ছাত্রলীগের হামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ পন্ড

গভীর রাতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসী কর্তৃক মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভাংচুর
এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি:

সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠান ছাত্রলীগের একাংশের হামলায় পন্ড হয়ে যায়। ছাত্রলীগ কর্মীরা অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলে হামলা চালায় এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে। এ সময় আতঙ্কগ্রস্থ নবীন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দিগি¦দিক ছোটাছুটিতে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পূর্বে রোববার গভীর রাতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা নবীন বরণের মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভাংচুর করে এবং ব্যানার ছিড়ে ফেলে। ভাংচুরের ঘটনায় সদর দক্ষিন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবক’টি বিভাগে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে এবারই সম্মিলিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসন। সে লক্ষ্যে গত রোববারই ক্যাম্পাসে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মুখোশধারী একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী অনুষ্ঠানস্থলে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় তারা সিকিউরিটি গার্ডদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্যান্ডেল, মঞ্চ ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। ভাংচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদর দক্ষিন থানায় অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। সদর দক্ষিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকমন্ডলী প্রতিক’ল পরিস্থিতিতেও নবীন বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সবকিছু ঠিকঠাক করে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্র“প মিছিল সহকারে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়। এ সময় তারা চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আতঙ্কগ্রস্থ নবীন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এ সময় দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকলে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা কয়েকজন সাধারণ ছাত্রকে মারধরও করে বলে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃক্সক্ষলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে নবীন বরণ অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। হামলার ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে ছাত্রলীগ স্থানীয় গ্র“পের নেতা আলআমিন অর্নব বলেন, ছাত্রপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় ছাড়া শিক্ষকরা নিজেরাই সব আয়োজন করায় এবং অনুষ্ঠানে বসার জায়গা না পাওয়ায় কিছু জুনিয়র ছাত্ররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে ছাত্রলীগের কোন হাত নেই। হামলার ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার গোপাল চন্দ্র সেনকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর তোফায়েল হোসেন মজুমদারকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গভীর রাতে ভাংচুর ও নবীন বরণে হামলার বিষয়ে সহকারী প্রক্টর রশিদুল ইসলাম শেখ জানান, দুটি ঘটনাই অনাকাক্সিক্ষত। এত ঝামেলার মধ্যে পুরোপুরি না হলেও আমরা আয়োজন সম্পন্ন করেছি। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান দুটি ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

এদিকে নানা ঝক্কি-ঝামেলার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি বিভাগের সম্মিলিত নবীন বরণ গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার গোপাল চন্দ্র সেন । বাংলা বিভাগের সভাপতি ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দিন ভূইয়া । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা আফরোজ ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামসুজ্জামান মিলকী। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক স্থানে স্থাপিত। এখানকার মনোরম, নৈস্বর্গিক এবং নাগরিক কোলাহলমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ পড়াশোনার গতিকে আরো বেগবান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ৭টি বিভাগে মাত্র ৩০০ জন ছাত্র এবং ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ১৪টি বিভাগে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ২২ শত এবং শিক্ষক ৮৪ জন। বয়সে নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টির নানামুখী সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আজকের ছাত্র সমাজকে একদিন দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে। অনেক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তোমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, উন্নত, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামোগত যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার অধিকাংশই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply