারাপ কাজ করিয়ে টাকা উপার্জন করছে। শিলুফার মা মিনা বেগম (৪২) বলেন, কাউছার ও তার লোকজন এলাকার বেশকিছু অসহায় নারীর জীবন নষ্ট করেছে। অনেকের সংসার ভেঙ্গে গেছে। সরাইল থানায় ওসি সুভাষ চন্দ্র সাহা থাকাকালে আমরা এসব কার্ড ও তাদের অপকর্মের কথা মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। তারা পাত্তা দেইনি। ক’দিন পর দেখা যায় ওসি সুভাষ বাবুর সাথে কাউছার ও তার সহকর্মীদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কতিপয় প্রভাবশালী লোকজন ও ইজ্জতের ভয়ে নির্যাতিত নারীরা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বর্তমানে কাউছার ও তার লোকদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। তাই সবাই মুখ খুলতে শুরু করেছে। কালীকচ্ছ মনিরবাগ গ্রামের রহমত আলী (৫৫) বলেন, গরীব পরিবারের মেয়েদের নিয়ে লোভ-লাভ দেখিয়ে তাদের ভবিষ্যত নষ্ট করে ফেলেছে। লুট করেছে নগদ টাকা ও তাদের মূল্যবান সম্পদ। আমরা প্রতারক কাউছার ও তার সহযোগিদের বিচার চাই। উপজেলার মা শপিং কমপ্লেক্সের মালিক বিশিষ্ট সমাজসেবক আলালউদ্দিন জুরু বলেন, কাউছার ও তার সহযোগিরা এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষের জীবন নষ্ট করেছে। কিছু অসহায় নারীকে ঢাকায় নিয়ে কৌশলে ফাঁদে ফেলে আবাসিক হোটেলে রেখে ভোগ করেছে। অনেককে বানিয়েছে পতিতা। বেশকিছু নির্যাতিত নারী আমার কাছে এসে এসব অভিযোগ করেছেন। তারা হারিয়েছে অমূল্য সম্পদ। হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজর টাকা। মান-সম্মানের ভয়ে তারা কোনো দফতরে অভিযোগ করছে না। তাদের অভিযোগ শুনে কাউছারের সঙ্গে তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করেছি। কিন্তু তাকে পাইনি। কাউছার বর্তমানে গা-ঢাকা দিয়েছে। আলী রহমান বলেন, আমি আসক ফাউন্ডেশনের সদস্য ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণীর লোক। আমি সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে কাজ করি। আমার কাছে আইডি কার্ড আছে। লেখাপড়া জানি না, তবে কাজ করতে অসুবিধা হয় না। এসব কাজে লেখাপড়ার দরকার হয় না। আমার বস (স্যার) কাউছার আহমেদ। লোকজন আমাদের কাছে মামলা নিয়ে আসেন। এক হাজার টাকায় সংস্থার ফরম পূরণ করতে হয়। তারপর চুক্তি অনুযায়ী তার সকল সমস্যার সমাধান করি। চুক্তি হয় মামলা বা ঘটনার ধরণ অনুযায়ী। দশ থেকে সত্তর-আশি হাজার টাকায় চুক্তি করি। সংস্থাকে কিছু দেয়, বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে বন্টন করি। আমাদের সাথে যোগ দিতে হলে একজনকে তিনটি কার্ড নিতে হয়। আসকের, ভেজাল বিরোধী অভিযান বিসিআরএস’র ও সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার। কার্ড নিতে হলে জনপ্রতি দিতে হবে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা। তবে গরীব অসহায় মেয়েরা কিছু কম দিলেও চলে। তিনি গর্বের সাথে বলেন, সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই মো. শাহিন, চুন্টার তাজু মাষ্টার সহ এলাকার বেশক’জন সাহেব-সর্দ্দার আমাদের সংস্থায় যোগ দিয়ে কার্ড নিয়েছেন। ক’দিন আগে সরাইল থানার সদ্যবিদায়ী ওসি সুভাষ চন্দ্র সাহা (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) আমাদের সংস্থার উচ্চ পদে যোগদান করেছেন। আলী রহমান আরো বলেন, বিভিন্ন ঘটনার ভুক্তভোগী ও সংস্থার নারী কর্মীরা ঢাকায় অফিসে যেতে হয়। স্যারকে না পাওয়া গেলে অনেক সময় তাদের আবাসিক হোটেলে রাখতে হয়। হোটেলে তাদের ইজ্জতের সাথে রাখা হয়। কোনো অসুবিধা নেই। এলাকার নাজমা আক্তার (১৮), রতœা বেগম(২০), নাজমা বেগম (২৫) সহ বেশকিছু ভুক্তভোগী নারী তাদের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতারক কাউছার, আলী রহমান, আমির হামঞ্জা ও আনোয়ারা বেগম মিলে গরীবের মেয়েদের জীবন নষ্ট করে ফেলেছে। ভালো বেতনে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। আবাসিক হোটেলে রেখে কৌশলে ফাঁদে ফেলে বেশকিছু নারীকে ভোগ করেছে। অনেক অসহায় নারীকে বাধ্য করেছে পতিতাবৃত্তিতে। আনোয়ারা বেগমের বাড়ি তিতু ভিলা এখন মিনি পতিতালয়। ওই বাড়িতে মুঠো ফোনে মেয়েদের ডেকে পাঠিয়ে দেহব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আনোয়ারা বেগম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট উল্লেখ করে বলেন, আমি আসক ফাউন্ডেশনের নারী কর্মীদের সমন্বয়কারী ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণী পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার। তাই আমার বাড়িতে বিভিন্ন এলাকার নারীদের আসা-যাওয়া বেশি। লোকজন অনুমান করে এসব বলছেন। তবে আনোয়ারা বেগমের প্রতিবেশী লোকজন বলেছেন ভিন্ন কথা। এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। নিরহ শান্তিপ্রিয় লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাটির একাধিক নারী-পুরুষ জানান, দিনে ও রাতে বিভিন্ন বয়সের নারী এনে আনোয়ারা বেগম দেহব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অপকর্মের জন্য বছরখানেক আগে তার স্বামী শাহজাহান মিয়া আনোয়ারাকে ডিফোর্স (তালাক) দিয়ে চলে গেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাউছার আহমেদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। আমি সরকারি অনুমোদিত দু’টি প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান ও একটি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। আমি সরাইলে সংস্থার আইন মেনে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছি। কার্ডধারী কিছু নারী কর্মীর চলাফেরা স্বভাব-চরিত্র ভাল দেখছি না বলে তাদের কার্ড ফেরত এনেছি এবং সংগঠন থেকে বের করে দিয়েছি। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব বলছেন।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply