কচুয়ার মামুন হত্যাকান্ডের আসামী হাফছাকে নিয়ে আরেক দফা জনগুনজন

কিশোর কুমার, ০৬ মার্চ :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বহুল আলোচিত মামুন হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী হাফছা (৩৮) কে নিয়ে এলাকার জনগণের মধ্যে আরেক দফা জনগুনজন চলছে। এবারো গুনজনে উঠে এসেছে হাফছার চারিত্রিক বিষয়।

২৫ ফেব্র“য়ারী সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে হাফছাকে তার গৃহে মেয়ের জামাইর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় এমনি দাবী তোলে তার জ্যা আয়শা ছিদ্দিকা। সে বিষয়টি বাড়ীর লোকজনদেরকে জানায়। এতে বাড়ীর লোকজনরা হাফছা ও তার মেয়ে শারমিনের জামাই হাবিব (৩০)’র উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

কচুয়া উপজেলার তুলপাই গ্রামের বেপারী বাড়ীর লোকজনের অভিযোগ- এ বাড়ীর প্রবাসী আঃ জব্বারের স্ত্রী হাফছা একই বাড়ীর মামুন নামের যুবকের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে তাদের মান-সম্মানকে ধুলিসাৎ করেছে তাহাই নয়, এ পরকীয়া প্রেমের জের ধরে মামুন নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়। তাই তারা হাফছার জঘন্যতম অপরাধের জন্য তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে অট-অনড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে হাফছার স্বামী আঃ জব্বারকে জরুরী ভিত্তিতে বাড়ী আসতে বলে। এ অবস্থায় আঃ জব্বার বাড়ী আসার জন্য ৬ মাসের সময় দিতে বাড়ীর লোকজনদেরকে অনুরোধ করে। এ অনুরোধের প্রেক্ষিতে জব্বারের উপস্থিতিতে হাফছার বিচার করার জন্য বাড়ীর লোকজনরা একমত পোষন করে। তবে জব্বার বাড়ী না আসা পর্যন্ত হাফছা স্বামীর বাড়ীতে থাকতে পারবেনা সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ৪ মার্চ শুক্রবার হাফছাকে তার উজানী গ্রামের পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়।

এদিকে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে হাফছা দাবী করছে- আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন মানসে সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার জায়া আয়শা ছিদ্দিকা বাড়ীর লোকজনের নিকট মিথ্যা রটনা করেছে। আমার পারিবারিক বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আমার জ্যা’র সাথে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হয়। ঝগড়া বিবাদ চলাকালে সে আমাকে এই বলে হুমকী-ধমকী দিতো যে- ‘তোকে এ বাড়ীর ভাত খেতে দিব না, প্রতিজ্ঞা করে বলছি তোকে বাড়ী ছাড়া করবই’। তার ওই প্রতিজ্ঞার অংশ হিসেবে সে আমার নামে যতসব অপবাদ রটিয়েছে।

হাফছার মেয়ের জামাই হাবিব দাবী করছে- আমার শ্বশুরের কোন পুত্র সন্তান নেই, আমাকে শুধু জামাতা নয়, পুত্র হিসেবে গ্রহণ করে সংসার পরিচালনার জন্য সকল দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করে। আমি শ্বশুরের পরিবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলাটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। আমার জেঠী শ্বাশুরীসহ কতিপয় লোক আমাকে শ্বশুর বাড়ীতে আসা-যাওয়া বন্ধ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। শেষ পর্যন্ত যা সম্পূর্ণ অকল্পনীয় অবাস্তব ও অবিশ্বাসযোগ্য- এমনি মিথ্যা রটনা করে শ্বশুর বাড়ীর লোকজনদেরকে আমার উপর ক্ষেপিয়ে তুলেছে। এ ব্যাপারে আমি শিগগিরই আইনের আশ্রয় নিতে যাচ্ছি।

হাফছার মেয়ে অর্থাৎ হাবীবের স্ত্রী শারমিন আক্তার দাবী করছে- আমার স্বামীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটনা করা হয়েছে। ওই সময়ে আমি, আমার ফুফু ও দাদাসহ সকলেই গৃহে ছিলাম। শারমিন প্রশ্ন ছুড়ে- এ অবাস্তব ও অকল্পনীয় কথা আপনাদের (সাংবাদিকদের) কি বিশ্বাস করার মত?

এদিকে একইভাবে হাফছার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে অপবাদ রটানো হয়েছে বলে দাবী করছে হাফছার সত্তরোর্ধ্ব বয়সী শ্বশুর আঃ রহিম। নন্সা আফতাবীন নেছা (৫২), মেয়ে সালমা (১৮), নাসরিন (১৬) ও জান্নাত (১২)। তারা সকলেই বর্ণিত সময়ে গৃহে ছিল বলেও দাবী করে। এসব ঘটনায় লোকজনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply