নাঙ্গলকোটের মৌকারা দরবারের ক্ষমতা দখলের চালচিত্র

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:

মৌকারার মরহুম পীর সাহেব কেবলা আলহাজ্ব মাওলানা ওলি উল্যাহ (রহ) বহু সাধনা করে মৌকরা দরবার প্রতিষ্ঠিত করেন। মরহুম পীর সাহেব খুব সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করে দ্বীনের খেদমত করে গেছেন এবং বহু নিবেদিত প্রাণ মুরিদান রেখে গেছেন। তিনি দুনিয়া মোহে কোন কিছুই করেন নি বলে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মুরিদান গণ এ প্রতিবেদক কে জানান। কিন্তু মৌকারার মরহুম পীর সাহেবের বার্ধক্য নেমে আসলে মৌকারা দরবারে কে পীর হবে এ নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। সকলের ধারনা ছিল মরহুম পীরের বড় সাহেব জাদা জিনি এলেম আমলের ও যোগ্যতার মাফকাঠিতে গদী নশীন পীর হয়ে এলেম আমলের মাধ্যমে দরবার ও মুরিদানদের মাঝে শরিয়ত-মারফতে দীক্ষা দিবেন, এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মরহুম পীর সাহেব কাকে ক্ষমতা দিবেন তাতে অপেক্ষা না করে বর্তমান পীর ও তার কয়েক জন অতি উৎসাহী সহযোগীর কুটো কৌশলে লবিং এর মাধ্যমে পীরের মেজো পুত্র নেছার ্উদ্দিন কে পীর পদে আসীন করার সকল কার্যক্রম গ্রহণ করে।

এ ব্যাপারে মরহুম পীরের কতিপয় মুরিদান যারা পীর নেছারের পীরাতি পদে আসীন করার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের সূত্রে আরো জানা গেছে মাওলানা ওলি উল্যাহ সাহেবের মৃত্যুর পূর্বেই পীর সেজে বসেন নেছার উদ্দিন। পীর সেজে বিভিন্ন এলাকায় পীরাতি কার্যক্রম শুরু করেন। এ অবস্থায় ৩/৪ বছর কেটে যায়। ঐ সময় মরহুম ওলি উল্যাহ পীর সাহেব ছিলেন চরম অসুস্থ্য। পীর সাহেব মারা যাওয়ার পর পরই বিভিন্ন ভাবে প্রভাব খাটিয়ে এবং সরসিনার পীর সাহেব কে বুঝিয়ে বর্তমান পীর নেছার উদ্দিন পীরাতি পদ লাভে সমর্থ হন। সরসীনা পীর সাহেবের ঘোষনা ক্রমেই মাও: নেছার উদ্দিন বর্তমান পীর।

মৌকারা দরবার কে কুক্ষিগত করার মানষে মৌকরা দরবারের সকল প্রতিষ্ঠান গুলোকে পরিচালনা করতে কমপ্লেক্স নামের একটি নাম করন করেন। তার নাম দেওয়া হয় দারুচ্ছুন্নাত ওয়ালীয়া কমপ্লেক্স। যার রেজি: নং ৩২০৫। ঐ কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান হন মৌকারার পীর সাহেব মাও: ওলি উল্যাহ, ভাইস চেয়ারম্যান হন লাকসামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোকছেদ আলী, মহাপরিচালক হন মাও: নেছার উদ্দিন যিনি মূলত সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করতে থাকেন সকলের প্রতি এ পদে আসীন হয়ে।

এরপর মৌকারার পীর সাহেব ওলি উল্যাহর ইন্তেকালের কিছুদিন পর ভাইস চেয়ারম্যান মোকছেদ আলীর ও ইন্তেকাল হয়। এ দুজনের ইন্তেকালের পরে উক্ত দু’পদে আসনি হন মাও: নেছার উদ্দিন কমপ্লেক্স চেয়ারম্যান এবং মজির আহম্মদ হন ভাইস চেয়ারম্যান।

বর্তমানে লাকসাম উপজেলার চেয়ারম্যান মৌকারা ফাযিল মাদ্রাসার সভাপতি এভাবে তাদের ক্ষমতা দখল দারীর কার্যক্রম চলতে থাকে মৌকারা দরবারে। তাদের এ ধরনের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে মৌকরা দরবার ও বাহিরে দীর্ঘ দিন থেকে নানা সমালোচনার জড় উঠেছে। নানা জনে নানা ভাবে কানা গুসা করতেছে।

এ দিকে জানা গেছে, মজির আহমদ লাকসামের একটি সিনেমা হল পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন ভাবে তার দুর্নাম শুনা যায়।

সকলের মন্তব্য এ ধরণের ব্যক্তি কেমন করে একটি দরবরের চেয়ারম্যান হন ? এসব কারনে মৌকরা দরবারের নিবেদিত প্রাণ মুরিদান দরবার ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। তারা পীর নেছারের বেএলমী, বেআমলী, অযোগ্যতা ও স্বৈরতন্ত্র কে দায়িকরেন।

মানুষ হক্কানী পীরদের কাছে মুরিদ হয় আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, পীর কে পুঁজা করার জন্য নয়। পীর যদি বেআমলী হন এবং নফসের দাস হন তাহলে মুরিদ কিভাবে পীরকে অনুস্বরণ করবে ?

দেখা গেছে, পীর মাও: নেছার উদ্দিন কিছু স্বার্থন্বেষী মহলকে আশ্রয় করে দুনিয়ার মোহে নিমজ্জ্বিত হয়ে শরীয়ত পর্যন্ত ভুলে গেছেন। জনগণের মন্তব্যে জানা গেছে, পীর নেছারের মধ্যে তরিকতের “ত” ও নেই। তিনি হালাল-হারামের কোন বাছ-বিচার করেন না। টাকার মোহে তিনি সর্বদা ঘুুরেন। তাকে তার সকল অপকর্মের সার্বিক সহযোগিত দিয়ে যাচ্ছে তার অতি কাছের কতিপয় স্বার্থন্বেষী লোক।

অনেকে মন্তব্য করেছে পীরের পুত্র পীর হওয়া সাধনা ও রিয়াজতের মাধ্যমে পীর হওয়ার মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

জনগণের সমালোচনায় জানা গেছে, পীর মাও: নেছার উদ্দিন এবং তার পুত্র কুমিল্লা জেলার ছাত্র হেযবুল্লার সভাপতি মাসুদের প্রেমঘটিত কাহিনী সারা দুনিয়া ছিঃ ছিঃ রব হয়েছে। এতে ছরছীনা ও ফুরফুরা সিলসিলাকে চরম ভাবে আহত করেছে এবং এতে বিভিন্ন পীরের দরবার মুরিদানদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এতে কতিপয় সাধারন, সরল ও অশিক্ষিত মুরিদানরা ছাড়া, শিক্ষিত সচেতন মুরিদরা পীর নেছার ও তার সঙ্গীদের কে প্রত্যাখ্যান করে ক্রমস ছিটকে পড়ছেন।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply