সরাইলে ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করলেন আ’লীগ কর্মী ইউপি সদস্যা রোকসানা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তদন্তচলাকালে এলাকার প্রায় তিন শতাধিক লোকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন আ’লীগ কর্মী ইউপি সদস্যা রোকসানা বেগম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তার দায়ের করা অভিযোগ লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ৯নং শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে। উপস্থিত লোকজন বলছেন, আ’লীগ কর্মী রোকসানা বেগমের অপকর্মের ফিরিস্তি প্রকাশ হয়ে যাবে এমনটি আঁচ করতে পেরেই তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শাহজাদাপুর ইউনিয়নের ভিজিডি তালিকা উপজেলায় আসার পর তদারকি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান তদন্ত করে স্বচ্ছল হওয়ায় তালিকা থেকে দু’টি নাম বাদ দেন। ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্র দু’টি মহিলার নাম তালিকাভূক্ত করেন তিনি। তালিকাটি উপজেলা ভিজিডি বাছাই কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ৮নং ওয়ার্ডের স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য সালমা বেগমের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় রহস্যজনক কারনে উপজেলা কমিটির ওপর ক্ষেপে যান রোকসানা। মৌখিকভাবে আ’লীগ কর্মী রোকসানা লাঞ্ছিত করেন তদারকি কর্মকর্তাকে। পরে রোকসানা স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী আ’লীগের পাতি নেতার যোগসাজশ ও প্ররোচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের নিস্পত্তির তোয়াক্কা না করেই সস্পূর্ন বে- আইনিভাবে ভিজিডির খাদ্য শস্য উত্তোলনে বাঁধা দেন। স্থানীয় কিছু যুবকের সহায়তায় খাদ্য শস্য উত্তোলন করেন দুস্থ কার্ডধারীরা। নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান রোকসানা। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সরজমিনে তদন্তের জন্য হাজির হন সংশ্লিষ্ট ইউপি কার্যালয়ে। সেখানে পূর্ব থেকেই উপস্থিত ছিল স্থানীয় প্রায় তিন শতাধিক মহিলা-পুরুষ। এলাকাবাসী জানায়, রোকসানা বেগম কখনো টাকা ছাড়া কোন ভাতা দেননি। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ভাতা না দেয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। লোকজন রোকসানার দীর্ঘদিনের অপকর্ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রকাশের জন্য এখানে এসেছে। শুনানির এক পর্যায়ে হঠাৎ করে অভিযোগ কারীনি মহিলা ইউপি সদস্যা রোকসানা বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ করায় আমি সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার দায়ের করা অভিযোগ লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিলাম। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রোকসানা বেগম অন্যের প্ররোচনায় ভুল বুঝে এ অভিযোগ করেছিল লিখিতভাবে তার সে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন। রহিমা বেগমের নাম তালিকায় থাকার ব্যাপারে তার কোন আপত্তি নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, সত্য এবং ন্যায়ের জয় হয়েছে। তালিকায় যার নাম থাকার কথা, তার নামই শেষ পর্যন্ত ঠিকে রইল।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply