কুমিল্লা পৌরসভার ১৫৬ টি পদের মধ্যে ১০৯ টি শূন্য

পৌরকর বকেয়ার পরিমাণ ২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা।। কর দিচ্ছে না অধিকাংশ বিজ্ঞাপন বিল বোর্ড
ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু,কুমিল্লা :
দেশের প্রাচীনতম ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে কুমিল্লা পৌরসভা পরিচিত। ৩২.১০ বর্গকি.মি. আয়তন বিশিষ্ট কুমিল্লা পৌর এলাকার জনসংখ্যা ৫ লক্ষ,যেখানে প্রতি বর্গ কি.মি. এ ১৫ হাজার ৫শ ৭৬ জন লোক বাস করে। বিশাল জনসংখ্যা বেষ্টিত কুমিল্লা পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে লোকবল সংকটের কারণে। সেই সাথে পৌর কর বকেয়া রয়েছে অনেক এবং পৌর এলাকায় স্থাপিত হচ্ছে অনেক বিলবোর্ড যার বেশিরভাগই পৌর কর দিচ্ছে না।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভায় শূন্য রয়েছে ১০৯ টি কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ। ফলে কুমিল্লা পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের ১৫৬টি পদের মধ্যে ১০৯ টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ২টি পদ শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণীর ৩ টি পদ শূন্য। ৩য় শ্রেণীর ৯৮টি পদের মধ্যে ৭২ টি পদ শূন্য রয়েছে, ৪র্থ শ্রেণীর ৪০টি পদের মধ্যে ৩২ টি পদ শূন্য রয়েছে।

এদিকে কুমিল্লা শহর বিজ্ঞাপন বিল বোর্ডের কারণে ঢেকে যাচ্ছে। অসংখ্য বিজ্ঞাপন বিল বোর্ডের কারনে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হলেও পৌরসভার তহবিল পরিপুষ্ট হওয়ার কথা। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ছোট বড় ২০ টি সংস্থা পৌরসভার কর জমা দিয়ে বিল বোর্ড স্থাপন করেছে। কর দেয়নি ৭ টি। মাটিতে স্থাপন করা বিল বোর্ডের প্রতি স্কয়ার ফিটের বাৎসরিক কর পৌরসভার জায়গায় ৭০ টাকা, ব্যক্তিমালিকানায় ৫০ টাকা এবং ভবনের উপরে স্থাপন করা বিল বোর্ডের প্রতি স্কয়ার ফিটের জন্য কর দিতে হয় ৫০ টাকা। সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় কয়েক শত বিজ্ঞাপনের সংস্থার বিলবোর্ড থাকলেও পৌরসভায় কর দিচ্ছে ২০টি প্রতিষ্ঠান। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, যে সব বাড়ীর মালিক বিজ্ঞাপনী সংস্থার সাথে চুক্তি করেন তারাও পৌর করের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে পৌরসভাকে সহযোগিতা করতে পারেন। এ ছাড়া ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এদিকে কুমিল্লা পৌরসভার কর আদায়ের হার ৮০ ভাগে উন্নীত করতে না পারলে উন্নয়ন প্রকল্প ইউজিপি-২ এর ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যাহত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকার পরও পৌরসভার কর আদায়ের হার এখনো ৮০ ভাগে উন্নীত হয়নি। পৌরসভার বর্তমানে কর বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। পৌরসভা সূত্র জানায়, উন্নয়ন প্রকল্প ইউজিপি-২ এর কার্যক্রম চলছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা এবং ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে অর্থাৎ ২০১০ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৯৩ লক্ষ টাকা কর আদায় করা হয়েছে।
কুমিল্লা পৌরসভার সেক্রেটারি সাইদ মোঃ আবুজার গিফরি এ ব্যাপারে জানান, বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর শূন্য পদগুলোতে লোকবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র চেয়ে কয়েকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো জবাব পাইনি। আর অনুমতি বিহীন বিলবোর্ড গুলোর বিরুদ্ধে পৌরসভা ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে কর না দেয়ায় ৩ টি বিলবোর্ড খোলা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প ইউজিপি-২ এর কার্যক্রম চলছে।

Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply