সরাইলে ফার্ম থেকে ৫ শতাধিক কাঠগাছ কর্তন :বেকার হয়ে পড়েছে শতাধিক লোক

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া) ॥

সরাইলে আল ফাতাহ্ বহুমুখী নামের একটি ফার্ম থেকে রাতের আঁধারে এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকের সহায়তায় তিন দফায় ৫ শতাধিক কাঠের গাছ কর্তন করেছে দূর্বৃত্তরা। কয়েকটি পুকুর থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের মাছও চুরি করে নিয়ে গেছে তারা। বেকার হয়ে পড়েছে ওই ফার্মের কর্মরত প্রায় শতাধিক লোক। সর্বস্ব খুইয়ে দিশেহারা ওই ফার্মের মালিকরা। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ফার্মের পরিচালক কাজী সাকিন খাদেম। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারনে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

এলাকাবাসী ও মামলাসূত্রে জানা যায়, গত ২০০৩ সালে উপজেলার ধর্মতীর্থ গ্রামের মো. কাইয়ুম উদ্দিন তার নিজ সম্পত্তির ৫শত ৮৭ শতক জায়গা আল ফাতাহ্ বহুমুখী ফার্ম এর নিকট ১০ বছরের জন্য লিখিত চুক্তিতে ইজারা দেন। ওই চুক্তি নামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন কাইয়ুম উদ্দিনের দুই পুত্র জামাল ও বেলাল উদ্দিন। ইজারা গ্রহণের পর ওই ভূমিতে ফার্মের লোকজন ৯টি পুকুর খনন করেন। পুকুরের চারিদিকে রোপন করেন বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সহস্্রাধিক কাঠের গাছ। ৮ বছর পূর্বে রোপনকৃত কাঠের গাছগুলো বর্তমানে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। পুকুরের মাছ চাষেও এসেছে দারুন সফলতা। লোভ সামলাতে পারছেন না কাইয়ুম উদ্দিনের দুই ছেলে। গত ৬ মাস পূর্বে জমির মালিক কাইয়ুম উদ্দিন মারা যান। সুযোগে বেঁকে বসেন তার দুই ছেলে মো. জামাল উদ্দিন ও বেলাল উদ্দিন। পিতার মৃত্যুর পর ইজারার চুক্তি ভঙ্গ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। ফার্মের লোকজনের সাথে দুই ভাই কৌশলে বিরোধ সৃষ্টি করেন। তারা ফার্মের পুকুরের মাছ ও গাছ-গাছালি-জোরপূর্বক লুটপাট করতে থাকেন। বিষয়টিকে নিস্পত্তির জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা এক সালিশ সভায় বসেন। সালিশ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করেন তারা। গত ১১ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে ফার্মের কয়েকটি পুকুরে জাল দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধন ও বেশকিছু কাঠের গাছ কেটে ফেলে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন তারা। ফার্মের প্রহরী আনোয়ার হোসেন ও হেলাল উদ্দিন বাধা দিলে জামাল ও বেলালের সঙ্গীয় লোকজন দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ফেলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ফার্মের পরিচালক কাজী সাকিন খাদেম বাদী হয়ে ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সরাইল থানাকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। মামলা দায়েরের পর জামাল ও বেলাল উদ্দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তারা এলাকার কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজনের সহায়তায় ফের ফার্মের প্রায় চার শতাধিক কাঠ গাছ কেটে ফেলে। গত সোমবার সরাইল থানার এস আই সমীর চন্দ্র সরকার ঘটনাটি তদন্ত করেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম খান ওই ফার্মের গাছ কর্তনের কথা স্বীকার করে বলেন, কাটা গাছগুলো ফার্ম কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply