সরাইলে দু’গ্রাম পুরুষ শূন্য, গ্রেফতার-১০ : এলাকায় পুলিশ প্রহরা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)॥

সরাইলে পর পর দুই দিনের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতিরোধে পুলিশ বিবদমান দুই গ্রামে চালিয়েছে গ্রেফতারি অভিযান। গত শুক্রবার গভীররাতে দুই গ্রাম থেকে দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওদিকে পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে দুই গ্রামসহ আশপাশের ২/১টি গ্রামও পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। সংঘর্ষের ব্যাপকতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় উভয় গ্রামেই পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত বুধবার সকালে ইরি জমিতে পানি দেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার নিজসরাইল গ্রামের আবদুল হক(৫৫) ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম পাঠান পাড়ার আবুল হোসেনের(২০) মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে উভয় গ্রামের লোকজন দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে। আহত হয় প্রায় ২০ ব্যাক্তি। বিষয়টির নিস্পত্তির জন্য গত শুক্রবার বিকেলে নিজসরাইল গ্রামে আ’লীগ নেতা সৈয়দ আলী আবদাল মিয়ার বাড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের সভাপতিত্বে এক সালিশ বৈঠক বসে। সালিশের শেষ পর্যায়ে উশৃংখল কিছু যুবক কটূত্তি করে বসে। মূহুর্তের মধ্যে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেড় ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। থানাপুলিশের পাশাপাশি জেলা থেকে এক প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ৬ রাউ- টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবারের সংঘর্ষে আশপাশের আরো দু’একটি গ্রামের লোকজন যোগ দেয়ায় সংঘর্ষের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও ভয়াভহ সংঘর্ষের প্রস্তুতির খবরে পুলিশ গভীররাতে গ্রেফতার অভিযান চালায়। অভিযানকালে নিজসরাইল গ্রামের মো. জামাল আবেদীন(৩৬), অলি রহমান(৫০), মো. মাহফুজুর রহমান(৬০), মো. রাজিব মিয়া(২৭), শাহিন মিয়া(১৮), মিজান মিয়া(২৬) এবং পাঠান পাড়া গ্রামের মো. আক্কেল মিয়া(৪০), মো. ইদ্রিছ আলী(৪৫), আবদুল মোহিত(৪০) ও মো. মধু মিয়া(৪৪) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, বিবদমান দু’গ্রামের প্রধান রাস্তায় চলছে সুনসান নিরবতা। এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পুরুষ শূন্য বাড়িগুলোতে মহিলারা রয়েছেন চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায়। গ্রামের বিভিন্ন স্পটে সতর্কবস্তায় রয়েছে পুলিশ। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দাঙ্গার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষের দশ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অভিযান চলবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, উভয় গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে ডেকেছিলাম। এক পক্ষ এসেছিল। অপরপক্ষ অনুপস্থিত থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখায়নি। তবে আইন তার নিজের গতিতেই চলবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply