চৌদ্দগ্রামে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের হিড়িক

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী.কুমিল্লা :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কৃষি জমিতে একের পর এক ইটভাটা স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিবছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে ইটভাটার পাশের ফসলি জমিতে দিন দিন উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। অপরদিকে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইটভাটার চিমনী থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই ফসল ও গাছ-পালার ব্যাপক ক্ষতি করছে।
জানা গেছে, সরকারি হিসেব অনুযায়ী উপজেলায় ২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে কৃষি জমিতে নতুন করে আরও ৫টি ইটভাটা তৈরি হচ্ছে। ভাটাগুলো কৃষি, জনবসতিপূর্ণ এবং ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ভাটার পাশাপাশি পুরনো ভাটায় একমাত্র কাঁচামালের জন্য কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এতে জমি উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, বনাঞ্চল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার ৩ কিলোমিটারের বাইরে এবং অকৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম থাকলেও চৌদ্দগ্রামে তা মানা হচ্ছে না।
বরং প্রতিযোগিতা দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে প্রতিবছর গড়ে উঠছে ইটভাটা। ৪ মাস আগে সর্বশেষ জারিকৃত পরিবেশ অধিদফতরের পরিপত্র অনুযায়ী ১২০ ফুট চিমনীর ইটভাটা তৈরির ওপর নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু হাওয়াই ঝিকঝাক ইটভাটা (পরিবেশ বান্ধব) তৈরির জন্য সনদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ন উপেক্ষা করে সনদ ছাড়াই নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরে উপজেলার বাতিসার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা নানকরায় ২টি, পদুয়ায় ১টি ও হাড়িসর্দার এলাকায় ২টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। সবকটি ইটভাটাই নির্মিত হয়েছে কৃষি জমির ওপর।
নানকরা এলাকায় গড়ে ওঠা এক ইটভাটার মালিক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র হাতে নিয়েই ইটভাটার কাজ শুরু করেছি। একই কথা বলেন বেলাল ব্রিকসের মালিক বেলাল হোসেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাশেম বলেন, যেভাবে কৃষি জমিতে ইটভাটা তৈরি এবং কৃষি জমির মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে, সে ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবাদি জমি একেবারেই কমে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া নতুন ইটভাটা মালিকদের নোটিশ করা সত্ত্বেও তারা কোন জবাব দেয়নি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইননুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply